বাংলাদেশের আধুনিক উপন্যাস নির্মাণকলার অন্যতম পথিকৃৎ শিল্পীর নাম রশীদ করীম। তার সম্পর্কে কবি শামসুর রাহমান বলেছিলেন, ''রশীদ করীম আমাদের দেশের অন্যতম সেরা গদ্যকার। তার 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের ভাষা আশ্চর্য সহজ-সরল ও আধুনিক। রশীদ করীমকে আমি আমার সেরা বন্ধু মনে করি।" বস্তুতপক্ষেই প্রথম উপন্যাস 'উত্তম পুরুষ' রশীদ করীমের সাহিত্য ও ভাষা স্বকীয়তার স্বারক। 'উত্তম পুরুষ' যখন প্রকাশিত হয়, তখন বাংলাদেশের উপন্যাসের গতিমুখ বিচিত্র প্রবাহিণী। এই কাল-পর্যায়ে যে ক'জন ঔপন্যাসিক কালোত্তীর্ণ উপন্যাস লেখার জন্য কালজয়ী হয়ে থাকবেন, রশীদ করীম তাদের মধ্যে শীর্ষতম একজন। 'উত্তম পুরুষ'-এর পরপরই প্রকাশিত হয় তার 'প্রসন্ন পাষাণ' উপন্যাসটি। এই দুটিমাত্র উপন্যাসের মাধ্যমেই তখন রশীদ করীম নিজের স্বাতন্ত্র্য এবং বৈশিষ্ট্যকে উজ্জ্বলতরভাবে তুলে ধরতে পেরেছিলেন।
রশীদ করীমের প্রথম উপন্যাস 'উত্তম পুরুষ'কে কোনো কোনো সমালোচক ১৯৪৭-পূর্ব পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকালে কলকাতাকেন্দ্র্রিক মুসলিম মধ্যবিত্ত উচ্চবিত্ত সমাজের জীবনচিত্র, ইতিহাস বলে উল্লেখ করেছেন। এটা সত্য। সেই সঙ্গে, এটাও সত্য, 'উত্তম পুরুষ' শাকের নামের একজন মানুষের কিশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের এক মর্মস্পর্শী মানবিক আখ্যান। এই শাকেরকে লেখক রশীদ করীম যে অতি উত্তমভাবেই চেনেন, তা শাকেরের চরিত্রটির বিশ্বস্ত ও বিস্তৃত বিশ্নেষণেই বোঝা যায়। রশীদ করীম নিজেও জন্মেছিলেন কলকাতায়, এক সল্ফ্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। সে-কারণেই সে-সময়ের মুসলিম জীবনচিত্রটি তিনি সূক্ষ্ণাতিসূক্ষ্ণ বর্ণনায় এঁকে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। সক্ষম হয়েছেন সময়ের অন্তর্মূল থেকে দগদগে ক্ষতগুলোকে জাগিয়ে তুলতে। আমরা শাকেরের চোখ এবং হৃদয় দিয়ে দেখি ধনী এবং গরিবের বৈষম্য, জাতিতে জাতিতে ভেদটা কত গভীর, কত নির্মম।
রশীদ করীমের জন্ম ১৯২৫ সালের ১৪ আগস্ট কলকাতায়। সেখানেই বেড়ে ওঠা। দেশ বিভাগের পর কলকাতা ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন তেল কোম্পানির চাকরি নিয়ে।
পঞ্চাশের দশকেই লেখালেখির সূচনা গল্প দিয়ে। ১৯৪২ সালে সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল 'আয়েশা' গল্পটি। প্রথম উপন্যাসেই তিনি বাংলা সাহিত্যে তার আসনটি পাকাপোক্ত করে ফেলেন। ১৯৪২ সালে সওগাত পত্রিকায় তার গল্প ছাপা হবার পর থেকে নিয়মিত লিখেছেন 'একটি মেয়ের আত্মকাহিনী'। তার এই গল্পের খুব প্রশংসাও করেছিলেন বুদ্ধদেব বসু। রশীদ করীমের অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- প্রসন্ন পাষাণ, আমার যত গ্লানি, প্রেম একটি লাল গোলাপ, সাধারণ লোকের কাহিনী, একালের রূপকথা, সোনার পাথরবাটি, বড়ই নিঃসঙ্গ, মায়ের কাছে যাচ্ছি, চিনি না, পদতলে রক্ত, লাঞ্চবক্স। তার প্রকাশিত সর্বশেষ গ্রন্থ আত্মজীবনী- 'জীবনমরণ'।
বাংলা সাহিত্যে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য রশীদ করীম বাংলা একাডেমি পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় একুশে পদক, লেখিকা সংঘ পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন।
বাংলাদেশের আধুনিক উপন্যাসের অন্যতম পুরোধা ঔপন্যাসিক রশীদ করীম জনপ্রিয় ছিলেন তার নির্মেদ সাবলীল গদ্য কাব্যিক দ্যোতনাময়তার জন্য। উপন্যাসের পাশাপাশি ছোটগল্প ও প্রবন্ধ রচনার ক্ষেত্রেও ছিলেন অনন্য। সমৃদ্ধ জীবনাভিজ্ঞতা, অনন্য ভাষাভঙ্গি এবং স্বকীয় গদ্যশৈলীর মধ্য দিয়ে রশীদ করীম বাংলা কথাসাহিত্যকে ঋদ্ধ করেছেন। তার অগ্রজ আবু রুশদও ছিলেন একজন বিশিষ্ট লেখক।
প্রশ্ন
১। 'উত্তম পুরুষ' কত সালে প্রকাশিত হয়?
২। 'মনের গহনে তোমার মুরতিখানি' রশীদ করীমের কোন ধরনের গ্রন্থ?
৩। 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসটির জন্য তিনি কোন পুরস্কার লাভ করেন?
কুইজ ৩৯-এর উত্তর
১। কটিয়াদীতে।
২। 'বাঙালী জীবনে রমণী'।
৩। ১৯৬৮ সালে।

কুইজ ৩৯-এর জয়ী
রেজওয়ানুল ইসলাম রনি
বনানী, ঢাকা

আবু মুহাম্মাদ
মধুপুর, টাংগাইল

কাউছার আহমাদ মারুফ
ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ

নিয়ম
পাঠক, কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন ৪ জানুয়ারি মঙ্গলবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।