আমার বয়স বাড়ার শুরুতেই টুপিটা মাথায় তুলে বলেছিলে,
ইশ, থুত্থুরে হয়ে গেছে, জানি না পথে বৃষ্টি ছেয়ে গেলে এ চারপায়ে দাঁড়াতে পারবে কিনা..

ফলে হাত থেকে বই ফসকে যায়,
ক্রমশ জীবনই পিছলে যেতে শুরু করে
মরা ইঁদুরের মতো ঝুলতে থাকে ঠোঁট
আর তাই দেখে প্রতিবেশী টিপ্পনী দেয়,
মাত্র তিন দিন আগেই না বুড়িটা
বায়োস্কোপে ঢঙ খেলেছিল!

আমার চোখে জলের ছটা লাগতেই
বই থেকে চোখ উঠিয়ে যেই আঙ্গুল ছুঁয়েছি পাপড়িতে..বলেছিলে ইশ, এর চোখের গল্গুকোমা শুকিয়ে চচ্চড়ি হয়েছে,
পাগলি বলে পোলাপানরা ঢিল ছুড়বে এখন থেকে,
হাত সাঁতরেও লাঠি কিংবা গাছের গোড়ালিও নাগালে পাবে না আর,
অন্ধকারের চাদর বাদুড় হয়ে ঝুলবে এর চোখের পাতার সমস্ত কিনার ধরে..ধরে.

এমন প্রেমিককে এক মস্ত ল্যাঙ দিয়ে
একদার মরণের রাহুচাঁদ ঠেসে মুখে
তার ঝুঁটিতে একটা বানর ঘণ্টা ঝুলিয়ে
ভাবনায় কেন দেখবো না, ওর চারপাশে হঠাৎ শব্দের পর ধোঁয়ার পাহাড়..
এরপর
রক্তাক্ত রাস্তায় মাথাহীন টুপি পড়ে আছে?

যখন সাধু থেকে সন্ন্যাসী ভাষায় এমন লিখছি, যেনবা গুহাজঠর ভেঙে দাঁড়াও,
আমি তোমার চশমা পরে ছুড়ে দিই চোখ,
তুমি ক্রমশ গাছের কোমর ধরে অজস্র
কথার হাততালি ওড়াতে থাকো।

বিষয় : পদাবলি নাসরীন জাহান

মন্তব্য করুন