অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুকে তার স্বামী খন্দকার সাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বন্ধু এসএম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদ দুজনে মিলেই হত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুজনকে তিন দিন জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ-দক্ষিণ) হুমায়ুন কবীর।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই হত্যার পেছনে অন্য কোনো রহস্য থাকলে সে বিষয়েও জানানো হবে। কী কারণে শিমুকে হত্যা করা হয়েছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নোবেল ও ফরহাদ গত বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশ আরও তদন্ত করছে।

কেরানীগঞ্জ সার্কেল এসপি সাহাবুদ্দিন কবির বলেন, নোবেলের বাল্যবন্ধু ফরহাদ প্রায়ই কলাবাগান এলাকায় তার বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। গত ১৬ জানুয়ারি আনুমানিক সকাল ১০টায় বন্ধু ফরহাদ তাদের কলাবাগানের বাসায় যান। এ সময় নোবেল তার স্ত্রী শিমুকে চা বানাতে বলেন। চা দিতে দেরি হওয়ায় নোবেল কিচেন রুমে গিয়ে দেখতে পান শিমু মোবাইল ফোন দেখছেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে শিমুকে একা কাবু করতে পারছিলেন না নোবেল। তখন ফরহাদ এসে বন্ধুর পক্ষ নেন। একপর্যায়ে শ্বাসরোধে শিমুর মৃত্যু হয়।

১৭ জানুয়ারি দুপুরে স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর সেতুর কাছে আলিয়াপুর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে বস্তাবন্দি শিমুর লাশ উদ্ধার করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। পরে মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তা শনাক্ত করেন তার বড় ভাই খোকন।