পূর্বলেখ
কবি তার পিতার রোগশয্যার পাশে ক্লান্ত অবসন্ন দেহে বিষণ্ণ হৃদয়ে বসে দেখছেন শায়িত শীর্ণ দেহটির স্পন্দন ক্রমেই ধীর থেকে আরও স্তিমিত হয়ে আসছে, হূৎপিণ্ড আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে নিঃশ্বাস গ্রহণ করতে এবং প্রশ্বাস ফেলতে। ডাক্তার একটু আগে এসে তার কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দিয়ে চলে গেছেন। হাসপাতালের নির্জন কক্ষে কবি আর তার পিতা ছাড়া কেউ নেই। বাইরে সন্ধ্যা এগিয়ে আসছে। তারপর নামবে রাত। কবি কাঁপা হাতে একটি কাগজে লিখলেন, 'ÔDo not go grath into that good night, old age should barand revead the close of the day Rage, rage against the dying of the hight.’

"এই সুন্দর রাতে যেও না শান্ত পায়ে
দিনের শেষে হেমন্তের দিনে জলে ওঠো, চিৎকার করো, প্রতিবাদ করো, আলো নিভবে নাহ, বলো বলো দৃঢ় স্বরে''।
কবির নাম ডিলান টমাস, ১৯৫১ সালে কর্কট রোগে অসুস্থ পিতার মৃত্যুর কয়েক মুহূর্ত আগে তিনি লেখেন এই অমর কবিতা, যা সকল মৃত্যুর বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ।
ডেটলাইন: সিঙ্গাপুর, ২০১২, ১০ জুলাই
সকাল ৮টায় ড. সুং বললেন, এখন তুমি তোমার স্ত্রীকে দেশে নিয়ে যেতে পারো। বাকি চিকিৎসা সেখানেই হতে পারে। তোমার স্ত্রী এয়ার ট্রাভেল করতে পারবেন। শুনে আমার স্ত্রী, পুত্র ও আমার চোখ ভিজে এলো। আহা! এক মাস পর সুসংবাদ শুনতে পেলাম। আমার স্ত্রীকে আত্মীয়-পরিজন, পরিচিত আপনজনদের মধ্যে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারব! তার কর্কট রোগ আমাদের নিয়ে এসেছে এই বিভূই-এ আরোগ্য লাভের চেষ্টায়। তাহলে আমাদের সব পরিশ্রম, উদ্বেগ, আশা-আকাঙ্ক্ষা সার্থক হতে যাচ্ছে। সেদিনই বিমানের টিকিট কাটা হয়ে গেল। কেনা হলো প্রয়োজনীয় ওষুধপথ্য। আমার স্ত্রী ওয়ার্ডের নার্সদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলছে, তাদের ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য একটি কেক কেটে ছোটখাটো পার্টির মতো হয়ে গেলো। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ক্যান্সার ওয়ার্ডে এমন খাওয়া-দাওয়া প্রায়ই হয়। ডাক্তাররা অনুমতি দেন, কেন না তারা মনে করেন এতে রোগীদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। কর্কট রোগ পরাস্ত করার জন্য মানসিক অবস্থার উন্নতি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
যেদিন ঢাকা যাত্রা করব সেই ভোরে হোটেলে ফোন এলো। তাড়াতাড়ি হাসপাতালে যেতে বলা হলো আমাদের।
ড. সুন বিষণ্ণ মুখে বললেন, সরি!
তোমার স্ত্রী আজ সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবেন।
আই অ্যাম সরি!
শুনে বিশ্বাসই হতে চায় না আমাদের। তিনি কি রসিকতা করছেন? এই তো দু'দিন আগে দেশে নিয়ে যেতে পারব প্লেনে বসিয়ে। আজ এই কথা বলছেন কেন? প্রশ্ন করার আগেই আঁচ করে তিনি বললেন, 'এই অসুখটা বড়ই আনপ্রেডিকটেবল, কিছু বলা যায় না। কখন যে খারাপের দিকে টার্ন নেবে কিছু ঠিক নেই। ভোরবেলা থেকে তোমার স্ত্রীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন ক্ষমতা কমতে শুরু করেছে। কিছুতেই স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না। এই রেটে কমতে থাকলে তিনি আজ সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবেন। লেট হার ডাই ইন পিস।
মনটা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে উঠল। না, এমন হতে পারে না। যার সঙ্গে আজ প্লেনে বসে দেশে ফেরার কথা, তার কেন মৃত্যু হবে মাত্র বারো ঘণ্টা পর!
