সেলিনা বেগম নবটা ঘুরিয়ে শূন্যে নিয়ে ফিরিয়ে আনলেন পাঁচে। তারপর তাকিয়ে থাকলেন ঘূর্ণায়মান সিলিংফ্যানটার দিকে। আঁচল দিয়ে কপাল মুছে বসলেন খাটের ওপর। ফ্যানটা কি কাজ করছে না?
মাজেদা, এই মাজেদা!
মাঝবয়সী গৃহপরিচারিকা দৌড়ে এলো।
জে আম্মা।
এসির রিমোটটা কোথায় গেল দ্যাখ তো।
মাজেদা তড়িঘড়ি করে রিমোট খোঁজে।
এ বাড়িতে সেলিনা বেগমের সব কাজ সবার আগে করতে হবে, এটা অলিখিত নয়, একমাত্র নিয়ম। বড় ছেলে, মেজ ছেলে তার সাথেই থাকে পরিবার নিয়ে। ছোট ছেলে বিদেশে। সেজ ছেলে, বউ দুজনেই ডাক্তার, আলাদা বাড়িতে থাকে। দুই মেয়ে বড় সরকারি চাকুরে। সেলিনা বেগমের ছয় সন্তানেরা সবাই প্রতিষ্ঠিত। এ বছর তিনি রত্নগর্ভা পুরস্কারও পেয়েছেন।
রিমোটটা পেলি? হাঁসফাঁস করতে করতে সেলিনা জিজ্ঞেস করলেন।
এই যে আম্মা, লন।
ছোঁ মেরে রিমোটটা নিয়ে এসির দিকে তাক করেন সেলিনা। তাঁর হাত থরথর করে কাঁপছে। এসি অন হয়ে আলো জ্বলে উঠলে তিনি আবার রিমোট তাক করেন।
ক্লিক ক্লিক ক্লিক
এসির তাপমাত্রা কমিয়ে ১৮-তে নিয়ে এলেন সেলিনা। তারপর ধপ করে এলিয়ে পড়লেন বিছানায়।
'কী হইছে গো আম্মা?'
মাজেদার কেমন অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে তাঁর আচরণ। দুই বৌমা কেনাকাটা করতে গেছে। ছেলেরাও যার যার কাজে। খালাম্মার শরীর খারাপ হলে সবাই তাকে বকবে না তো?
'কিছু না। একটু গরম লাগছে।' রুমাল হাতড়ে বের করে মুখ, ঘাড় মোছেন তিনি। মাজেদা অবাক। তাঁর ফর্সা মুখে, ঘাড়ে স্বেদবিন্দুর লেশমাত্র নেই।
সেলিনার প্রশস্ত কপালে এ বয়সেও তেমন ভাঁজ পড়েনি। আপাতদৃষ্টে মনে হয়, সেলিনা নিজেই ধুয়েমুছে পরিপাটি করে সামনে তুলে ধরেছেন, যেন বিধাতা সুচারুভাবে তাঁর ললাট লিখন সম্পন্ন করতে পারেন।
'মাজেদা, তোর কাছে হাতপাখা আছে মা?'
মাজেদা চমকে ওঠে। স্মৃতি হাতড়ে দেখে তার কর্মজীবনে সেলিনা বেগমের মুখে কখনও মা ডাক শুনেছে কিনা। মনে পড়ে না। মানুষটা কোনো দিন কটু কথা না বললেও বাহুল্যতা বর্জন করেছেন সবসময়।
'জে আম্মা, মেজ ভাবী আইনা থুইসে। কারেন্ট যাইগা খালি, হের লাইগা...' আরো বলতে গিয়ে সে থামে। ছুটে যায় পাখা আনতে।
'কী হয়েছে আম্মা?' বড় বউ, মেজ বউ হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢোকে। তারা বাড়ি ফিরতেই দেখেছে পাখা হাতে মাজেদাকে আসতে।
'কিছু না বউমা। একটু গরম লাগছে। ঠিক হয়ে যাবে।'
মাজেদাও কথা না বাড়িয়ে দ্রুত বাতাস করতে থাকে। যেন তার পাখার বাতাস বাসে ট্রেনে ক্যানভাসারদের বিক্রি করা মলমের চেয়ে মোক্ষম দাওয়াই। দাঁতে দাঁত চেপে সে বাতাস করতে থাকে। সেলিনাও সরে বসে তার দিকে।
দুই বৌমা চোখাচোখি করে। শাশুড়ি আজ খানিকটা অদ্ভুত আচরণ করছেন কি?
