শেষ পর্ব
[পূর্বে প্রকাশিতের পর]
আমরা সবসময়ই নিজেদের আলাদা রাষ্ট্র চেয়েছি। আমাদের বৃহৎ জনগোষ্ঠী কৃষক; কৃষকরা তার নিজের রাষ্ট্র চেয়েছে। এবং শেষ পর্যন্ত ঘটে সেটাই। মধ্যবিত্তের সঙ্গে যৌথভাবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো- বেঙ্গল মুসলিম লীগের তরুণ যেসব কর্মী ছিল তারা কখনোই এক রাষ্ট্রের প্রস্তাবটাকে মেনে নেয়নি এবং তারা তখন থেকেই বলা শুরু করল, আমরা আলাদা রাষ্ট্র চাই। তরুণ শেখ মুজিবও এই ধারার অংশ। তিনি কলকাতাকেন্দ্রিক রাজনীতি করতেন। এবং তিনি এ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করে করে ওপরের দিকে উঠে এসেছেন। তখন প্রায় সকল তরুণই স্বাধীনতা চেয়েছে।
অন্যদিকে ছিলেন মওলানা ভাসানী। তিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের স্বরাজ পার্টি, আসাম চাষি মজুর সমিতির মতো নানান চরমপন্থি দল করে শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগে এসেছেন। কিন্তু এসব দলে থেকে তিনি সবসময় মূলত পূর্ববঙ্গের নিপীড়িত কৃষকের কথাই বলেছেন। অতএব শেখ মুজিব ও মওলানা ভাসানীর মিলটা এই জায়গাতেই। তা হলো, পূর্ববঙ্গ। এই পূর্ববঙ্গের ঐতিহাসিক বাস্তবতা দীর্ঘদিনের। সেই ধারাবাহিকতায়ই আন্দোলন শুরু হলো। লাহোর প্রস্তাবকে অগ্রাহ্য করে ১৯৪৭ সালে দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের বদলে এক রাষ্ট্র পাকিস্তান হয়ে গেল। লোকে অনেক সময় বলতে চেষ্টা করে যে, আমরা এক সময় পাকিস্তান চেয়েছি- পরে অখুশি হয়ে সেখান থেকে ফেরত এসেছি। কিন্তু আমরা কতদিনে অখুশি হয়েছি? পাকিস্তান গঠনের তিন মাসের মধ্যেই তো এখানে হরতাল শুরু হয়েছে। প্রথম হরতাল হয়েছে ১৯৪৮ সালে। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে, প্রথম থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতি সচেতন মানুষ পাকিস্তানকে মেনে নেয়নি। পরবর্তীকালে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে প্রায় কোনো ভোটই পায়নি মুসলিম লীগ। ১৯৪৯ সালেই শেষ হয়ে গিয়েছিল মুসলিম লীগ। কারণ তার কোনো ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা ছিল না। ১৯৫৪-এর নির্বাচনে পুরোপুরিভাবে কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগ আউট হয়ে গেছে। তার পরে এখানে কোনোদিনই পাকিস্তান আর ঢুকতে পারেনি। ১৯৫৮ সালে যখন মার্শাল ল' হয়, তখন দেখা যায় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন স্বাধীনতার জন্য সক্রিয় হচ্ছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা ছিল ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন পার্টি। তারা চেষ্টা করেছিল ভারতীয় সমর্থন আদায় করতে, তবে ভারতীয়রা তখন তেমন সমর্থন দেয়নি। আর শেখ মুজিবুর রহমান তো দীর্ঘদিন ধরেই স্বাধীনতার কথা বলে আসছেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তানের কলোনি ভাবতেন। এ কথা বলেছেনও বিভিন্ন জায়গায়। তিনি যখন স্বাধীনতার কথা নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টির কাছে গেছেন, কমিউনিস্ট পার্টির লোকেরাও খুব আশ্চর্য হয়েছেন, কারণ তারা তখনও স্বাধীনতার কথা ভাবেননি। তারা তখন বলেছেন, আমাদের মস্কোর সঙ্গে আলাপ করতে হবে। এবং তারা শেখ মুজিবকে জিজ্ঞেস করেছেন, আপনি না সোহরাওয়ার্দীর লোক? এই ভুলটা আওয়ামী লীগপন্থি বুদ্ধিজীবীরাও করে থাকেন- শেখ মুজিব আর সোহরাওয়ার্দীকে একই সমান্তরালে পরিমাপ করেন। