আজ ভোরে আমার ঘুম ভেঙে গেছে। কিন্তু এ তো শুধু কথার কথা, প্রকৃতপক্ষে সারারাত ঘুম হয়নি আমার। সারারাত শুধু বিছানার এপাশ-ওপাশ। কারণ পরদিন সৈয়দ শামসুল হক নামে একজন লেখকের সঙ্গে আমার জীবনের এই প্রথম দেখা হবে। যে লেখক লিখেছে আমার ভীষণ প্রিয় একটি চটি উপন্যাস, 'তিন পয়সার জোছনা'। সেই লেখা পড়ে আমি তাঁকে খুজে বের করেছি। কিন্তু চিঠিপত্র ছাড়া তার সাথে আমার চাক্ষুষ সাক্ষাৎ এখনও হয়নি।
সেটা উনিশশো তেষট্টি সাল। খুব সম্ভব জুন মাসের শেষের দিকে। ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর মন ভারি হয়ে আছে।
কাজটা কি ঠিক হচ্ছে? এভাবে দেখা করা?
এই দেখা তো সাধারণ দেখা নয়। একজন লেখকের সঙ্গে একজন পাঠকের দেখামাত্র নয়। যে পাঠক তার ভক্ত কিন্তু মুখে স্বীকার করে না, পাছে তার দুর্বলতা প্রকাশ পায়! এই দেখার ভেতরে কীভাবে যেন অদেখা এক রোমান্স জড়িয়ে গেছে। এতদিন শুধু চিঠিতেই যাবতীয় বড় বড় সব সাহিত্যের কথা। দেশ-বিদেশের সাহিত্য। পত্রমিতালির শেষ পর্যায়ে চিঠির শেষ লাইনটুকু ছিল কীরকম যেন একটা কাতরতার। ভালো থাকবেন। ক্লাসে থাকার সময় পড়ায় কেন যেন আজকাল মন বসে না। ভয় লাগে! সব কিছু উড়ূ উড়ূ মনে হয়। কেন এরকম হয়?
কিন্তু আমার চেয়েও আমার বন্ধুরা যেন এককাঠি বেশি। কারণ তারা সবাই জানে আজ আমার অচেনা একজন যুবকের সাথে দেখা করতে যাবার দিন। সময়টা সন্ধ্যে ছটা। আর জায়গাটা হচ্ছে একটা চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, জিন্না এভেন্যুতে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু এভেন্যু) অবস্থিত। এবং সেই রেস্টুরেন্টে এর আগে আমি বা আমরা কোনোদিন যাইনি। শুধু নাজ সিনেমায় গিয়ে মাঝে মাঝে ইংরেজি সিনেমা দেখে আসতাম বাবা-মায়ের নিষেধ না মেনে।
আজ ঘুম ভেঙে জেগে উঠেই আমি দৌড়ে হোস্টেলের দোতলায় উঠে আমার বন্ধু কোহিনুরের খোঁজ করলাম। কিন্তু কোহিনুর নেই। সে গতকাল তেজগাঁয়ে তার বাড়ি গেছে, এখনও ফেরেনি।
কিন্তু হাসিনা আছে, মিলি আছে, জাকেরা আছে।
জাকেরা পাকিস্তান থেকে এসেছে। সেও আমাদের মতোই মনে মনে উত্তেজিত। কিন্তু সেই উত্তেজনা ঢেকে রেখেছে তার ওড়নার ঘোমটার আড়ালে।
সে সকালে আমার রুমে এসে দেখা করে বলেছে, 'দেখো, দিল না লাগে তো ঘুম্‌ কে চলা আও!'
