ছেলেবেলায় এক মজার খেলায় প্রায়ই মেতে উঠতাম- খবরের কাগজ থেকে শিরোনাম বা উপশিরোনামের বড় হরফ কেটে খাতায় আঠা দিয়ে সেঁটে নিজের নাম বানাতাম। নিজের কৃতিত্বে নিজেই অবাক হতাম- তাকিয়ে থাকতাম মুগ্ধ দৃষ্টিতে গর্বের ভাব নিয়ে আমার নামের দিকে। এ ছিল আত্মপ্রকাশের প্রবল আকাঙ্ক্ষার ছেলেমানুষি দৃষ্টান্ত। নিজের নাম ছাপার হরফে দেখার সেই শৈশব বাসনার ভেতরেই হয়তো লুকিয়েছিল লেখক হওয়ার ইশারা।
তারপর প্রাকৃতিক নিয়মেই বয়স বেড়ে চলে- লেখালেখির ঝোঁক জেঁকে বসে মনের ওপর। ছ'সাত বছর বয়সে ছাপার হরফে প্রকাশ পায় প্রথম লেখা- খুবই তুচ্ছ সে লেখা, দশ-বারো পঙ্‌ক্তির একটা ছড়া- প্রশ্রয় পায় কুষ্টিয়া জেলা বোর্ডের সাপ্তাহিক মুখপত্র 'যোগাযোগ' পত্রিকায়। তারপর অপটু হাতে লেখার মকশো শুরু হয় প্রবল উৎসাহে। স্থানীয় পত্রপত্রিকা, নানা উপলক্ষের সংকলন, স্কুল-কলেজের বার্ষিকী- অবশেষে সে-ঢেউ গিয়ে পৌঁছায় ঢাকার কাগজে। ষাটের দশকের উপান্তে কলেজে প্রবেশ সম্ভব হলো- পাওয়া গেল নতুন জীবনের স্বাদ- লেখাপড়া আর লেখালেখির পরিসর ও সুযোগ আরও বাড়ল। রাজনৈতিক আন্দোলনে দেশ তখন উত্তাল ও মুখর- সেই উত্থান ও জাগরণের স্পর্শ তীব্রভাবে লাগল মনে- লেখালেখিতেও তার স্পষ্ট ছাপ পড়ে। তার কিছু পরেপরেই শুরু হয় বাঙালির সর্বাত্মক মুক্তির লক্ষ্যে গৌরবময় এক মুক্তিযুদ্ধ- দেশান্তরী হয়ে মুক্তিযুদ্ধের কাজে সামান্য সম্পৃক্ত হই।
এই মুক্তিযুদ্ধের কালে অর্থাৎ ১৯৭১ সালে কলকাতা থেকে আমার প্রথম বই বেরোনোর সুযোগ হয় কবি ধীরেন্দ্র্র চট্টোপাধ্যায়ের আনুকূল্যে। তখন কবিতা লেখার একান্ত ঝোঁক ছিল- তাই প্রথম প্রকাশিত বই কবিতার, নাম- 'স্বদেশ আমার বাঙলা'। তাই আমার বইয়ের প্রথম পাণ্ডুলিপির কথা বললে এই বইটির প্রসঙ্গই প্রথমে আসে। দেখতে দেখতে গ্রন্থকার হিসেবে আমার লেখকজীবনের পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হলো এই সালে-২০২১-এ।
একটি বই যখন প্রকাশিত হয়ে পাঠকের হাতে আসে, তার আগে থাকে দীর্ঘ প্রক্রিয়া। রবীন্দ্রনাথ যেমন বলেছেন, সন্ধেবেলায় ঘরে ঘরে যে প্রদীপ জ্বলে, দিনের বেলা থাকে তার সলতে-পাকানোর পর্ব- একটি বই নির্মাণের পেছনেও থাকে তেমনি নানা প্রস্তুতি পর্ব। সে-ইতিহাস হ্রস্ব নয়- তুচ্ছ তো নয়ই।
লেখকজীবনের পঞ্চাশ বছরে আমার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা একশ পেরিয়ে গেছে বেশ আগেই। এর মধ্যে আছে কবিতা-প্রবন্ধ-গবেষণামূলক বই, পাশাপাশি সংকলন-সম্পাদনাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। সৃজনশীল রচনার অনুরাগী হলেও, এখন আমি আর এই ধারার লেখায় নিজেকে যুক্ত রাখতে আগ্রহী নই- প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা, গবেষণাধর্মী কাজ আর সংকলন-সম্পাদনায় অপার আনন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। তাই লুপ্তপ্রায় এবং দুষ্প্রাপ্য সাংস্কৃতিক তথ্য-উপাদান, বইপুস্তক, সাময়িকপত্র ও অন্যান্য মুদ্রিত-অমুদ্রিত সাহিত্য-উপকরণ সংগ্রহ ও ব্যবহার করে এসেছি। এই তথ্য-উপাত্ত-নিদর্শন সংগ্রহের কাজ করতে গিয়ে কত যে বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তা আমার স্মৃতির অক্ষয় সম্পদ হয়ে আছে।