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ শেষ। তাবৎ পৃথিবীর মতো ঢাকা শহরেও এখন দিনপঞ্জিকার সাথে আবহাওয়ার আড়ি। গ্রীষ্ফ্মের তাপদাহ আজকাল ইট পাথরের খাঁজগুলোতে খুঁটি গেড়ে বসে থাকে অনেকটা সময়। কিন্তু তাই বলে ফ্যান, এসি ছাড়বার মতো গরম কি? তারা তো বরং পাতলা শাল নিয়ে বের হয়েছিল।
'আম্মা, পানি খাবেন?' বড় বৌমা জিজ্ঞেস করে।
'হ্যাঁ, ফ্রিজের পানি।'
'ফ্রিজের.'
'নেই? বরফ দিয়ে দাও তাহলে।' মাজেদা কে আরো জোরে বাতাস করতে বলেন তিনি।
'আম্মা, বুকে ব্যথা করছে?' মেজ বউ শায়লা বলে।
সেলিনা মাথা নাড়েন শুধু।
বড় বউ পানি আনলে তিনি ছোঁ মেরে নিয়ে ঢক ঢক করে প্রায় পুরোটা খেলেন। তারপর খানিকটা পানি হাতে নিয়ে ঘাড়ে মাথায় বুলিয়ে নিলেন।
'আপনার ছেলেদের খবর দিই।'
'না না, ওদের ডাকতে হবে না। একটু গরম লাগছে শুধু। তুমি চিন্তা কোরো না লাবণী।'
লাবণী চমকে তাকায়। শাশুড়ি তো কখনও নাম ধরে ডাকেন না!
সেলিনা বেগমের সংসারে লাবণীর আগমন এক যুগেরও আগে। সুখে অসুখে শাশুড়িকে সে কাছ থেকে দেখছে এতদিন ধরে। প্রকৃতির নিয়মে মানব শরীরে অসুখ বাসা বাঁধতেই পারে; সেলিনার ক্ষেত্রে সেটাও যেন একটা সংবিধান মেনে হয়। শীতকালে সামান্য হাঁপানি আর মাঝে মাঝে হাঁটুর ব্যথা; এর বাইরে জ্বর জ্বালা হতেও দেখেনি। না রক্তচাপের আধিক্য আছে, না শর্করার। আজ কী হলো! লাবণী ঘাবড়ে যায়।

'ভাবী, ফারজানাকে ফোন করেছি। ও আসছে। রাকিব একটা অপারেশন শেষ করে আসছে।'
'ভালো করেছো শায়লা। ওরা ডাক্তার, ভালো বুঝবে। আমি তোমার ভাই কে জানাই।'
লাবণী সরে যায়।
'মাগো! গরমে জানটা বেরিয়ে যাচ্ছে।' সেলিনা হঠাৎ উঠে বাথরুমে গেলেন।
'আম্মা, বমি হচ্ছে?'- দুই বউমা উৎকণ্ঠিত।
তাদের শাশুড়ি খানিকক্ষণ বাদে বেরিয়ে এলেন, পরনের ব্লাউজটা পানিতে ভিজিয়ে। হতবাক শায়লা, লাবণী তাকিয়ে দেখে।
সেলিনা চুপ করে বসেন এবার।
'আম্মা, এখন কেমন লাগছে?' সেজ বউ ফারজানা ঘরে ঢোকে।
'বলেছি তো, গরম লাগছে।' যেন বহুদূর থেকে সেলিনার বিরক্ত নয়, ক্লান্ত কণ্ঠস্বর ভেসে আসে।
'সারা গায়ে জ্বালা করছে ফারজানা,' ছটফট করেন তিনি। 'আমার গায়ে যেন আগুন ধরেছে।'
ফারজানা দেরি না করে শাশুড়ির চেকআপ শুরু করে। শরীরের লোহিত স্রোতের বেগ দেখে; ছান্দসিক হূৎপিণ্ডের লাবডুব শোনে। তাপমাত্রা দেখতে কপালে হাত দিতেই সেলিনা এক ঝটকায় হাত সরিয়ে দেন।
'গায়ে হাত দিয়ো না। আরো গরম লাগে।'
'আম্মা কী খেয়েছিল মাজেদা?' সেজ বউ জানতে চায়।
'রোজ যা খায়। দুইডা আডার রুটি আর আলু ভাজি'
'অনেক তেল দিয়েছিলে?'
