বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাসটির নাম 'রাইফেল, রোটি, আওরাত'। বন্দিশিবিরের ভয়াবহতার মধ্যে বসে আশার অভয়বাণী শোনানোর এমন গল্প বিশ্বসাহিত্যে বিরল। একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর আলবদরের ঘাতকরা আনোয়ার পাশাকে নিয়ে যায়। আমরা কেবল পাই তার ক্ষতবিক্ষত লাশ আর অবরুদ্ধ রাজধানীতে বসে লেখা উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি। লেখক আনোয়ার পাশা ২৫ মার্চের হত্যাযজ্ঞ পেরোতে পারলেও পার হতে পারেননি ১৪ ডিসেম্বর। একাত্তরের মাত্র তিন মাসের গল্প। কিন্তু তা যেন এক যুগ। পটভূমি বধ্যভূমি ঢাকা শহর থেকে বাংলাদেশের নিভৃত এক গ্রাম। যখন জীবন নিয়ে পালিয়ে বাঁচতে হচ্ছে দেশের ভেতর থেকে আরও ভেতরে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার এই অধ্যাপক লিখছেন দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক কিন্তু গৌরবময় সময়ের দলিল।
আনোয়ার পাশা মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর মহকুমার রাঙ্গামাটি চাঁদপাড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত ডবকাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা সন অনুযায়ী তার জন্ম হয় ২ বৈশাখ ১৩৩৫। তিনি ১৯৪৬ সালে মাদ্রাসা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে কৃতকার্য হন। কিন্তু ১৯৪৮ সালে আইএ পরীক্ষা দিয়ে পাস করেন বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে। এরপর তিনি চলে আসেন রাজশাহী কলেজে। এখান থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক পাস করেন ১৯৫১ সালে এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যেই স্নাতকোত্তর সম্মাননা অর্জন করেন।
মানিকচক হাই মাদ্রাসায় শিক্ষকতার মাধ্যমে আনোয়ার পাশার কর্মজীবন শুরু। পরে তিনি ১৯৫৪ সালে ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসায় এবং ১৯৫৭ সালে সাদিখান দিয়ার বহুমুখী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং পরবর্তী সময়ে এ কলেজেরই বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত থাকেন।
১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অস্থায়ী প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে ১৯৬৯ সালে অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী অধ্যক্ষ থাকাকালে তিনি স্থায়ী প্রভাষক হন। ১৯৭০ সালে তিনি জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদে পদোন্নতি পান। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এখানেই কর্মরত ছিলেন।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাহায্যকারী আলবদর গোষ্ঠীর একটি দল তাকে বিশ্ববিদ্যালয় আবাসন থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায় এবং মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাছে হত্যা করে।
আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক। তার সাহিত্যকর্মে ফুটে ওঠে দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনা। তার সাহিত্য জীবনের সূচনা ছাত্রাবস্থায়। রাজশাহী কলেজে বিএ শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি 'হাস্নাহেনা' শিরোনামে একটি রম্যরচনা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাইফেল, রোটি, আওরাত' রচনার জন্য তিনি মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। এ ছাড়া তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে- উপন্যাস :নীড় সন্ধানী (১৯৬৮), নিশুতি রাতের গাথা (১৯৬৮)। কাব্য :নদী নিঃশেষিত হলে (১৯৬৩), সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী (১৯৭৪), অন্যান্য কবিতা (১৯৭৪)। সমালোচনা :সাহিত্যশিল্পী আবুল ফজল (১৯৬৭)। রবীন্দ্র ছোটগল্প সমীক্ষা (প্রথম খণ্ড-১৯৬৯, দ্বিতীয় খণ্ড-১৯৭৮)। গল্পগ্রন্থ : নিরুপায় হরিণী (১৯৭০)।
প্রশ্ন
১। উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশতি হয়েছিল?
২। আনোয়ার পাশাকে কোথায় সমাধিস্থ করা হয়?
৩। উপন্যাসটি একাত্তরের কোন মাসে লেখা শুরু হয় এবং শেষ হয় কোন মাসে?
কুইজ ৫১-এর উত্তর
১। ৪০টি
২। 'উত্তরাধিকার'
৩। ২০১১ সাল

কুইজ ৫১-এর জয়ী
ডা. সায়ফুল ফেরদৌস
সিরাজগঞ্জ

রিপন চন্দ্র পাল
ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

নিয়ম
পাঠক, কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন ৫ এপ্রিল মঙ্গলবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।