আমার লেখালেখির বৈশিষ্ট্যের কথা বলতে গেলে উল্লেখ করতে হয়, মননশীল যে-লেখাই আমি লিখি না কেন, তার দীর্ঘ প্রস্তুতি থাকে। নতুন তথ্যের ব্যবহার বা উপস্থাপনের বৈচিত্র্য যাতে লেখায় থাকে, সে বিষয়ে আগাগোড়া সচেতন থাকার চেষ্টা করি। তাই উপকরণ সংগ্রহকে আমি খুব গুরুত্ব দিয়ে থাকি। এতে সময় ও শ্রম দিতে কখনও কসুর করিনি। শুধু ভারি কাজের ক্ষেত্রেই নয়, ছোট কাজের বেলাতেও এই মনোভাব বজায় থাকে। পরিসর কম, তাই বুড়ি-ছোঁয়ার মতো সংক্ষেপেই কিছু কথা এখানে পেশ করা হলো। গল্প-উপন্যাস-নাটক-কবিতার মতো সৃজনধর্মী রচনার জন্যও তথ্যানুসন্ধান যে-কত জরুরি তার উদাহরণ একশ একটা দেওয়া যায়। বঙ্কিমচন্দ্র-রবীন্দ্রনাথ-নবীনচন্দ্র সেন-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-সৈয়দ শামসুল হক-রিজিয়া রহমান-সেলিনা হোসেন-আনিসুল হক পর্যন্ত আপাতত সেই ধারা বহমান- তারা সবাই ইতিহাসের কাছে হাত পেতেছেন। যা-ই হোক, আমার কিছু অভিজ্ঞতার কথা এখানে তুলে ধরি।
আমার সারস্বতসাধনার কেন্দ্রে আছেন মহাত্মা লালন ফকির। লালন শুধু আমার পঠন-পাঠন আলোচনা-গবেষণার বিষয় নন- এই জীবনবাদী-মানবপ্রেমী মরমি মহাজন আমার চেতনার মর্মমূলে প্রেরণা সঞ্চারিত করেছেন- এক ভিন্ন অর্থে- এ তুচ্ছ জীবন হয়ে উঠেছে লালনময়- তারই ফসল লালন ও অনুষঙ্গী বিষয়ে প্রায় তিরিশটি গ্রন্থ। এসব বই শুধু দেশ নয়, দেশের বাইরে থেকেও প্রকাশ পেয়েছে। লালনের জীবন-সাধনা-দর্শন ও সংগীত নিয়ে আলোচনা করেছি নানা বইতে। 'লালনসমগ্র' নামে লালনের গানের একটি প্রামাণ্য সংকলন প্রকাশের সুযোগ পেয়ে আমি তৃপ্ত ও আনন্দিত। লালনের গান ও তার সম্পর্কে নানা তথ্যোপকরণ সংগ্রহের জন্য গ্রামে-গঞ্জে যেতে হয়েছে- যেমন, ঝিনাইদহের ভুলটিয়া ও চড়চড়িয়া, মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী রাজাপুর, কুষ্টিয়ার খলিসাকুণ্ডি ও বরিয়া, ছেঁউড়িয়া, বানিয়াকান্দি ও সিংঘড়িয়া-পাতেলদহ গ্রামে। তথ্য সন্ধানের এই যাত্রায় বেশির ভাগ সময়েই আমার সঙ্গী ছিলেন ফকির আনোয়ার হোসেন মন্টু শাহ- দুই বিদেশিনীর সঙ্গলাভের সুযোগও হয়েছে- তারা ড. ক্যারল সলোমন ও ড. রেবেকা ম্যানরিং। এই সংগ্রহ-অভিযান ফলপ্রসূ হয় ফকির শামসুদ্দিন শাহ, ফকির শুকুর শাহের উত্তরপুরুষ, ফকির নেহাজউদ্দিন শাহ, ফকির আবদুল রব শাহ, ফকির মসলেমউদ্দিন শাহ, ফকির ইসমাইল শাহের আত্মীয়স্বজন, সাধক-শিল্পী নটবরচন্দ্র বিশ্বাস ও আরও কারও কার সৌজন্যে। তাদের আন্তরিকতাপূর্ণ তুলনাহীন ফকিরি ভক্তি, উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ ও অভিভূত না হয়ে পারা যায় না। দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানের ফলে পাওয়া সম্ভব হয় লালনশিষ্য মনিরুদ্দিন শাহ লিপিকৃত লালনের গানের খাতা, লালনগীতির আদি সূচিপত্র, লালন-সম্পাদিত জমির কবালা-দলিল, দুষ্প্রাপ্য মুদ্রিত কিছু বই ও পাণ্ডুলিপি। এসব গান, তথ্যদলিল, চিত্র-আলোকচিত্র ও সেই সঙ্গে লালন সম্পর্কে প্রথম পর্বের প্রাচীন ও উত্তরকালের নির্বাচিত প্রবন্ধ-নিবন্ধ সহযোগে কোষগ্রন্থের আদলে নির্মিত হয়, 'লালনসমগ্র'- যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার দীর্ঘকালের স্বপ্ন ও শ্রম।
