কোনো-যে মানে নেই, এটাই মানে।
বন্য শূকরী কি নিজেকে জানে?
বাঁচার চেয়ে বেশি বাঁচে না প্রাণে।

শকুন, এসেছিস কী-সন্ধানে?
এই নে বুক মুখ হাত নে, পানে-
ভাবিস পাবি তবু আমার মানে?

অন্ধ চোখ থেকে বধির কানে
ছোটে যে বিদ্যুৎ, সেটাই মানে।
থাকার চেয়ে বেশি থাকে না প্রাণে।

ছুটেছে উন্মাদ, এখনও ত্রাণে
রেখেছে নির্ভর, সহজযানে
ভাবে সে পেয়ে যাবে জীবনে মানে!

বিভোর মাথা কেউ খুঁড়েছে শানে
কিছু-বা ভীরু হাত আফিম আনে-
জানে না বাঁচে কোন্‌ বীজাণুপানে:
কোনো-যে মানে নেই সেটাই মানে।
সবাই যখন মানে হাতড়ে মরছে, তখন শঙ্খ ঘোষ এভাবেই বললেন। এমনিতে হয়তো প্রায় সব মানুষই সবকিছুর মানে খুঁজে বেড়াচ্ছে। কবি তার বিপরীতে দাঁড়ালেন। যেমন মানুষ অপেক্ষা করে। অপেক্ষা যে মধুর, তাও মানুষ জানে। রজকিনীর জন্য চণ্ডীদাস অপেক্ষায় থাকলেন। আমরাইবা কম অপেক্ষায় থাকি নাকি? রজকিনী যদি না-ই আসতেন, তাহলেই কি আমরা একবাক্যে বলে দিতে পারতাম, অপচয় হয়ে গেল? ত্রিশ বছরের দাম্পত্য শেষে যখন একজন আরেকজনকে মুখে ঝামটা মেরে বলে দেয়, তোমাকে আমি চিনতে পারলাম না! কী দাঁড়াল? একজন বৃদ্ধ নারী জীবনের শেষ বেলায় দেখতে পান, তার ছেলেমেয়েরা ভীষণ ব্যস্ত সংসারের চাপে, এমনকি তার নাতি-নাতকুরোরাও সময় পায় না তার সঙ্গে একটু কথা বলতে, তখন কি এটা মেনে নিতে হবে যে, তার জীবন অপচয়ের শিকার? গাতক গাইলেন, কতটা অপচয়ের পর মানুষ চেনা যায় তখন কি এ রকমও ভাবার জায়গা নেই যে, জীবন এ রকমই! জীবন তো কেউ ধরে রাখতে পারবে না, যৌবন ফিক্সড ডিপোজিট নয়, তা ফুরাবেই। জনভাষায় কথিত অপব্যয় কাকে বলে? একজন করিৎকর্মা লোক আর একজন নিস্কর্মা লোকের কবর যখন পাশাপাশি থেকে যায়- তখন অপচয় আর অনপচয় কী অর্থ দাঁড় করায় আমাদের হিসেবনিকেশে? জীবদ্দশায় জমানো সম্পদ আর না জমানো শূন্যতা কি একাকার হয়ে যায় না?
