বহুদিন ধরে আমি তোমাদের একটা গল্প বলার জন্য অপেক্ষা করে আছি।
যখন-তখন গল্পটা শুরু করা যায় বলে জ্যোৎস্নার মাদুর বিছিয়ে চা-কফি
নিয়ে আড্ডায় বসার কোনো প্রয়োজন হবে না, তবে সবচেয়ে যেটা
গুরুত্বপূর্ণ তা হলো গল্পটা শুরু করতে হবে মাঝখান থেকে, কারণ
এ গল্পের যেমন শুরু নেই তেমন শেষও নেই। সত্য হলো গল্পটির
কোনো নায়ক-নায়িকা নেই, আছে অসংখ্য অন্ধ পাত্র-পাত্রী, যারা
চাঁদ-সূর্য আকাশ-নদী-পাহাড় এসব শব্দের সাথে পরিচিত, কিন্তু এসবের
কার্যকারণ জানে না, হাতি আর ইঁদুর এদের কাছে সমান শক্তিধর প্রাণী।
এই গল্পে প্রেম নেই পরকীয়া নেই, বিচ্ছেদ-বিরহ-কাতরতা নেই,
আশ্চর্যজনকভাবে কোনো উল্লাসও নেই, করতালি নেই, শব্দ আছে
নিঃশব্দের মতো। খুন-রাহাজানি নেই, হত্যা নেই আত্মহত্যা নেই
এমন একটি গল্প বলার জন্য আমি অপেক্ষা করে আছি একশ বছর।
এই গল্পের যে নায়ক হতে পারতো সে কানে শোনে না, কথাও বলতে
পারে না, নায়ককে দুর্ধর্ষ হতে হয়, তরবারি চালাতে জানতে হয়,
সে তরবারি তো দূরের কথা হাত দিয়ে ব্লেড ছুঁতেই ভয় পায়, পাছে হাত
রক্তাক্ত হয় এই ভয়ে। আর কেন তাকে নায়ক বানানো হবে এটা
নিয়েও তার ভেতর ছিল বিস্ময়কর সব প্রশ্ন। যে নায়িকা হতে পারতো
সে ছিল বৃহন্নলা, কেউ বোঝেনি তাই তার সাজসজ্জায় বেহুদা খরচ
হয়ে গেছে এক কোটি স্বর্ণমুদ্রা, তহবিল অপচয়ের জন্য কার এখন
ফাঁসি হয় সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে এই গল্পের জল্লাদরা।
তোমাদের জন্য যে গোপন বার্তা আমি ফাঁস করতে চাই তা হলো
এই গল্পের একটা অদ্ভুত ম্যাজিক রিয়ালিটি আছে, যদি গল্পটা একবার
বলতে শুরু করি তা আর কখনও শেষ হবে না এবং এমন একটি গল্প
শুনতে শুনতে তোমরা সবাই বদ্ধ উন্মাদ হয়ে যাবে আমার মতোই ...।

বিষয় : পদাবলি শাহাবুদ্দীন নাগরী

মন্তব্য করুন