পুরোনো চিঠিপত্র, ডায়েরি, পাণ্ডুলিপি, বই ও সাময়িকপত্র সংগ্রহ করে তা ব্যবহার করেছি- এ বিষয়ে অনেকগুলো বইও বেরিয়েছে। কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ মীর মশাররফ হোসেনের 'হিতকরী' পত্রিকা, ঢাকার পাঠক সমাবেশ মশাররফের অপ্রকাশিত ডায়েরি, রবীন্দ্রনাথের অপ্রকাশিত পত্রাবলি, মুসলিম সাহিত্য সমাজের অপ্রকাশিত কার্যবিবরণী, তিরিশের কবিদের পত্রাবলি, বাংলা একাডেমি কাজী আবদুল ওদুদের পত্রাবলি, পলল প্রকাশনী 'অন্নদাশঙ্কর রায়ের চিঠিপত্র প্রকাশ করেছে- কিছুবা প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। এসব কাজে পেয়েছি অপার আনন্দ, আমার উৎসাহ নির্বাপিত হয়নি- আশা করি কখনও হবেও না। শান্তিপুরের কবি মোজাম্মেল হক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একসময়ের উপাচার্য ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদারের অনেক বছরের ডায়েরি সংগ্রহের সুযোগ হয়েছে এই দু'জনের পরিজনদের সৌজন্যে। অন্নদাশঙ্কর রায় ও সুরজিৎ দাশগুপ্ত তাদের কাছে লেখা চিঠিপত্র সানন্দে উপহার দিয়েছেন আমাকে। কবি মোজাম্মেল হকের কনিষ্ঠ পুত্র এম. আশরাফউল হকের সৌজন্যে তার পিতাকে লেখা সেকালের বিশিষ্ট লেখক-সম্পাদকের অনেক মূল্যবান চিঠিপত্র সংগ্রহের সুযোগ হয়েছে। আশরাফউল হক ও আমার শিক্ষক পুঁথি-বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আলী আহমদের আনুকূল্যে পেয়েছি মীর মশাররফ হোসেনের দুষ্প্রাপ্য বই ও পত্রিকা। মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ কাগজপত্র উপহার দিয়েছেন নদীয়ার কৃষ্ণনগরবাসী নেতাজির অনুরাগী শিবরাম গুপ্ত। এসব উপকরণ কিছু ব্যবহূত হয়েছে- কিছু ব্যবহারের অপেক্ষায় আছে। এই আকর তথ্যোপকরণ সংগ্রহের কাহিনি চমকপ্রদ, তার বিশদ বিবরণ দিতে গেলে তাই-ই একখানা বইয়ের আকার নেবে। আমার আগ্রহ ও অনুরাগ গানের ভুবনে প্রবেশেও উদ্বুদ্ধ করেছিল। এই কথা বলেই পাণ্ডুলিপির আখ্যান শেষ করব। এক সময় মনে হলো গ্রামোফোন বা কলের গান ও এর পুরোনো দিনের প্রায়-বিস্মৃত শিল্পীদের নিয়ে লিখব- বই করব। এ কথা শুনে আমাকে খুব উৎসাহ দেন সংগীতপ্রেমী চিত্রকর কাইয়ুম চৌধুরী। এ কাজের জন্য বাংলাদেশে উপকরণ পাওয়া সহজ ছিল না। শুধু নজরুলসংগীত বিশেষজ্ঞ আবদুস সাত্তারের সংগ্রহ থেকে সহায়তা পেয়েছি। এর জন্য আমাকে ছুটতে হয় কলকাতায়। গ্রামোফোনের যুগ ততদিনে শেষ- রূপান্তরিত হয়ে তখন মাত্র তিনটি কোম্পানি বেঁচে আছে : হিজ মাস্টার্স ভয়েস, জিতেন্দ্র্রনাথ ঘোষের মেগাফোন ও চণ্ডীচরণ সাহার হিন্দুস্থান রেকর্ড। এইচএমভি তখন শিল্পপতিদের হাতে, আর শেষের দুটি পরিচালনা করেন নিঃসন্তান জিতেন ঘোষের নিঃসন্তান ভাইপো কমল ঘোষ ও চণ্ডীচরণ সাহার কনিষ্ঠ পুত্র ইনরেকোর প্রতিষ্ঠাতা শোভন লাল সাহা। কমল ঘোষ ও শোভন লালের সঙ্গে অল্পদিনেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিরিশের দশকে প্রায় কাছাকাছি সময়ে মেগাফোন ও হিন্দুস্থান