অর্থাৎ পছন্দ যদি না হয় তো ফিরে এসো।
মিলি খুব কনজারভেটিভ। মেডিকেল কলেজের বর্ষিয়সী অনেক স্টুডেন্ট বা ডাক্তার মিলির ফুটফুটে চেহারার ভক্ত। কিন্তু মিলি অসম্ভব কড়া মেজাজের মানুষ। তার রুক্ষ মেজাজে একটা মাছি পর্যন্ত তার গায়ে বসতে পারে না। মানুষ তো কোন ছার। এই নিয়ে আমি আর হাসিনা নিজেদের মধ্যে কত হাসাহাসি করি।
সেই মিলি পর্যন্ত আমাকে নিয়ে আজ খুবই উদ্বিগ্ন। নাকি আমি না বুঝে আগুনেই ঝাঁপিয়ে পড়ছি।
দুপুর পড়ন্ত হতে হতেই আমি সাজগোজ শুরু করলাম। আহামরি কোনো পোশাক নয়। কালো নকশা করা পাড়ের শাদা শাড়ি আর কালো ব্লাউজ। মাথায় খোঁপা করা। চোখে কাজল। পায়ে নিউমার্কেটের ঝুড়ি থেকে কেনা তিন টাকার দুস্ট্রাপের স্যান্ডেল। কপালে খুব সম্ভব কালো টিপ। ব্যস।
কিন্তু বুকের ঢিবঢিবানি যেন কিছুতেই যেতে চায় না।
হাসিনা আজ আমার সাথে সাথে। হাসিনা আমার খুব কাছের। কারণ আমার মনের ভাব হাসিনা অনেক আগে থেকে আন্দাজ করতে পারে। সে মাঝে মাঝে আমাকে সাহস দেয়। বলে, চিঠি পড়ে তো ভালো মানুষ বলে মনে হয়। তবু বলা যায় না। সাবধানে কথাবার্তা বলবি! আর আমি একজন লক্ষ্মী মেয়ের মতো সকলের কথায় মাথা নেড়ে হ্যাঁ জানাই।
তারপর বিকেল সাড়ে পাঁচটা বাজতেই আমি হোস্টেলের বাইরে এসে বন্ধুদের সামনেই রিকশা চেপে রওনা দিই গুলিস্তানের উদ্দেশ্যে; এ যেন সাধারণ রওনা নয়, একাকি এক দুঃসাহসী অভিযান! একমনে রাস্তার লম্বা লম্বা দাগ দেখতে দেখতে পথ চলি।
অচিরেই পৌঁছে যাই গুলিস্তানে।
এবং চু চিন চাঁওয়ের নিচের তলায়। রেস্টুরেন্টটি দোতলায়। কিন্তু বিল্ডিংয়ের প্রবেশপথেই যেন স্থানু হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছি। কীভাবে ওপরে উঠব? একাকি একটি তরুণী মেয়ে রেস্টুরেন্টে ঢুকছে বন্ধু বা আত্মীয় ছাড়া, এটা কেমন দেখায়? এসব তো খারাপ মেয়েরা করে! সুতরাং চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ করে সেই বিকেলেই যেন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে এসেছে।
আমার চোখের সামনে একজন দেহাতি মহিলা লম্বা লতানো সুতোর ঝাড়ন দিয়ে দালানটির নিচের তলা এবং সিঁড়ি মুছছে, আর আমি একপাশে সরে থেকে হাঁ করে তাকিয়ে তার কাজ দেখছি।
এমনি যেন অনেকক্ষণ।
তারপর কী ভেবে আমি সাহস করে ভেতরে ঢোকার উদ্দেশ্যে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির ওপর পা রেখেছি যেই, ওমনি দেখি খুব রোগা এবং কালো এবং লম্বাটে মুখের খুব ভারি একটি কালোডাঁটের চশমা চোখে একজন মানুষ ওপরের সিঁড়ির মোড় ঘোরার জায়গায় ধাঁই ধাঁই করে নেমে এসে দাঁড়াল।
আমাকে দেখে সে যেন অবাক। আর আমিও। আমিও তার চোখ দেখে অবাক। চেহারা ভালো নয়, কিন্তু চোখ যেন সর্বগ্রাসী!