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান তো স্বাধীনতাপন্থি মানুষ, আর সোহরাওয়ার্দী হচ্ছেন গণতান্ত্রিক পাকিস্তানপন্থি মানুষ। যে কারণে কমিউনিস্ট পার্টিকে তখন শেখ মুজিবুর রহমান উত্তর দিয়েছিলেন- লিডারের রাজনীতি লিডারের কাছে, আমার রাজনীতি আমার কাছে। এটি খুব মৌলিক ব্যাপার। কারণ শেখ মুজিব স্বাধীনভাবেই রাজনীতি করে গেছেন। এর মধ্যে ১৯৬৩ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মারা যাবার পর শেখ মুজিব পুরোপুরি মুক্ত হয়ে গেলেন। তখন তিনি সংগঠনের প্রধান। এর মধ্যে বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন পর্যায়ে, এমনকি দলের মধ্যেও আলাদা পরিকল্পনা হতে লাগল স্বাধীন পূর্ব বাংলা নিয়ে।
১৯৫৮ সালে পশ্চিমারা নতুনভাবে ক্ষমতায় এসেছিল পাকিস্তানকে টেকানোর জন্য, তবু টেকাতে পারেনি। তারপর ১৯৬৬ সালে যখন শেখ মুজিব ৬ দফা নিয়ে এলেন, তখন পরিস্কার হয়ে গেল- যেই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান আন্দোলন শুরু হয়েছিল ১৯৪০ সালে, সেই ধারাবাহিকতা টেকানোর ক্ষমতা আর নেই। সে কারণেই ৬ দফাকে প্রতিহত করতে দেওয়া হলো আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। কিন্তু এ মামলা যখন হয়েছে তখন জনগণের মনে পাকিস্তানের অস্তিত্ব শেষ হয়ে গেছে এবং বাংলাদেশের মানুষের কাছে শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থান তখন নেতা হিসেবে সকল আইন-অপরাধের ঊর্ধ্বে। কাজেই এ মামলাকে কেউ আর বিশ্বাস করল না। অর্থাৎ পাকিস্তানকে অস্বীকার করল।

অন্যদিকে আরেকটি বিষয় হলো- মওলানা ভাসানী সম্পর্কে মানুষের একটি ভুল ধারণা হচ্ছে, ভাসানী আর মুজিব ছিলেন প্রতিপক্ষ। এটা কখনোই নয়। একটা পর্যায়ে ভাসানী বামপন্থিদের প্রভাবে স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে কিছুটা দূরে সরে যান এবং সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে তার মৌলিক সংঘাত ছিল- কিন্তু মওলানা ভাসানী পূর্ববঙ্গের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা। তিনি যখন ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে পশ্চিম পাকিস্তানকে উদ্দেশ করে বলছেন, তোমাদের আসসালামালাইকুম বলে দেব- তখন মূলত পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের যে ভঙ্গুর সম্পর্কটা রয়েছে, সেটার কথাই বলেছেন। এমন কি ১৯৫৪ সালে যখন ফজলুল হকের যুক্তফ্রন্ট সরকারকে ভেঙে দিচ্ছে, তখনও পাকিস্তানিরা একই কথা বলেছিল যে, এরা শুধু স্বাধীন হতে চায়। তার মানে স্বাধীনতার কথাটা পাকিস্তানের কাছেও গোপন ছিল না। বরং আমাদের কিছু সুশীল বুদ্ধিজীবীর কাছে এটা নতুন বিষয় মনে হয়েছিল। তারা মনে করেন, ভাষা আন্দোলন থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয়েছিল। বাস্তবে এই ধারণার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনের মতো ভাষা আন্দোলনও '৫২তে নয় '৪৭-এই শুরু হয়েছিল। ভাষা আন্দোলনটিও শুধু ভাষার জন্যে ছিল না, ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন মূলত একটা দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন। একাধিক শ্রেণিভিত্তিক রাজনৈতিক আন্দোলন- দীর্ঘদিনের ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে গেছে। যেটি পূর্ণতা পেয়েছে ১৯৭১ সালে। যার শুরুটা সম্ভবত ফকির-সন্ন্যাসীদের আন্দোলনের সময় থেকে।