ড. সুং আমার কাঁধ চাপরে বিষণ্ণ স্বরে বললেন, স্যরি। দেয়ার ইজ নাথিং উই ক্যান ডু। হার টাইম ইজ আপ। লেট হার ডাই ইন পিস। ইউ ক্যান টেইক হার ডেথবডি হোম টুমরো।
শুনেই মন আমার আবার উত্তেজিত হয়ে গেল। আমরা ওপরে যাত্রীর আসনে বসে থাকব, পায়ের নিচে কার্বোহোল্ডে আমার স্ত্রীর কফিন থাকবে অন্যান্য মালপত্রের সঙ্গে- ভাবতেই মনটা বিরূপ হয়ে গেলো। সিদ্ধান্ত নিতে একটু দেরি হলো না, ডাক্তারকে বললাম, আমার স্ত্রীকে জীবন্ত নিয়ে এসেছিলাম, জীবন্ত ফেরত নিয়ে যেতে চাই।
দারুণ অবাক হয়ে ডা. সুং বললেন, তা কি করে সম্ভব? সি ইজ গোয়েইং টু ডাই দিস ইভনিং। হাউ ক্যান টেক হার ব্যাক অ্যালাইভ?
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাব। এক্ষণি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তুমি আমার স্ত্রীর লাইফ সাপোর্টের ব্যবস্থা কর। আমরা বারোটায় রওনা হলেও তিন ঘণ্টায় পৌঁছে যাব। তখন ঢাকায় ৫টা বাজবে। তুমি তো বললে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে বেঁচে থাকবে। তাহলে তাকে জীবিত অবস্থাতেই দেশে নিয়ে যেতে পারব। আত্মীয়স্বজনদের সামনেই সে শেষ নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে।
শুনে ডা. সুং স্তম্ভিত। কয়েকবার বললেন, বাট।
আমি বললাম, কোনো বাট নেই। তোমাকে যা বললাম তাই করো। আমি যাই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা করি।
যেতে যেতে শুনলাম ডা. সুং তার সহকর্মীকে বলছেন, এই প্রথম দেখলাম একজন মৃত্যুপথযাত্রী একজন রোগীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যেতে চায় তার আত্মীয়। রোগীরা চিকিৎসার জন্য এখানে আসে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে। সি ইজ বিয়িং টেকেন টু ডাই দেয়ার। ভেরি স্ট্রেঞ্জ।
স্ট্রেঞ্জই বটে। আমি এখন মোটেও প্রকৃতিস্থ নই। বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে আমার মন। এমন হতে পারে না। যাকে জীবিত অবস্থায় নিয়ে এসেছি এবং ডাক্তারের কথা অনুযায়ী আজ প্লেনে করে সবার সঙ্গে দেশে ফেরার কথা। তার ডেথ বডি হর্মানডিহাইলে ভরে কফিনে রেখে কার্গো হিসেবে নিয়ে যাব না। আমার মাথায় তখন কোনো যুক্তি কাজ করছে না। দারুণভাবে আবেগতাড়িত হয়ে ছুটলাম এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করার জন্য। হাতে সময় নেই সন্ধ্যার আগেই পৌঁছাতে হবে ঢাকা। নচেৎ ডেথবডি সঙ্গে নিয়ে নামতে হবে দেশের মাটিতে। কী কৈফিয়ত দিব আমার মেয়ে এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের কাছে? তারা জানে আজ আমরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছি প্লেনের যাত্রী হয়ে।
দুপুর ১২টার মধ্যে ঠিক হয়ে গেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। তারা তৈরিই থাকে। সময় নেয় না। ঠিক হলো ২টার সময় যাত্রা করা হবে সিঙ্গাপুর থেকে। তার আগেই যেন হাসপাতালের পাওনা মিটিয়ে সব কাগজপত্র হাতে নেওয়া হয়।
এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন ছাড়াও পুলিশ চেক করবে। এতেও কিছু সময় যাবে। হাসপাতাল দক্ষতায় পিছিয়ে নেই। নির্ধারিত সময়ের আগেই সব ঠিক হয়ে গেলো। ড. সুং খুব সহযোগিতা করলেন। যাত্রার আগে আমার স্ত্রীকে নেওয়া হলো আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখার জন্য। সেই ওয়ার্ডে আরও রোগী অজ্ঞান হয়ে শুয়ে আছে। নাকে নল, মুখে মাস্ক। পাশে মনিটরে লাল নীল রঙে নম্বরগুলো এক একটা সংকেত দিচ্ছে। আমার স্ত্রীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমছে। নব্বইয়ের নিচে চলে যাচ্ছে। মেশিন দিয়ে বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে নব্বইয়ের ওপর। আমরা তৈরি হয়ে অপেক্ষা করছি হাসপাতালে। নির্ধারিত সময়ে দেওয়ার অ্যাম্বুলেন্স-ডাক্তার-নার্সসহ অন্যান্য সহকারী এসে গেলো কিন্তু হাসপাতাল থেকে বের হয় গেলো না। আকাশপথে উড়ে যাওয়ার জন্য মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের অনুমতি পাওয়া গেছে। মালয়েশিয়ার পাওয়া যাচ্ছে না। আজ শুক্রবার, সেখানে জুমার নামাজের জন্য সব অফিস ছুটি। সিভিল এভিয়েশন খোলা থাকে। নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমরা অপেক্ষা করতে করতে অস্থির হয়ে পড়লাম। আমাদের হাতে সময় ফুরিয়ে আসছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের কর্তৃপক্ষ মোবাইলে কথা বলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ওপাশ থেকে সাড়া নেই। নামাজ থেকে কেউ ফিরে আসেনি। একেকটা মুহূর্ত মনে হতে লাগলো ঘণ্টার মতো দীর্ঘ। আমরা করিডোরে পায়চারি করছি। মাঝে মধ্যে আইসিইউতে গিয়ে দেখে আসছি রোগীর অবস্থা। অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমছে। এখন যেন কেমোর রেট বেড়েছে। ড. সুংকে উদ্বিগ্ন দেখালো। তিনি ঘন ঘন হাতঘড়ি দেখছেন। তাকে বেশ চিন্তিত চিন্তিত দেখাচ্ছে। আমি আমার ছেলে অস্থির হয়ে পায়চারি করছি। শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে আইসিইউর সামনের করিডোরে। শুধু মোবাইলে একটু পর হ্যালো হ্যালো শোনা যাচ্ছে। কোনো সাড়া নেই ওপাশ থেকে। দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিকেল ৩টায় অনুমতি পাওয়া গেল। অ্যাম্বুলেন্সে রোগী তোলা হলো। সাইরেন বাজাতে বাজাতে ছুটল এয়ারপোর্টের দিকে। আমাদের ট্যাক্সি পেছনে পেছনে যাচ্ছে। উত্তেজনায় আমাদের বুক কাঁপছে। একে অন্যের হূৎকম্পন শুনতে পাচ্ছি।
এয়ারপোর্টে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ-নির্গমন পথ আলাদা। বেশ নির্জন। গাড়ির ভিড় নেই। শুধু আমাদের অ্যাম্বুলেন্স এসে দাঁড়িয়েছে। এখন ইমিগ্রেশন পুলিশের অনুমতির অপেক্ষা। পৌনে ৪টা বাজে, ঢাকায় বেলা ২টা। তার মানে ফ্লাইট টাইম চার ঘণ্টা হলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা ৬টা বেজে যাবে। ততক্ষণ কি রোগীকে ভেন্টিলেটরে রেখেও বাঁচিয়ে রাখা যাবে? আমি উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করি। পাইলট বলল- উই উইল ট্রাই আওয়ার বেস্ট। বেলা ৪টায় প্লেন আকাশে উড়লো। একটু পর ছোট লিয়ার জেট বিমান উঠে গেলো চল্লিশ হাজার ফুট ওপরে। পাইলট স্পিকারে জানালো প্লেন ছয়শ কিলোমিটার বেগে যাচ্ছে। সাড়ে ৫টায় ঢাকায় পৌঁছানো যাবে বলে সে আশা রাখে। আমাদের সামনে টেলিভিশন মনিটরে মালয়েশিয়ার জোহর বাহার দূরত্ব আর সেখানকার সময় দেখাচ্ছে। মানে ম্যাপে তিরচিহ্ন চলে গেছে জোহর বাহা, ব্যাংকক, ইয়াঙ্গুন, চিটাগং আর ঢাকার দিকে। আমাদের যাত্রাপথের নির্দেশনা লাল রঙে আঁকা। একটু