কাঁচা কাঁচা শব্দে লিখতে শুরু করে একজন নবীন। লিখতে লিখতে একদিন লেখা পাকা হয়, সেই লেখা ছাপা হয়, কেউ কেউ পড়ে, কেউ হয়তো কোনোদিনও পড়ে না কবিতা, তাতে কারইবা কী? তরুণ কবির নাম থেকে একদিন তরুণ শব্দটি ছেঁটে ফেলে সময়, তখন কি সেই কবিকে দেখে আমরা বলতে পারি, তিনি তার তরুণবেলাটা অপচয় করে এলেন? অভিজ্ঞতা আসেনি? জীবন তো কিছু অভিজ্ঞতার সমষ্টি, বলা যাবে না? প্রজন্মের পর প্রজন্ম পার হয়ে আসা মানুষ ক্রমশ যে অভিজ্ঞতা নিয়ে আজ সামনে এগোচ্ছে, এটা দেখে আমাদের বলার সুযোগ আছে যে, আগের সব প্রজন্মের মানুষের জীবন অপচয়ে গেছে? একটা অর্থবোধকতার নিরিখে আমরা হয়তো সাফল্য বা অপচয় শব্দের ব্যবহার শিখেছি। কিন্তু সেই অর্থবোধকতাও সবার জন্য সমান সমান নয়। ক্লাস পালিয়ে যে ছেলেটি প্রেম করতে দিন কাটিয়ে দিয়েছে বা দিচ্ছে, তার পরীক্ষার ফল হয়তো ক্লাসে নিয়মিত যে, তার মতো হবে না। কিন্তু নিয়মিত যে, তার তো নেই দুপুর রোদে ঘুরতে ঘুরতে প্রেমে পোড়ার অভিজ্ঞতা। সেই পুড়ে যাওয়া কি কিছুই নয়? প্রেম কি ক্লাসে বসে থাকা মেয়েটিকে একদিন বলতে পারে না, তুমি অপচয় করেছ? কবিই তো বলেছেন, কোনো কিছুরই খুব বেশি অর্থ নেই! গন্তব্য তো সেই একই, প্রাপ্ত জীবন খরচ করে যাওয়া। জীবনের সময় খরচ করে যাওয়া। বিরাট সাফল্য আর ব্যাপক অপচয়- দুটোই বড় আপেক্ষিক।
মানবজীবন বড় বিচিত্র। এই বৈচিত্র্যই জীবনের সৌন্দর্য। একরৈখিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। একজন দার্শনিক লেখক যখন বলেন, একটা সময় আসবে যখন মানুষ সন্তান উৎপাদন আর সংবাদপত্র পড়েই জীবন কাটাবে। অর্থাৎ জীবনের অপচয় করবে। তার ভাষ্যে কাগজের আবিস্কার থেকেই আধুনিক মানুষের জীবনের অপচয়ের শুরু। কাগজে যা লেখা হয়, তা জীবনের অপচয়। সেই কাগজ যারা পড়ে, তারা জীবনের অপচয়ই করে। এবং সেই কথা তিনি লিখেছেন কাগজেই। তাহলে কী দাঁড়াচ্ছে?
কোনো মানেই নেই। কবি বলেছেন, মানে যে নেই, সেটাই মানে। নদী বা জল শুকিয়ে যায়। কোথায় যায়? মেঘ হয়ে যায়। সেই মেঘ একদিন বৃষ্টি হয়ে নামে। নদী ফের ভরাট হয়, সেই ভরাট নদীর জল আবার শুকোতে থাকে। জলচক্রের এই বিধানই কি জীবন নয়? একটি গাছ যেমন বীজপত্রে অঙ্কুরিত হয়, গাছটি বড় হয়, গাছটি বুড়ো হয়, গাছটি একদিন খড়ি হয়। গাছটি একদিন কাঠ হয়, খাটপালংক হয়, গাছটি চেয়ার-টেবিল হয়ে ওঠে, গাছটিই হয়ে ওঠে কাগজ। সেই কাগজে লেখালেখি হয়। আগেই বলেছি, সেই লেখা কেউ পড়ে, কেউ পড়েই না। গাছ কি অপচয়ে নিবেদিত হলো? কে নির্ণয় করবে? একজন যা নির্ণয় করবে, অন্যজনের কাছে তা নির্ণীত হবে না। একটা তুলনামূলক বিচার হয়তো করি আমরা। আমাদের সেই বিচারের ভার দিল কে? কেউ না। আমরা নিজেরাই যার যার মতো ভালো-মন্দ বিচারকার্য চালিয়ে যাই। কেন করি এ রকম? এ রকম করতে আমাদের ভালো লাগে। আমাদের যার যার ভালো লাগাকে আমরা প্রাধান্য দিতে থাকি। যার যার সুবিধা ও ভালো লাগাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আমরা একটা মানদ দাঁড় করাই। একটা নৈতিকতা দাঁড় করাই। এগিয়ে চলে সময়। আমরা জন্মাই। আমরা মরে যাই। আমাদের কবর হয়। আমাদের মৃত শরীর আমরা আগুনে পোড়াই। আমরা মিশে যাই মাটিতে। যে মাটির ওপরে আমরা হাঁটি, দৌড়াই। একদিন এই মাটিতেই আমরা মিশে যাব। জীবদ্দশার দিনগুলোতে আমরা কত কি করি। এই কত কি করাকেই একটা মানে দাঁড় করাতে চাই। যার কোনো মানে নেই- কবি বলেছেন।
কবি কী বলেছেন, তাই মানতে হবে বাকিদের? তারও তো কোনো মানে নেই। আবার মানে যে নেই, সেটাই মানে। কেউ জানে, কেউ জানে না। মানে যে জানতেই হবে, তার কীইবা মানে!