মনে মনে আমার ভয় লেগে যায়। সে বলল, তুমি এখানে? আর আমি ওপরে বসে তোমার অপেক্ষা করছি! তারপর সে আমাকে সাথে করে ওপরে নিয়ে গেল। রেস্টুরেন্টের একটা বিশেষ জায়গায় গিয়ে বসলাম। সাধারণ জায়গাটার চেয়ে একটু ওপরে। যেন একটা ছোট্ট প্ল্যাটফরম। আমাকে বসিয়ে সে বলল, কী খেতে চাও?
উত্তরে বললাম, একটা কিছু হলেই হয়।
তারপর সে বেয়ারা ডেকে একটার পর একটা অর্ডার দিল। অনেক খাবার। এবং দামি স্যুপ। মনে আছে সার্কফিন স্যুপ। ফ্রাইড স্প্রিং চিকেন। চওমে ইত্যাদি।
আমার খাবারের দিকে মন নেই। আমি ভাবছি কীভাবে কথা শুরু করব। বা কী কথা বলব। চিঠিতে যতখানি উচ্চকিত, সামনাসামনি হতে তার আর কিছু নেই। কিন্তু সৈয়দ হকের মুখের আগল যেন খুলে গেছে। একভাবে সে বলতে শুরু করেছে তার কথা, তার লেখার কথা, তার ভবিষ্যৎ প্ল্যান-প্রোগ্রামের কথা। সে কত কথা। আর আমি ভাবছি, এই লোকটিকে, হ্যাঁ বা না। বা না কি হ্যাঁ? এর ভেতরেই সে ফট্‌ করে বলে বসল, আমি কিন্তু শুধু আইএ পাস! লেখাপড়া করিনি, ভালো লাগেনি বলে।
শুনে মনে মনে বললাম, বেশ ভালো, তো এখন কী?
ভাগ্যিস বলেনি যে, আমি ষোলো বছর বয়সে বাবার টাকা হাতিয়ে বোম্বে পালিয়েছি!
তখন আমার মনের অবস্থাটা কী হতো?
তারপর আর কিছু মনে নেই।
খাওয়া শেষে দেখি বেয়ারা আমার চেয়ারের বাম পাশে মাটিতে হুমড়ি খেয়ে বসে টেবিলের তলা থেকে বড় বিনীতভাবে সৈয়দ হকের ডান হাতে খাবার রসিদ তুলে দিচ্ছে, অর্থাৎ আমার চোখের আড়ালে!
এই আদেশ নাকি সৈয়দ হক আগেই দিয়ে রেখেছিল। পেমেন্ট যেন আমার চোখের আড়ালে হয়!
তো হলো। তারপর নাকি টিপস্‌ও দেয়া হলো।
বেয়ারা চলে গেলে বড় খুশি মুখে সৈয়দ হক বলল, আমাকে এখানকার বেয়ারারা খুব মানে। আমি ওদের খুব বড় বড় টিপস্‌ দিই তো! তার কথা শুনে পেট ফেটে আমার হাসি এলো।
কিন্তু মুখ গম্ভীর করে শুনলাম। এবং প্রথম দেখাতেই বন্ধুদের কাছে বলব বলে মনস্থির করলাম! টেবিল ছেড়ে উঠে আসবার সময় সৈয়দ হক বেয়ারাকে ডেকে বললেন, তবক দেয়া পান নিয়ে এসো।
তো এলো তবক দেয়া পান। কিন্তু আমি পান খেলাম না। সৈয়দ হকের চোখের সামনে দাঁত লাল করার ইচ্ছে আমার তখন বিন্দুমাত্র ছিল না। কিন্তু সৈয়দ হক নাছোড়বান্দা হয়ে বলল, তোমার হোস্টেলের বন্ধুদের জন্য আমি তবক দেয়া পান দিচ্ছি, শুভেচ্ছা হিসেবে। একটু আগে তুমি বললে না যে, ওরা তোমার ফেরার অপেক্ষায় হোস্টেলের বারান্দায় বসে আছে?