শেষ পর্যন্ত আগরতলার কথিত 'ষড়যন্ত্র' মামলার মাধ্যমে যখন পশ্চিমারা শেখ মুজিবের বিচার করতে পারল না- দেখা গেল আইয়ুব খানেরই চলে যেতে হলো। এবং নির্বাচন দিতে রাজি হলো তারা। কিন্তু সত্তরের সে নির্বাচনে তারা ভেবেছিল যে, শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগ জিততে পারবে না; পাকিস্তান এবারও থাকবে অটুট। দেখা গেল ১৬২টার মধ্যে ১৬০টা আসনই পেলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তখন অরাষ্ট্র পাকিস্তান আর শেখ মুজিবের ৬ দফা তো একসঙ্গে বসবাস করতে পারে না এবং সেই সংকট পাকিস্তান আর সামলাতে পারেনি। পাকিস্তান কোনোদিন একক রাষ্ট্র ছিল না বলেই সামলাতে পারেনি। সামলাবার চেষ্টা হিসেবে তারা গণহত্যা চালালো। সেই গণহত্যার মধ্য দিয়ে পাকিস্তান মূলত আবার আত্মহত্যা করে।

পাকিস্তানের প্রথম আত্মহত্যা হয় ১৯৪৬ সালে, যখন তারা লাহোর প্রস্তাবের দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রস্তাবকে পাল্টে এক পাকিস্তান করল। দ্বিতীয়টি ছিল ১৯৫৮ সালে, যখন আইয়ুব খান ক্ষমতায় এলো মার্শাল ল' দিয়ে পাকিস্তানকে রক্ষা করতে। তৃতীয়টা হলো যখন ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় এসে ২৫ মার্চের গণহত্যাটা চালালো একই কারণে, অর্থাৎ পাকিস্তানকে রক্ষা করতে। এ থেকে এটা পরিস্কার বোঝা যায় যে, পাকিস্তান কোনো রক্ষাযোগ্য বাস্তবতা ছিল না। যেভাবে এর ছিল না কোনো ঐতিহাসিক বাস্তবতা।
মূল চালিকাশক্তিটি ছিল কৃষক সমাজ
বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়। স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে। হঠাৎ করে বা অকস্মাৎবাদ দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে বোঝানো যায় না। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন পর্যায়ে পরম্পরার মধ্য দিয়ে একের পর এক ঘটনা ঘটেছে। সেই ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত ৬ দফায় এসে যে বাস্তবতাটি দাঁড়িয়েছে তাতে পূর্বের যতগুলো দাবি ছিল, সেই দাবির পরম্পরায় সেটা কলকাতার, করাচির এবং দিল্লির বিরুদ্ধে প্রান্তিক মানুষের দাবি। সেখানে কেন্দ্র করাচি হোক, কলকাতা হোক বা দিল্লি হোক- কেউ সেটা সামলাতে পারেনি। তাদের কাছে সশস্ত্র সমাধান ছাড়া আর কিছু ছিল না। যেটি করতে গিয়েও তারা ব্যর্থ হয়েছে। প্রান্তিক গোষ্ঠী উঠে দাঁড়িয়েছে।
আমাদের স্বাধীনতার প্রধান শক্তি কৃষক সমাজ। তারা না থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতে পারত না এবং যে লড়াইগুলো হয়েছে- সেগুলো তাদের পরিসরে হয়েছে। যুদ্ধে যে সাহায্যটা হয়েছে- তাদের পরিসরে হয়েছে। ভারত আমাদের বহুভাবে সাহায্য করেছে, অস্ত্র দিয়েছে, ট্রেনিং দিয়েছে ইত্যাদি। কিন্তু যৌথ বাহিনী যখন দেশে প্রবেশ করেছে, যুদ্ধে তাদের সফলতা সম্ভব হয়েছে গ্রামের মানুষদের সহায়তার কারণে। যখন দেশে ঢুকেছেন মুক্তিযোদ্ধারা- তারা ওই কৃষকের কাছেই আশ্রয় পেয়েছেন। জেনারেল অরোরা নিজেও আমাকে বলেছেন, 'আমরা যুদ্ধে জিততে পারতাম না- এদেশের গ্রামের সাধারণ মানুষ যদি আমাদের সমর্থন না করত; তারা সহায়তা না করলে যৌথ বাহিনী প্রবেশই করতে পারত না।' মধ্যবিত্ত শ্রেণিও এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে, কিন্তু