তাহলে কী দাঁড়াচ্ছে? কী দাঁড়াল? কী দাঁড়ায়? কিছুই না। কিছুই না। জোড়াসাঁকোতে জন্মানো যে ছেলেটি একদিন বড় হয়ে ওঠেন, সেই শ্মশ্রুমণ্ডিত কবির উপলব্ধি- ওই কিছুই না-ই আমাকে টানে। সেই কিছুই নাকি শূন্যতা? অনেকটা আকাশের মতো! সেই কিছুই না-এর সন্ধানেই তো তিনি ছুটলেন, বললেন- তোমরা যা বলো তাই বলো, আমার লাগে না মনে।
আমার যায় বেলা, বয়ে যায় বেলা কেমন বিনা কারণে।।
এই পাগল হাওয়া কী গান গাওয়া
ছড়িয়ে দিয়ে গেল আজি সুনীল গগনে।।
সে গান আমার লাগল যে গো লাগল মনে
আমি কিসের মধু খুঁজে বেড়াই ভ্রমরগুঞ্জনে
ওই একশ ছায়া কাহার চাওয়া
এমন করে লাগে আজি আমার নয়নে।।

এই কবি কি জীবনের অপচয় করলেন? কী হতো, যদি জমিদারি ব্যবস্থা টিকে থাকত? তিনি জমিদার থেকে যেতেন। সেকালে অনেক জমিদার ছিলেন। সেইসব জমিদার মাটিতে মিশে আছেন। সেসব জমিদারের প্রজারাও মাটিতে মিশে আছেন। আজকের যারা জমিদার বা ধনিক শ্রেণি, আজকের যারা প্রজাসাধারণ, সবাই মাটিতেই মিশে যাবে। জীবনের ভোগ হয়তো সবার সমান হয়নি, সমান হয় না। সে তো কোনো দেশে, কোনো সময়েই হয় না। শুধ একটি প্রবহমানতা কাজ করে। জীবন জলের মতো শুকিয়ে যায়, জীবন মেঘ হয়ে ওঠে, জীবন বৃষ্টি হয়ে ঝরে। আর আমরা জীবনের মানে খুঁজতে খুঁজতে পার করে ফেলি আশি-নব্বই বছরের সময়। অনন্ত সময়ের মধ্যে এই আশি-নব্বই বছর এমন কী! কিছুই না। সাতশ বছর আগে কারা বেঁচে ছিল? সাতশ বছর পরে কারা বেঁচে থাকবে? দুইশ বছর আগে যে জোনাকিরা ওড়াউড়ি করত সন্ধ্যায়, সেই জোনাকিরা আজ কোথায়? পঞ্চাশ বছর আগের যে কোকিল ডাকত বনে বনে, আজ যে কোকিল ডাকে, একই কোকিল কিনা? আজকের ভাঁটফুল আর জীবনানন্দের কবিতায় ফুটে থাকা ভাঁটফুল একই কিনা, এই জিজ্ঞাসার উত্তর আমি পাব কোথায়?