আমি মাথা নেড়ে বললাম, হ্যাঁ।
তারপর বেয়ারা ডেকে আমার দুহাত ভর্তি পান দিয়ে দিল সে। বুঝলাম এগুলো ঘুষ! সে যাই হোক, আমি মনে মনে একটু বিব্রত বোধ করলেও খুশি। বন্ধুরা তবক দেয়া মিষ্টি পান পেয়ে যে খুশি হবে সেটা জানতাম। আমাকে রিকশায় তুলে দেবার আগে সে বলল, সাবধানে যেও। পরে দেখা হবে।
আর আমি মনে মনে বললাম, পরে দেখা আবার হবে কিনা বলতে পারছি নে। এটাই শেষ দেখা হতে পারে!
রাত নটা বাজার আগে আগে হোস্টেলে হাজির হলাম। তখনই সমস্ত কলেজ ফাঁকা। রাত নেমে এসেছে অনেকক্ষণ হলো। বন্ধুরা দেখি অস্থির হয়ে হোস্টেলের সামনে পায়চারী করে বেড়াচ্ছে। তারা মনে মনে অস্থির এই ভেবে যে, আমি ঠিকমতো ফিরে আসতে পারবো কিনা! ফিরে এলাম এবং তাদের হাত ভর্তি করে পানও দিলাম। জাকেরা খপ্‌ করে একটা পান মুখের ভেতরে চালান করে দিয়ে বলল, বহুৎ খুব, আচ্ছা আদমি, মালুম হোতা!
মিলি পান মুখে দিয়ে কী যে খুশি, এখনও সে চেহারা আমার মনে পড়ে। সে দাঁতে চুন কাটতে কাটতে বলল, জাকেরার কথা ঠিক, মনে হয় লোকটা ভালো হতেও পারে!
কিন্তু আমি তো মিলির মতো মনে মনে খুশি নই। কারণ আমি জেনেছি সে লেখাপড়া শেষ করেনি। এবং আমার বাবা-মা রাজি হবেন না। কিন্তু এই ভাইটাল খবরটি আমার বন্ধুদের কাছে চেপে গিয়েছি। কেন গিয়েছি? সব খবর আমি তাদের দেবার পরও এবং বেয়ারাকে টিপসের খবর দেবার সময় প্রচুর হাসাহাসি করার পরেও কেন আমি সে যে লেখাপড়া করেনি, এই খবরটা ডাহা চেপে গেলাম? এর উত্তর কে আমাকে দেবে? এরপরে তিন দিন একেবারে চুপচাপ। ইতোমধ্যে বন্ধুরা সৈয়দ হকের নাম দিয়ে দিয়েছে, টিপ্‌স। আমাকে দেখলে বলে, ওরে, তোর টিপসের খবর কী?
সৈয়দ হকের সঙ্গে আমার বিয়ে ঠিক হয়ে যাবার পরেও বন্ধুরা তার টিপস্‌ নামটি ছেড়ে দেয়নি। কারণ এই নামের সঙ্গে তাদের কুমারী জীবনের স্মৃতি জড়িত। এর ভেতরে আর চিঠিপত্র লেখা নেই। কেউ কাউকে কিছু লিখছি নে। যেন নিজেদের জীবন নিয়ে ধ্যানে বসেছি। ভাবছি। শুধু ভাবছি। হ্যাঁ,কিংবা না। হয় এসপার নতুবা ওসপার। এই সময় হঠাৎ একদিন দুপুর বেলা পোস্টবকস্‌ খুলে দেখি তার একটি চিঠি। চিঠি খুলে দেখি কিছু লেখা নেই, শুধু একটি কবিতা, ''কী কান্তি তোমার তনু, লাবণ্যের প্রেমদ ছটায় মরি মরি উত্তোলিত শীত ''! লম্বা একটি কবিতা। ভারী সুন্দর একটি কবিতা। আমি সেই কবিতা পড়ে আনমনা হয়ে গেলাম। কিন্তু বন্ধুদের কাছে খবরটি লুকিয়ে রাখলাম। আমি ঠিক সিওর নই। আরও কিছু আমাকে জানতে হবে। লেখাপড়া শেষ করেনি। বিদ্যা কতদূর আমাকে জানতে হবে! তারপর তো সম্পর্ক!
