বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ মাইকেল মধুসূদন দত্তের অন্যতম সৃষ্টি। এখানে লেখক রক্ষণশীল সমাজের মুখোশ উন্মোচন করেছেন, যারা বাইরে ধর্মপরায়ণতা, সচ্চরিত্রের বেশ ধরলেও তাদের অন্তরে লুকিয়ে থাকে ভণ্ডামি।
ভক্তপ্রসাদ বাবু জমিদার। প্রজাদের মঙ্গলের চেয়ে নারীলিপ্সা তাকে বেশি ব্যস্ত রাখে। হানিফ গাজী খাজনা পরিশোধ করতে না পারায় ভক্তবাবু গদাধরকে (ভক্তবাবুর পেয়াদা) নির্দেশ দেন হানিফকে আটক করতে। গদা ভক্তবাবুকে জানায়- হানিফের যুবতী স্ত্রী যথেষ্ট সুন্দরী এবং খাজনার বদলে ভক্তবাবু হানিফের স্ত্রীকে একবার ডাকতে পারেন। ধর্মকর্মে সদা ব্যস্ত ভক্তবাবুর মনে পড়ে মুসলমানকে স্পর্শ করলে জাত যাবে। কিন্তু পরক্ষণেই নিজ মনে আবার বলে ওঠে, 'স্ত্রীলোক-তাদের আবার জাত কী?' ভক্তবাবু গদাধরকে আশ্বস্ত করেন যে হানিফের বউকে রাজি করাতে পারলে গদাধরকে মোটা অঙ্কের টাকা দেবেন। অথচ পরক্ষণেই বাচস্পতি (দরিদ্র ব্রাহ্মণ) তার মায়ের সৎকারের জন্য টাকা চাইলে, তা দিতে অস্বীকার জানান। ভক্তবাবুর পক্ষে পুঁটি এ প্রস্তাব নিয়ে ফাতেমার কাছে যায়। ফাতেমা প্রস্তাবে রাজি হয় এবং এ বাবদ টাকা নেয়। এদিকে ফাতেমা হানিফকে সব জানায়। ভক্তবাবুকে জব্দ করার ফন্দি আঁটে ফাতেমা, হানিফ এবং বাচস্পতি।
শেষ দৃশ্যে, রাতের বেলা পুঁটি ফাতেমাকে নিয়ে যায় ভাঙা শিবমন্দিরে। সেখানে তারা ভক্তবাবুর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এদিকে বাচস্পতি ও হানিফ পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মন্দিরের পাশের এক গাছের ওপরে লুকিয়ে থাকে। ভক্তবাবু সেখানে উপস্থিত হলে, বাচস্পতি ও হানিফ প্রথমে ভৌতিক পরিবেশের অবতারণা করে এবং অবশেষে এমন পরিস্থিতির অবতারণা করে যে, ভক্তবাবু বেকায়দায় পড়ে যান।
কবিতার বিষয় ও শৈলীতে মধুসূদন বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচনাকারী কবি। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ধারণার ভারতীয় সংস্করণ, দেশের প্রতি অমিত ভালোবাসা, মহাকাব্য রচনা, অমিত্রাক্ষর ছন্দ সৃষ্টি ও তার যথার্থ প্রয়োগ, সনেট রচনা, পত্রকাব্য রচনা, সফল ঐতিহাসিক নাটক, ট্র্যাজেডি ও কমেডি সৃষ্টি প্রভৃতি বিষয়ে তার চিন্তার প্রতিফলন বাংলা সাহিত্যভান্ডারকে দান করেছে অভূতপূর্ব মর্যাদা। কলকাতার বেলগাছিয়া নাট্যশালার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পর তিনি অনুভব করেন যে আন্তর্জাতিক নাট্যপরিসর থেকে বাংলা নাটক অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তাই তিনি তার ভাষায় রচিত নাটকের দৈন্যদশা দূর করার জন্য পাশ্চাত্য ও সংস্কৃত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নাটক চর্চা শুরু করেন। অতঃপর মধুকবি বেলগাছিয়ার রাজাদের অনুরোধে ও আনুকূল্যে হাস্যরসসমৃদ্ধ ছোট আকারের নাটক (এ ধরনের নাটককে প্রহসন বলা চলে) লেখায় মনোযোগ স্থাপন করেন। অল্প সময়েই 'একেই কি বলে সভ্যতা' এবং 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' রচনা করেন তিনি। এই প্রহসনগুলোতে তিনি বিশেষভাবে পাশ্চাত্য নাট্যরুচি অনুযায়ী বাস্তবানুগ পরিবেশনা উপস্থাপন করতে সমর্থ হন। 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসনটিতে মধুসূদন সামন্তব্যবস্থার অধীনে থাকা গ্রামীণ সমাজের জমিদারদের দৌরাত্ম্য আর নারীলোলুপতার কথা শুনিয়েছেন তার পাঠককে। এই কাহিনিতে ধর্মীয় অনুভূতির প্রসঙ্গও উত্থাপিত হয়েছে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত তার 'বুড় সালিকের ঘারে রোঁ' প্রহসনটির মধ্য দিয়ে তৎকালীন গ্রামসমাজের নষ্টামির ছবি এঁকেছেন; ব্যক্তির চরিত্রের দুর্বলতাকে কিংবা নীচতাকে তুলে ধরেছেন। সমাজের বোধোদয় ঘটাবার দিকে নাট্যকারের বিশেষ অভিনিবেশ ছিল বলেও ধারণা করা যায়। কাহিনির শেষে জমিদারের আত্ম-উপলব্ধি জাগ্রত করার চেষ্টার মাধ্যমে লেখকের সেরকম বাসনার কথাই আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়।
প্রশ্ন
১। বাংলা সাহিত্যে প্রথম প্রহসন প্রণেতা কে?
২। বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ নাটকটির কাহিনিকাল কত দিনে বিস্তৃত?
৩। কত সালে নাটকটি রচিত হয়?
কুইজ ২৯-এর উত্তর
১। শিলং-এর শৈলবাসে
২। 'যক্ষপুরী'
৩। আশ্বিন মাসে

কুইজ ২৯-এর জয়ী

জগদ্বন্ধু হালদার
আইনজীবী মার্কেট, মুন্সীগঞ্জ সদর, মুন্সীগঞ্জ।

আব্দুল কুদ্দুস
বাড়ি-৬১৬, সড়ক-৬, আদাবর, ঢাকা

আলাউদ্দিন আজাদ
শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ

নিয়ম
পাঠক, কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন ১৯ অক্টোবর মঙ্গলবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।