দু'দিকে দৃষ্টি মেলে দিলেই এখন দেখা মেলে গাছে গাছে কাঁচা আমের সমাহার। আমের এমন মেলা দেখলে মনের দৃশ্যপটে এক ঘটনা ভেসে ওঠে। দু'বছর আগের ঘটনা, তখন গাছের আমগুলো সবে এক-আধটু হূষ্টপুষ্ট হচ্ছিল। গাছে গাছে কাঁচা আমের হাট বসেছিল। দৃষ্টি যেদিকে যায়, শুধু কাঁচা আমের দেখা মেলে। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে আমের সর্বনাশ। সেই সঙ্গে বৈরী হাওয়া আমগুলোকে দুলে দুলে নৃত্য করে ঝড়ে পড়ে। তবে শীতল আবহে কিছু আম আবার বেশ টসটসে নাদুসনুদুস হয়। তবে বেশিরভাগ আম কাঁচা থাকায় মনে হয় আমের কাঁচা রং হাতছানি দিয়ে যেন সবাইকে ডাকছিল। এমনি দিনে আমি শহর থেকে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে এসেছিলাম। বৈশাখী মাতাল হাওয়া চারদিক উড়িয়ে নিচ্ছিল।

ছেলে-ছোকরার দল গাছে উঠে লবণ-মরিচ দিয়ে কাঁচা আম খাচ্ছিল। আমি তখন বেশ শহুরে শহুরে ভাব নিয়ে বাবু সেজে থাকতাম। গাছে ওঠার সাধ্য আমার নেই। অবশ্যই আম খাওয়ার এত শখও মনে জাগেনি। যদি কখনও আমের জন্য মন আনচান করত, তখন ধৈর্য ধরে থাকতাম। কিন্তু এই ধৈর্যের বাঁধ একসময় ভেঙে গেল। বিপত্তিটা বাধল তখন। যখন আমার মতো আরও একজন আমাদের বাড়ি বেড়াতে এলো। তার নাম 'নিলা'। আমাদের বাড়ি হচ্ছে তার মামার বাড়ি। সম্পর্কে আমার ফুফাতো বোন। সবে অষ্টম শ্রেণি পাস করেছে। মামার বাড়িতে আমের সিজনে আম খেয়ে মুখ রঙিন করতে এসেছে সে।

আমার মনে হলো, সে খুব আমপাগলি। সারাদিন শুধু আম খাচ্ছে। চেটে চেটে কাঁচা-পাকা আম খাচ্ছে। সঙ্গে আছে লবণ-মরিচের বিশাল আয়োজন। সে আম খেতে খেতে আমার সামনে আসে। ঘুরেফিরেই আমার সামনে পড়ে। আমাকে কুশলাদি জিজ্ঞেস করে। কথার ফাঁকে ফাঁকে লবণ-মরিচ দিয়ে কাঁচা আম চাটে। তার এমন কর্মে আমি অন্তরজ্বালায় ভুগতে থাকি। আমার সামনে তার বারবার আম চাটা দেখে আমার জিভের জল হইচই বাধিয়ে দিচ্ছিল। কিছু কইতেও পারি না, আবার সইতেও পারি না। আবার তাকে বলতেও পারি না, 'আমার সামনে থেকে যাও'- মুখও ঘুরিয়ে রাখতে পারি না। যদি কিছু মনে করে! সেও সাধে না। মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম, সাধলে খাইব। কিন্তু আমার আশায় গুড়ে বালি দিয়ে সেও সাধে না। অবশেষে একদিন সে সাধিল,

-'ভাইয়া খাবেন?'
তার প্রশ্নে আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলাম।
সে আবারও সাধিল, 'এই যে, আম খাবেন?'
আমি আবারও কিছু না বলে চুপ থাকলাম।
সে আবারও ঢং করে সাধিল- 'খাবেন?'
আমি কিছু না বলায় এবার সে আমসহ লবণ-মরিচ
আমার দিকে বাড়িয়ে দিল। আমিও মুচকি হাসি দিয়ে টেনে নিলাম।
সুহৃদ ছাগলনাইয়া, ফেনী