সেলিম আল দীন যেমন ছিলেন বাংলা নাটকের এক প্রধান পুরুষ, তেমনি তার সৃষ্টিকর্মের মধ্যে প্রাধান্য পেত বাংলা তথা প্রাচ্যের মানুষ ও তাদের জীবনাভিজ্ঞতার বিচিত্র বয়ান। বাঙালি ও আবহমান বাংলার জীবনকে তিনি বারবার গভীর অভিনিবেশ নিয়ে তুলে এনেছেন তার নাটকে, গল্পে। নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন প্রাচ্য ভাবধারা সংরক্ষণে যেমন ছিলেন উচ্চকণ্ঠ, তেমনি ছিলেন বিলুপ্তপ্রায় প্রাচ্য ঘরানার ঐতিহ্য বিশ্নেষক।
সেলিম আল দীন তার জীবদ্দশায় অনবরত সন্ধান করে গেছেন সৃষ্টি ও প্রকাশের নতুনতর মার্গ। নতুন, কিন্তু তা বাংলা ভাষার সৃষ্টি এবং হাজার বছরের ধারাবাহিকতার অন্তর্গত অবশ্যই। বাংলার অস্তিত্ব এবং জীবনবোধ, যাপিত জীবনের স্বপ্ন ও যন্ত্রণাই ছিল তার সৃজনের প্রধান বিষয়। আর এ বিষয়কেই অকৃত্রিম শিল্পীর নিপুণ শক্তিতে সেলিম আল দীন বিশ্বের সকল মানুষের কণ্ঠস্বরে পরিণত করতে পারতেন। মানুষ প্রসঙ্গে আমাদের বিস্ময় যেমন অফুরান, মানুষের কথা বলার মাধ্যমও তেমনি বিচিত্র ও সহস্র। বাংলার ধূলিতে ও কাদার পটে সেলিম আল দীন আমাদের মানুষের, তথা প্রাচ্যের এ অঞ্চলের জীবনোপলব্ধির মূল কথাগুলো দেখতে পেতেন।
দেশজ নাট্য আঙ্গিক নির্মাণের অভিপ্রায়ে বাংলার ঐতিহ্যময় জীবনাচারের পরতে পরতে, যে শিল্প-বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল, তাকে 'সালোক-সংশ্নেষণ' প্রক্রিয়ায় পুনরুদ্ধারের শিল্পযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে এবং সে সকল নাট্যকৃত্যের ভাবাদর্শে পাশ্চাত্যের কোন-কোন নাট্য অভিধা গড়ে উঠেছিল তাকে বিশ্নেষণাত্মক ও যৌক্তিকতার মনোভাব নিয়ে ব্যাখ্যা করতে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন বরাবরই ছিলেন একরৈখিক ও দৃঢ়চেতা।
প্রকৃতপক্ষে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন ছিলেন একজন বঙ্গজ শিল্পানুসন্ধিৎসু 'বাস্তুসর্প'। দেশজ শিল্প ও সাহিত্যের ঐতিহ্য সুসংহত করতে, তার মৌলিকত্ব সুরক্ষা করতে, তার মেধাস্বত্ব ও ঐতিহ্যিক ধারাবাহিকতার শিকড় আবিস্কার করতে, নিজস্ব নাট্যভাষা সৃষ্টি ও সংরক্ষণে তিনি ছিলেন বাস্তুসর্পতুল্য। তার সেই অবস্থান বিশ্বনাট্যে আমাদের বাংলা নাট্যধারার স্থান সুনির্দিষ্ট করার পাশাপাশি চর্চা ও অনুশীলনে ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখতে রেখেছিল অগ্রগণ্য ভূমিকা।
তার নাটকে, কাহিনিতে বাংলার এসব মানুষ তাদের প্রাচীন সৌকর্য নিয়ে বারবার উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, নাটককে তিনি শেষ পর্যন্ত আর ইংরেজি পাঁচ অঙ্ক আর বিসর্গ চিহ্নিত সংলাপে নির্ধারিত বৃত্তেই বেঁধে রাখতে চাননি। এই প্রাচ্য ভূখণ্ডের ধারাবাহিকতা ঘেঁটে তিনি আবিস্কার করেছেন শিল্পের আঙ্গিক লুপ্তির কৌশল। বাংলা নাটকের শিকড় সন্ধানী এ নাট্যকার ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাট্যের বিষয় ও আঙ্গিক নিজ নাট্যে প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলা নাটকের আপন বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছেন।
চাকা, কিত্তনখোলা, ভাঙনের শব্দ শুনি, রঙের মানুষ, নকশীপাড়ের মানুষেরা- এমন আরও অনেক বাংলার মৃত্তিকালগ্ন সৃষ্টির ভেতর দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন প্রাচ্যের অকৃত্রিম এক কণ্ঠস্বর। তিনি শুধু নাটক রচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বাংলা ভাষার একমাত্র নাট্যবিষয়ক কোষগ্রন্থ বাংলা নাট্যকোষ সংগ্রহ, সংকলন, প্রণয়ন ও সম্পাদনা করেছেন। অর্থাৎ প্রাচ্যের মাটির জীবনকে তিনি তার সৃজনশীলতায় রূপ দিয়েছেন অকৃত্রিম এক বিশ্বসৃষ্টিতে।

প্রশ্ন
১। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার মাঝখানে সেলিম আল দীন কোন কলেজে গিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন?
২। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনাচরণকেন্দ্রিক যে থিয়েটারের তিনি উদ্ভাবন করেন, তার নাম কী?
৩। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রথম কোন বিভাগের প্রতিষ্ঠা করেন সেলিম আল দীন?
কুইজ ৩৩-এর উত্তর
১। রসায়ন।
২। না খেয়ে থাকা জনিত পুষ্টিহীনতা
৩। অস্ট্রিয়ায়

কুইজ ৩৩-এর জয়ী

মনসুর রহমান
পৈলানপুর, পাবনা সদর, পাবনা।

আজম জহিরুল ইসলাম
গৌরীপুর, ময়মনসিংহ।

আলাউদ্দিন আজাদ
শাহজাদপুর,সিরাজগঞ্জ।

নিয়ম
পাঠক, কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন ২৩ নভেম্বর মঙ্গলবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।