মূল চালিকাশক্তিটি ছিল কৃষক সমাজ। এভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। কোনো এক সাধক যেমন বলেছিলেন- 'ক্ষত্রিয়ের হাতে তো সর্বদাই তলোয়ার থাকে, সেটাই তার ধর্ম, সেটাই তার রুজি, পেশা। কিন্তু কৃষকের হাতে যখন তলোয়ার ওঠে, তখন প্রতিপক্ষকে ভয় পেতে হবে। কারণ সে রাগ, ক্ষোভ থেকে তলোয়ারটা হাতে নিয়েছে, পেশার জন্য না।' এই হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসের ভিত্তি।

আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস দীর্ঘ। এর ধারাবাহিকতাটা ভুলে গিয়ে ইতিহাসটাকে কেবল দশ বা বিশ বছর পেছনে দেখলে হবে না। দেখতে হবে গোড়া থেকে। তাহলেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস অক্ষুণ্ণ থাকবে।
পরিশিষ্ট
২০২১ সালের মার্চ মাস থেকে এই ধারাবাহিকটি চলেছে। আমরা মূলত আলোচনা করেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পটভূমি এবং ইতিহাস, কবে থেকে এ আন্দোলন শুরু হয়েছে- যে আন্দোলন ১৯৭১ সালে এসে চরম পর্যায়ে পৌঁছলো। এখানে একের পর এক অধ্যায়ে বিভিন্ন পর্যায়ের ইতিহাস নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। মূল বিষয়টা ছিল- এ আন্দোলন যে অকস্মাৎ তৈরি হয়নি সেটাকে তুলে ধরা। এবং বাংলাদেশের ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে কেবল ১৯৪৭ সালের সময়বিন্দু দিয়ে যে একে নির্ধারণ করা যায় না- এটা দেখানো। এটি বাস্তবিক ইতিহাস। টানা সাত মাস ধরে প্রকাশিত এ রচনাটির শেষে আমি অত্যন্ত আনন্দিত এ জন্য যে, এত মানুষের কাছে এ বিষয়গুলোকে আমি পৌঁছাতে পেরেছি। আমার জীবনে স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে বহু লেখা লিখেছি। কিন্তু এর আগে আমার কোনো লেখার এত ব্যাপক জনপ্রিয়তা আমি লক্ষ্য করিনি। এই সাত মাসে প্রতি সপ্তাহে লেখা প্রকাশের পর বহু মানুষ যোগাযোগ করেছেন, লেখাগুলো নিয়ে তাদের চিন্তা ও ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন। আমি এতটা সাড়া সত্যি আশা করিনি, কারণ এমনিতেই মানুষের ইতিহাস নিয়ে আগ্রহ কম। কিন্তু আমার এ ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে অনেকটা। ইতিহাস নিয়ে মানুষের আসলে অনেক আগ্রহ আছে। তবে ইতিহাসটা মানুষের মতো করে লিখতে হবে। যে বিষয়টি মৌলিকভাবে আমার কাছে মনে হয়েছে, তা হলো যে ভঙ্গিতে এই ইতিহাসটি লেখা হয়েছে তা এর আগে আমার কোনো রচনায় দেখা যায়নি। ঐতিহাসিক গবেষণা সবসময় যেরকম হয়- অনেকটা রসকষহীন, কাঠখোট্টা ধরনের। এ লেখাগুলো পড়ার পর অনেকেই ইতিহাস পাঠের এ সহজবোধ্যতার বিষয়টি নিয়ে আমাকে বলেছেন। তাই এবার আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি কিছুটা হলেও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটাতে সফল হয়েছি। একদিন হয়তো এ ধারাবাহিকটিও গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হবে।
দৈনিক সমকাল ও কালের খেয়ার প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ, কারণ তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এ কাজটি অসম্ভব হতো। এই কথা বলে এ ধারাবাহিকটি এখানেই শেষ করছি যে, বাংলাদেশের মানুষের কাছে ইতিহাস চর্চা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু তার জন্য যে ভাষাটা ব্যবহার করতে হবে, সেটা তাদের উপযোগী হতে হবে।