'আল্লাহর কিরা ভাবি, বেশি দেই নাই। ভাবিরাও তো খাইসে, জিগান উনাগো' মাজেদা হাউমাউ করে।
'আহ, ওকে কিছু বোলোনা ফারজানা।'
তিন বউয়ের সামনে আবারো ছটফট করতে থাকে তাদের শাশুড়ি।
সত্তরোর্ধ সেলিনার হঠাৎ নিজের নানির কথা মনে পড়ে। রান্নাবান্না, ঘরকন্নার পাঠ-নানি কত কিছু শিখিয়েছেন তাকে। রান্নার সময় খাবারের নুন চাখতে হলে খুন্তি দিয়ে সরাসরি হাতের তালুতে ঢেলে দিতেন। সেলিনা কুঁকড়ে উঠলে মৃদু ধমক দিয়ে বলতেন, 'মাইয়ামাইনষের এইটুক গরম সহ্য করা লাগে। সংসারের সকল তাপ তেজ মাইয়াগো সহ্য করতে হয়। দরকার পড়লে তেজ দেখাতেও হয়। নরমে গরমে মিশেল না হইলে মাইয়া হইয়া কোনো কাম নাই।'
সেলিনা আজীবন চেষ্টা করেছেন ভারসাম্যটা রাখার। যত্ন করে মিশেল দিয়েছেন নরমে, গরমে। ন্যায় অন্যায়ের আপেক্ষিকতা অনেক জটিল। তবু আপাতদৃষ্টে মনে হয় তিনি উতরে গেছেন। অন্তত চারপাশের মানুষগুলোর তার প্রতি শ্রদ্ধা-ভরসা দেখে তাই মনে হয়। ব্যক্তিগত সাধ-আহদ্মাদ বিসর্জন দিয়েছেন আগেই। পড়ালেখায় ভালো হলেও শেষ করতে পারেননি।
'আম্মা, তোমার খারাপ লাগেনি কখনও? এই যে পড়ালেখা করতে পারোনি, রাগ হয়নি? কিংবা অনুতাপ? মনে হয়নি, ইশ, যদি জিদ করতাম, আমাকে পড়তে দেবার জন্য?' বড় মেয়ে একদিন প্রশ্ন করেছিল।
সেলিনা হেসে খুন হয়েছিলেন। ুঅনুতাপ? অনুতাপ হবে কেন? পড়ালেখায় ভালো ছিলাম ঠিকই কিন্তু আমাদের সময়ে মেয়েদের সংসার সামলানোই স্বাভাবিক ছিল। কেউ জোর করেনি; চারপাশের মানুষগুলোকে নিয়ে আমি সারাজীবন ভালো থেকেছি। শুধু পড়ালেখা না, আমার জীবনে এমন কোনো কিছু নেই, যা না করার জন্য বা করার জন্য আমার অনুতাপ হয়,চ্তিনি হেসে বলেছিলেন।
সত্যি, অনুতাপ বিষয়টা তাঁর না। সারাজীবনের সঞ্চয় বলতে সেলিনার আছে সংসার, সন্তান জড়িয়ে লতিয়ে ওঠা পরিতৃপ্তি। তার সাথে খানিকটা অহংবোধের মিশেল কি নেই? অবশ্যই আছে। 'দেখো কেমন গুছিয়ে সংসার করে; অন্যদের জন্য কতকিছু করে,'-এসব শুনতে তিনি কিন্তু আপত্তি জানাননি। অনুতাপের পাকেচক্রে পরে, এই পরিতৃপ্তি আর অহংবোধের বিসর্জন দেওয়া? প্রশ্নাতীত।
'দেখেছ আম্মাকে?'- সেজ ছেলে রাকিব ঘরে ঢোকে।
ফারজানা উঠে নিচু গলায় কথা বলে। সেলিনা ডাক্তার পুত্র ও পুত্রবধূর দিকে একবার তাকিয়ে, আবার মাজেদাকে ইশারা করেন বাতাস করতে।
রাকিব চারিদিকে দেখে। এসি, ফ্যান চলছে পুরোদমে; হাতপাখার বাতাসে নিজেকে মেলে দিয়ে আছেন সেলিনা। তার চোখ যায় বিছানার এক কোণে রাখা পুরোনো ছবির অ্যালবামগুলোর দিকে। তাদের ছয় ভাইবোনের ছেলেবেলার ছবি। সে অ্যালবামগুলো দেখতে থাকে। একটা ছবিতে রাকিব কোমরে হাত দিয়ে ফুটবলের ওপর এক পা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। সে মৃদু হাসে।
আরেকটা অ্যালবাম খোলাই পড়ে ছিল। রাকিব হাতে নিয়ে দেখে ছোটবোন তিথির জন্মদিনের ছবি। তিথি কেকের সামনে আর বাকি পাঁচ ভাইবোন তার দু'পাশে দাঁড়িয়ে। চারপাশে কিছু আত্মীয় হাতে তালি দেয়ার ভঙ্গিমায় দাঁড়ানো। ছোট কাজের মেয়েটাকেও দেখা যাচ্ছে এককোণে পর্দা ধরে দাঁড়িয়ে অবাক দৃষ্টিতে দেখছে কেক কাটা।