রেকর্ডের সঙ্গে বিভূতি সেনের সেনোলা রেকর্ড কোম্পানিরও জন্ম হয়। সেনোলা এখন বিলুপ্ত, তবুও বিভূতি সেনের পৌত্র সোমনাথ সেনের সঙ্গে পরিচয় হলে তার কিছু সহায়তা পাই। কলকাতায় সুরজলাল মুখোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠিত মিউজিক আর্কাইভ সুরজ-শ্রুতি-সদন থেকে প্রচুর সহায়তা মেলে তার বর্তমান পরিচালক অমিত গুহর সুবাদে। এই কাজ করতে গিয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তিরিশের যুগের কলের গানের কিংবদন্তি শিল্পী যূথিকা রায়ের সঙ্গে। ফলে তার একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার গ্রহণের সুযোগও ঘটে। মেগাফোন রেকর্ড কোম্পানির ফেলে দেওয়া কাগজপত্রের ভেতরে পেয়েছিলাম নজরুল-অজয় ভট্টাচার্য-জসীম উদ্‌দীন-পান্না কাওয়াল-কমলা ঝরিয়া-তুলসী লাহিড়ী-বেগম আখতার-সরযূদেবী প্রমুখের দুষ্প্রাপ্য মূল্যবান নানা তথ্য। 'বাঙালির কলের গান' নামে এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি তৈরিতে উদার ও আন্তরিক সহায়তা পেয়েছিলাম শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী ও 'কালি ও কলম' সম্পাদক আবুল হাসনাতের। এই বইয়ের একটি অসাধারণ প্রচ্ছদ এঁকে দিয়েছিলেন কাইয়ুম চৌধুরী। বইটি প্রকাশ পেয়েছিল বেঙ্গল পাবলিকেশনস থেকে। এ রকম আরও একটি উচ্চমানের বই প্রকাশ করেছিল জার্নিম্যান গ্রন্থসজ্জা তারিক সুজাতের- বিষয় : 'সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অপ্রকাশিত পত্রাবলি'।
পাণ্ডুলিপি তৈরির কাজে অনেক কীর্তিমান মানুষের পরামর্শ ও সহায়তা পেয়েছি। 'অবিদ্যার অন্তঃপুরে' নামে বারবনিতাদের নিয়ে আমার একটি বইয়ের পরিকল্পনা। তথ্য সংগ্রহ ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে আগাগোড়া জড়িত ছিলেন লেখক-চিত্রকর মুর্তজা বশীর।
পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতের দায়িত্ব লেখক আর গ্রন্থ নির্মাণে থাকে প্রকাশকের ভূমিকা। তবে সব প্রকাশকই যে এ বিষয়ে আন্তরিক ও নিষ্ঠ তা বলা চলে না। ভুল বানান, বিষয়ের সঙ্গে বেমিল প্রচ্ছদ, নিম্নমানের কাগজ-ছাপা-বাঁধাই নিয়ে বইই বেশি বের হয়। তবে এখন কোনো কোনো প্রকাশক এসব বিষয়ে ভাবেন- এ বড় আশার কথা।
একটি পাণ্ডুলিপির কাজ শেষ হলে লেখকের কাছে তা হয়ে ওঠে গর্ভ খালাসের মতো আনন্দ ও স্বস্তির ব্যাপার- তবে তা নিতান্ত সাময়িক। কেননা, পাণ্ডুলিপির আরেকটি কাজ পায়ে পায়ে এসে হাজির হয়। এই অনুবর্তন লেখকের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে।
শেষ করব রবীন্দ্রনাথের কথা দিয়ে। রবীন্দ্র্রনাথের সব কাজেই ছিল সুরুচি ও পারিপাট্যের ছাপ- বই প্রকাশেও তা বজায় থাকত। তার বইয়ের অনেক পাণ্ডুলিপিই তিনি নিজে বা তার নির্দেশনায় অন্য কেউ প্রস্তুত করতেন। বই নির্ভুল করার প্রয়োজনে সময় পেলে নিজেই প্রুফ দেখতেন- হরফের আকার, কাগজ-ছাপা-বাঁধাই নিয়েও তার স্পষ্ট মতামত জানাতেন। বই লেখার মতো বই প্রকাশের বিষয়টিও যে গুরুত্বপূর্ণ তা তিনি মান্য না করে পারেননি। আমাদের এখনকার ক'জন লেখক এ নিয়ে ভাবেন, সে প্রশ্ন তো কেউ না কেউ তুলতেই পারেন!