সম্পর্ক করার আগে শার্লক হোমস্‌-এর মতো ইনভেস্টিগেশন দরকার! আঁটিতে কোনো টক রাখব না!
এর কয়েকদিন বাদে সৈয়দ হক লিখল, ওমুক দিন, ওমুক সময়ে আমি মেডিকেল কলেজের গেটের সামনে রিকশা নিয়ে বসে থাকব, যদি তুমি আসো খুব খুশি হবো!
তখন ঘোর শীত। আমি দোমনা হয়ে গেলাম তার সঙ্গে দেখা করতে। বন্ধুদের কাছে লুকিয়ে দেখা করতে গেলাম। এখন আর এটা ছেলেখেলা নয়। বন্ধুদের কাছ থেকে লুকিয়ে এটা করতে হবে।
রিকশায় উঠে বসলাম! সৈয়দ হক রিকশাঅলাকে বলল, ভাই, তুমি রমনা পার্কের পাশ দিয়ে ঘুরে চলো।
আমি তার সঙ্গে যথেষ্ট ছোঁয়া বাঁচিয়ে রিকশায় উঠলাম! রিকশা যখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দিয়ে ঘুরে চলেছে,গণজাগরণ মঞ্চের কাছাকাছি এসেছে, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি তো লেখাপড়া শেষ করেননি, বুঝলাম, সাহিত্য করবেন বলে লেখাপড়া শেষ করেননি, বেশ, তাহলে বিখ্যাত সাহিত্যিকদের ইংরেজি নামের বানান বলতে পারবেন? আমার কথা শুনে যেন একটু হকচকিয়ে গিয়ে সৈয়দ হক বললেন, তার মানে?
মানে, আপনি বড় বড় কথাসাহিত্যিক এবং কবিদের নামের বানান বলতে পারবেন?
সৈয়দ হক কী ভেবে বলল, পারব!
আমি সেদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাশিয়ার বড় বড় সব কথাসাহিত্যিক এবং কবিদের নামের ইংরেজি বানান মুখস্থ করেছি এবং হাতের একটা চিরকুটে লিখে রেখেছি। এবং সে চিরকুটটি আমার হাতব্যাগের ভেতরে। কারণ আমি নিজেই সেসব বানান জানতাম না, কিন্তু সেসব আমার গোপন কথা, কেউ কোনোদিন জানবে না!
প্রথমেই আমি জিজ্ঞাসা করলাম, বানান করুন তো ডস্টয়োভস্কি? ইংরেজিতে।
আমার কথা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে সৈয়দ হক বানান বলে সারল। তারপর আমি আমি বললাম, এবার বলুন লিও টলস্টয়
সৈয়দ হক গড় গড় করে বানান বলল।
আমি বললাম, বলুন মায়াকোভস্কি
সৈয়দ হক মুহূর্তমাত্র দেরি না করে বানান বলল।
সেও যেন তখন আমারই মতো ছেলেমানুষ!
এরপর আমি বললাম, এবার বলুন বরিস পাস্টারনেক।
সৈয়দ হক নামের বানান ঠিকঠিক বলল।
এরপর বললাম, এবার বলুন, ইয়েভগনি ইয়েভতুশেঙ্কু।
এভাবে বারবার যখন সে নামের বানান বলছে, আমি আমার হাতের চিরকুট ব্যাগ থেকে বের করে রাস্তার টিউব লাইটের আলোয় বানানটা দেখে নিচ্ছি। ঠিক ঠিক বানান বলতে পারছে কিনা!
শেষবার হঠাৎ সৈয়দ হক আমার দিকে ফিরে বলল, কী? তুমি বারবার করে হাতব্যাগ খুলে কী দেখছ?
আমি চট করে ব্যাগ বন্ধ করে বললাম, কিছু না!
আর সৈয়দ হক বলল, পরীক্ষায় কি পাস করলাম?