মা বোধহয় স্মৃতিচারণ করছিলেন, রাকিব ভাবে। একটা সময়ের পরে মানুষতো স্মৃতি আঁকড়েই বেচে থাকে। পুরোনো লেপ-তোশক রোদে দেবার মতো স্মৃতিগুলোও বের করে ঝালিয়ে নেয়। তেঁতুলের আচারের মতো সুখস্মৃতি তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করে। আবার অপ্রিয় স্মৃতি, যা দেয় কষ্ট, দুঃখ, নিদেনপক্ষে সামান্য অনুতাপ, সে পুরোপুরি মুছে ফেলে।
সেলিনা শূন্যদৃষ্টিতে জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকেন। দুটো চড়ুই পাখি কার্নিশে জমা বৃষ্টির পানিতে ঠোঁট ডুবিয়ে খাচ্ছে। পিড়িং পিড়িং লাফিয়ে একে অন্যের সাথে খুনশুটি করছে। পাখিদের বোধহয় গরম লাগতে নেই। প্রকৃতি তার হাওয়ার কোমল পরশে বুঝি শুষে নেয় তাদের সব তাপ, জুড়িয়ে দেয় সব তৃষা।
অথচ তার যেন তাপ জুড়োচ্ছেই না। প্রচণ্ড দহনে জ্বলছে তার কায়া, মন। আল্লাহ পৃথিবীর আগুন সৃষ্টির জন্য জাহান্নামের আগুন পাঠিয়েছিলেন, তার নানি বলতেন। সেই আগুন নাকি সমুদ্রে সাত বার ধুয়ে তুর পাহাড়ের ওপর রাখবার পর পাহাড় পুড়ে যে ধোঁয়া হয়, তা থেকেই পৃথিবীর আগুনের সৃষ্টি। ুতাইলে বুঝো, জাহান্নামের আগুন কি ভয়ংকর,-সেলিনার মনে হচ্ছে সেই ভয়ংকর আগুন কেউ জ্বালিয়ে দিয়েছে তার গায়ে।
'ছবি দেখছিলে আম্মা?' রাকিব বলে, যেন কিছুই হয়নি।
'তিথিটা কেমন হ্যাংলার মতো নিজের জন্মদিনের কেকের দিকে তাকিয়ে আছে, যেন সব একাই খাবে,' রাকিব হাসে।
সেলিনা হাসেন না, বরং ছবির দিকে তাকিয়ে কুঁকড়ে ওঠেন।
রাকিব অবাক হয়। ছবিটা দেখে মনোযোগ দিয়ে। তারা ভাই, বোন, চাচা, খালা, আত্মীয়স্বজন, বাচ্চা কাজের মেয়েটা- কোনো অস্বাভাবিকতা তার চোখে পড়ে না।
দেরি না করে রাকিব স্ত্রীকে ডাকে।
'ফারজানা, আম্মাকে হাবিব স্যারের ক্লিনিকে নিতে হবে।' নিচুস্বরে বলে 'ওনাদের সাইকিয়াট্রি ডিপার্টমেন্ট অনেক ভালো।'
'আমি তো বার বার বলছি, শরীর খারাপ নয়, শুধু গরম লাগছে,' সেলিনার কথায় রাগ নয়, অসহায়তা ঝরে পড়ে।
'তোরা বরং কাজে যা,' তার গলা বুজে আসে।
তাঁর কথায় মৃদু গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। সকলেই বোঝাবার চেষ্টা করে হাসপাতাল যাওয়াটা কতটা প্রয়োজন। সেলিনাও ক্রমাগত বলতে থাকেন তিনি যাবেন না।
কার্নিশের প্রাণোচ্ছল চড়ুই দুটো আবার তাকিয়ে দেখেন তিনি। কোনো তাপ অনুতাপ নেই।
সুপারিগাছগুলোও দেখা যাচ্ছে। ঝোড়ো বাতাসে নুয়ে পড়ে, আবার সামলে মাথা তুলছে। তিনিও কি অপেক্ষা করবেন, যে মনের ঝড়ে নুয়ে পড়ছেন তা থামার জন্য?
'দাদু, তোমার নাকি অসুখ?' বলতে বলতে তার দশ বছরের নাতনি ঘরে ঢোকে। সেলিনা আর পারেন না। নাতনির দিকে চোখ পড়তেই ডুকরে কেঁদে উঠে বাথরুমে ছুটে যান। শাওয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়েন অবিশ্রান্ত জলধারার নিচে, যেন ধুয়ে যাবে তার সকল গল্গানি আর অনুতাপ।
তার কানে তখন ভেসে আসছে সিঁড়ির নিচে ছোট্ট ঘরে আটকে রাখা একটি দশ বছরের মেয়ের চিৎকার- খালাম্মা গো, মাফ কইরা দেন, আমি আর কোনোদিন ফ্যান ছাড়ুম না। গরম লাগলেও ছাড়ুম না...