পর জোহর বাহার নাম আর দূরত্ব চলে গেলো মনিটর থেকে। এলো ব্যাংককের নাম আর দূরত্ব। সেই সঙ্গে সেখানকার সময়। মাঝে মাঝে ঢাকায় দেখাচ্ছে, সেখানকার দূরত্ব আর সময়। আমি সময় সূচক সংখ্যাটাই দেখছি বেশি করে। ৬টার আগে পৌঁছাতে হবে। পাইলট জানে আমাদের আর্জেন্সি। সে গতিবেগ ছয়শ থেকে সাড়ে পাঁচশর মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে। বেশি জোরে গেলে প্লেন কেঁপে উঠছে। যদিও বাইরে মেঘ নেই। ছোট প্লেন সেই জন্যে মনে হয়। মনিটরে ব্যাংকক শেষ হয়ে ইয়াঙ্গুন এলো। অর্থাৎ আমাদের সামনে এখন মিয়ানমার। তারপরেই বাংলাদেশ। আমাদের বুক কাঁপছে উত্তেজনায়। পিতা-পুত্রের চোখ টেলিভিশন মনিটরে আর রোগীর অক্সিজেন সেচুরেশন মিটারের দিকে। পালা করে উঠছে আর নামছে, রোগীর অক্সিজেন নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ভেন্টিলেটর সাহায্য করছে ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য। আমার স্ত্রীর মুখ খুলছে আর বন্ধ করছে। ডাঙায় তোলা মাছের কানকোর মতো। সে শ্বাস নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। চোখ বন্ধ, কোনো জ্ঞান নেই, পাশে নার্স বসে আছে। ভেন্টিলেটরে তার হাত। সে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াচ্ছে। মনে হলো দীর্ঘ সময় পর চিটাগাং-এর নাম ভেসে উঠল মনিটরে।
তার সঙ্গে প্লেনের দূরত্ব ও সেখানকার সময়। প্রায় পৌনে ৫টা বাজে। যদি ৫টাতেও সেখানে পৌঁছায় তাহলে ঢাকায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে ৬টা বাজবে। আমি উদ্বিগ্ন হয়ে স্ত্রীর দিকে তাকাই। তার মুখ খুলছে, বন্ধ হচ্ছে। তা যেন আগের চেয়ে আরও কম সময় নিয়ে। তার মানে তাকে নিঃশ্বাস নিতে আরও জোর দিতে হচ্ছে। নিঃশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে মনে হচ্ছে। আমি বাইরে তাকিয়ে দেখি সব রঙে আকাশ বিচিত্র রূপে সেজেছে। এতগুলো রং একসঙ্গে আগে কখনও দেখিনি। আকাশের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হলো অপার্থিব মনে হলো। সব রঙের মধ্যে লাল রংটাই যেন বেশি উজ্জ্বল, চোখ ধাঁধানো। বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না। আমি প্লেনের ভেতরে চোখ ফেরালাম আমার স্ত্রীর মুখ খুলছে, বন্ধ হচ্ছে, আরও জোরে জোরে শক্তি ফুরিয়ে আসছে তার। আমি মনিটরের দিকে তাকাই, এখানে ঢাকার নাম এসেছে দূরত্ব আর সময় দেখা যাচ্ছে। পৌনে ৬টা বাজে সেখানে। পৌঁছাতে পৌঁছাতে ৬টা বেজে যাবে। চার ঘণ্টাই লাগলো শেষ পর্যন্ত। প্লেন একই গতিতে আসতে পারেনি মনে হচ্ছে। কেন কে জানে? ঢাকার এয়ারপোর্টে যখন জেট বিমান মাটি স্পর্শ করল বাইরে তাকিয়ে দেখি অন্ধকার, সন্ধ্যা হয়ে গেছে। প্লেন ছুটছে রানওয়ে দিয়ে গর্জন করে। গর্জন করছে জেট ইঞ্জিনও। তাকিয়ে দেখি মুখ খুলছে না আমার স্ত্রী। বন্ধ হয়ে গেছে তার দুই ঠোঁট। নার্স নাক থেকে নল খুলে নিচ্ছে। আমার ছেলে দু'বার আম্মু বলে ডাকল। সে ডাক্তার তবুও ডাকল, পুত্র হিসেবে ডাকল, জানে উত্তর আসবে না, চোখ খুলবে না, তবুও শেষ বারের মতো ডাকল ভারী গলায়। আমার কানে বাজছে কবিতার লাইন ডো'নট গ্রো জেনটেল ইনটু দ্য গুড নাইট; না সে শান্ত পায়ে যায়নি। জেট ইঞ্জিন গর্জন করছে, ছুটে যেতে যেতে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।