অর্থ কীর্তির চেয়ে কোনো এক বোধের শিকার কুসুম কুমারী দাশের পুত্র। আত্মহত্যার দিকে একটা প্রলুব্ধ সংকেত রেখে তিনি মরলেন ট্রামের চাকার ধাক্কায়। বাংলা কবিতাকে এ রকম একটি উচ্চতায় পৌঁছে দিয়ে তিনি চলে গেলেন। কোথায় গেলেন? যদিবা তিনি কোথাও গিয়েই থাকেন, বারবার তিনি কেন ফিরে ফিরে আসেন আমাদের পাঠে, বাংলার কার্তিকের মাঠে, কুয়াশায়? গাছের যে প্রাণশক্তি আছে, গাছ অন্য প্রাণের স্পর্শে প্রতিক্রিয়া করে- জানালেন জগদীশ চন্দ্র্র বসু। জগদীশচন্দ্র বসু কি আছেন, না মরে গেছেন? ইডেন কলেজে কি এখনও পড়ছেন বা বিচরণ করছেন, শ্রীমতী? শ্রীমতীর নাম লাবণ্য। কার যেন একটি কবিতার বইয়ের প্রচ্ছদ চোখে পড়ল কদিন আগে। বইয়ের নাম, লাবণ্য দাশ অ্যান্ড কোং। তার অর্থ লাবণ্য দাশ আছে। লাবণ্য দাশ একটি সম্প্রদায়ের নাম? যে সম্প্রদায়ের কাজ হচ্ছে, কবির ঘরে ঢুকে কবিকে মরতে সহায়তা করা। নাকি? আর কবি বললেন, একবার নক্ষত্রের পানে চেয়ে, একবার বেদনার মানে চেয়ে, অনেক কবিতা লিখে চলে গেল যুবকের দল। একবার সাকুরার মানে চেয়ে, একবার পিককের পানে চেয়ে অনেক যুবক কি বুদ্‌বুদ হয়ে উড়ে গেল? বুদ্‌বুদ কি জীবনের অপচয়? প্রশ্ন থেকে যায়, প্রশ্ন থাকে, উত্তর আসে না।
একজন বলতে পারে, তোমার জীবন তো পুরোপুরি একটা অপচয়। কারণ, তোমার জীবনে বউ-বাচ্চা-সম্পদ কই? ব্যাংকে টাকা কই? অনেক খ্যাতি কই? সেই প্রশ্নকারীকে কেউ বলতেই পারে, তোমার জীবন অপচয়ের শিকার; বউ-বাচ্চা আর বিল্ডিং বানাতে বানাতেই চলে গেল। তুমি কী করলে হে মানবসন্তান? একটি সন্তানকে আমি দেখি, প্রতিদিন দেখি। কত বয়স হবে? হয়তো দুই বছর। আমার বাসার ঠিক সামনাসামনি, নগরীর নিউ এলিফ্যান্ট রোডে, ঠিক রাস্তার ওপরে যে ডিভাইডার থাকে, সেই ডিভাইডারে ধুলোমলিন কাপড়চোপড়ে ঢেকে বড় হচ্ছে বাচ্চাটি। তার মা-বাবা থাকে এই রাস্তার ডিভাইডারে, সন্তান নিয়ে। শীতকাল বয়ে যাচ্ছে। রাস্তার দু'পাশ দিয়ে ছুটে যাচ্ছে গাড়ি। সেখানেই সংসার পাতা দাম্পত্যে বড় হচ্ছে শিশুটি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হচ্ছে। লাল-সবুজ বাটিতে সাজানো শহরের রাস্তায় মানবশিশু বড় হচ্ছে। এ রকম অসংখ্য শিশুই বড় হচ্ছে বাংলাদেশে। তারা বাংলা ভাষায় কথা বলে, বলবে। এই ভাষার কবি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এই ভাষাকে রাষ্ট্রভাষায় উন্নীত করার দাবিতে একদিন এই শহরে শাসকরা মানুষ হত্যা করেছে। এই ভাষাতে কবিতা লেখা হচ্ছে, উপন্যাস লেখা হচ্ছে। পাঠক তৈরি হচ্ছে। এই ভাষাতেই কথা বলবে রাস্তার শিশুটি। এই ভাষাতেই বস্তা বস্তা বই ছাপা হচ্ছে, বইমেলায় সেই বই বিক্রি হচ্ছে, পাঠক কিনে নিয়ে গিয়ে পড়ছে। এসব বই কারা লিখছেন? এসবের বেশির ভাগ বইই তো আবর্জনা। এই আবর্জনা উৎপাদনকারীরা কি অপচয় করছেন না? আমি ওই শিশুটির পক্ষে এই দাবি করলে আমকে কি বেত্রাঘাত করা হবে? দোররা মারা হবে?
অপচয় কী? কাকে বলে? অপচয় কত প্রকার? অপচয়ের শেষ নেই নাকি অপচয় বলে কিছু নেই? একজন আরেকজনের অনেক কিছুকেই অপচয় বলতে পারে। বলার স্বাধীনতা আছে। দেশ স্বাধীন। তাই? স্বাধীনতা কাকে বলে? সরকারি দলের নেতাকর্মী ফড়িয়ারা যাকে স্বাধীনতা মনে করে, এর বাইরে যারা আছে, তাড়াও কি তাই মনে করে? মনে করাকে চাপিয়ে দিলে স্বাধীনতা থাকে না। আইনি শিকলে বেঁধে ফেলাও কি স্বাধীনতা? আমিই বলতে থাকব স্বাধীনতার কথা, যে, স্বাধীন স্বাধীন। যে বস্তি পুড়িয়ে দিয়ে বিল্ডিং তোলা হয়, সেই বিল্ডিংয়ের মালিক যদি স্বাধীনতা পেয়ে থাকেন, যাদের জীবন পোড়ানো হলো, তারাও কি স্বাধীন? স্বাধীনতা কেবল একটি পতাকা, জাতীয় সংগীত? কে কার জীবনকে অপচয় করে দিচ্ছে, বাংলাদেশে? অপচয়ের তাই নির্দিষ্ট আকার প্রকার ও সংজ্ঞা নেই। তাহলে? অপচয় নিয়ে কথা বলা যায়? তাই একজন কবি লিখেছেন-
'সবার যেমন স্বপ্ন থাকে
আমারও আছে ড্রিম
তোমার হাতে হতাম যদি
একটি আইসক্রিম
এক কামড়েই গলে যেতাম
তোমার গালের মধ্যে
এসব কথা বলা যায় না
লেখাও যায় না পদ্যে।'

এ কী বাসনা রে ভাই? এইভাবে কেউ জীবন অপচয় করতে চায়? ভায়। কেউ কেউ চায়। কেউ হয়তো চায়। সবাই যখন ঘুমায়, কেউ হয়তো জেগে থাকে। কেউ হয়তো ভাবতে পারে, জীবনইবা আদতে কী? জীবনের কীর্তিগৌরব কী? সফলতা কী? ব্যর্থতা কী? আমার মনে পড়ছে কিউবান কবি হোসে মার্তির কবিতা থেকে একটি বাক্য, 'জগতের সকল মানুষের কীর্তিগৌরব একটি শস্যদানার মধ্যেই লুকিয়ে রাখা যায়।' তাহলে গাদা গাদা ভিত্তিপ্রস্তরে এত নাম লেখার কিছু আছে? অমরত্বের কিছু আছে?
কেন যে মানুষ অমর হতে চায়?