বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বকোণে অবস্থিত একটি নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান পার্বত্য জেলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জনবৈচিত্র্য এ জেলাকে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আলাদা করে দিয়েছে। এই জেলায় পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট ১১টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সবকটিরই বসবাস রয়েছে। এরা হলো- মারমা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, চাকমা, বম, পাংখোয়া, লুসাই, খেয়াং, খুমি ও চাক। তাদের রয়েছে নান্দনিক সাংস্কৃতিক জীবন। এ জনপদের জীবনধারায় যেমন রয়েছে বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য, তেমনি এখানেই রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদের বিপুল সমাবেশ। বলতে গেলে প্রাকৃতিক সম্পদের বৈচিত্র্যময় উপস্থিতিই এখানকার ১১টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সংস্কৃতি ও জীবনধারাকে বৈচিত্র্যময় করেছে। এই বৈচিত্র্যের ভেতরে সংহতি ও সম্প্রীতি রচনা।
ম্রোদের সঠিক ইতিহাস আরাকানির ইতিহাস থেকে মোটামুটি জানা সম্ভব। মারায়ো রাজার রাজত্বকাল থেকে শুরু করে শেষ রাজা পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার বছর ধরে ম্রো রাজাগণ আরাকান শাসন করেছে বলে আরাকানির ইতিহাস থেকে জানা যায়। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক আবদুল হক চৌধুরী তার 'প্রাচীন আরাকানে রোয়াইঙ্গা হিন্দু ও বড়ূয়া বৌদ্ধ অধিবাসী' নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন- "ব্রহ্ম দেশের 'রাজোয়াং' নামক কাহিনির সূত্রে জানা যায় যে, মারু (গৎড়) বংশীয় রাজাগণের সিংহাসন আরোহনকাল খ্রিষ্টপূর্ব ২৬৬৬ বছর পূর্বে। এই বংশের রাজাগণ বংশপরম্পরায় ১৮৩০ বছরকাল আরাকানে রাজত্ব করেন। এ বংশের শেষ রাজা আমলে আরাকানে প্রজারা বিদ্রোহী হয়ে রাজাকে হত্যা করে। তখন রানী দুই কন্যাসহ 'কাউক পান্ডায়ূং' পর্বতমালায় আশ্রয় গ্রহণ করে।"
ডেঙ্গ্যাওয়াদি ম্রো রাজবংশ পটনের বহু বছর পর পুনরায় ৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ম্রো রাজাগণ আরাকানের শাসনভার গ্রহণ করেন। Sir Artho Phayre তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘History of Buema’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, "৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে মিয়ো (Myu) ম্রো গোত্রপ্রধান Amyathu সুলতইঙ্গচন্দ্রকে (Chulotaing chandra) উৎখাত করে আরাকান সিংহাসন দখল করেন এবং তিনি ও তার ভ্রাতুষ্পুত্র Pai-Phyu ৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে পর্যন্ত অবধি রাজত্ব করেন। Pai-phyu-কে পদচ্যুত করে ৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে শেষার্ধে আরাকানে ভূতপূর্ব রাজা সুলতইঙ্গচন্দ্রের পুত্র নাগপিন্নগটন (Nagapington) পুনরায় আরাকানের সিংহাসন দখল করেন।"
জন্ম
ম্রো সমাজে মাতৃসদনের পদ্ধতি অত্যন্ত অদ্ভুত এবং সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে হয়ে থাকে। প্রসূতি মায়ের প্রসবের বেদনা উঠলে ধাত্রীমাতাকে আঁতুর ঘরে ডেকে আনা হয়, যাতে প্রয়োজনের মুহূর্তে তাৎক্ষণিক প্রসূতির সন্তান প্রসবের ব্যবস্থা করতে পারে। শিশুর জন্মের পর ধাত্রী ও সহকারীগণ 'ছন' ও 'উইয়াসক' নামক এক প্রকার বৃক্ষের পাতা হাতের মুঠোয় ঘর্ষণ করে গরম পানি দিয়ে হস্তধোয়া করা হয়। হাত ধোয়া শেষ হলে শিশুর নাম ঠিক করা হয়। শিশুর দাদিমা, নানি যে কোনো একজন কাঁচা হলুদ সমান দুই ভাগে বিভক্ত করে শিশুর পছন্দের নাম উচ্চারণ করে। এরপর শিশুর শিয়রের দিকে হলুদের টুকরো নিক্ষেপ করা হয়। হলুদের টুকরো যদি এপিঠ-ওপিঠ অবস্থান করে, তাহলে শিশুর নাম পছন্দ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। আর যদি হলুদের টুকরোগুলো একই পিঠ অবস্থান করে দেখা যায়, তাহলে শিশুটি নাম পছন্দ হয়নি বলে তখন পুনরায় ধাত্রীমাতা নতুন শিশুটির নাম নির্বাচন করেন। নাম পছন্দের ক্ষেত্রে দাদি ও নানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সম্মানস্বরূপ ধাত্রীকে ১০০ টাকা ও একটি পুতির মালা দেওয়ার বিধি রয়েছে।
শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই প্রসূতি মাকে খাড়াভাবে উনুনের পাশে বসিয়ে আগুনের তাপ নিতে হয়। যদি কোনোভাবে শুয়ে পড়ে, তাহলে সমস্ত দূষিত রক্ত কণিকা মস্তিস্কের শিরায় চলে যায় বলে তাদের বিশ্বাস। এ সময় সাত দিন সাত রাত প্রসূতি মাকে লবণ ও পানি দিয়ে খাবার দেওয়া হয়। সন্তান জন্মদানকালে প্রসূতি মাকে কোনো আমিষ জাতীয় খাদ্য খেতে দেওয়া হয় না। এ সময় 'বংরঙ' ও 'ক্লেংসি' নামক এক প্রকার ভেষজ উদ্ভিদের পাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করে দিনে তিনবার করে মাথা ধুতে হয়। এ ধরনের ঔষধি উদ্ভিদ প্রসূতি মায়ের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাতে কোনো মাথা ঘোরা বা বাত রোগ হতে পারে না। শিশুর ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাত দিন পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মাকে ঘরের বাইরে যেতে দেওয়া হয় না। বাইরে গেলে শিশুটির ওপর অশুভ প্রভাব পড়বে বলে তাদের বিশ্বাস। গর্ভাবস্থায় ডিম খাওয়া নিষেধ। তখন ডিম খেলে নাকি সন্তানের মাথা বড় হয়। প্রসবের সময় মায়ের কটিদেশে সন্তান আটকে যায়। চাঁইয়ের ধরা মাছ, ফাঁদে আটকে যাওয়া জীবজন্তুর মাংস, বড়শি দিয়ে ধরা মাছ খাওয়া নিষেধ। খেলে নাকি সন্তান প্রসবের সময় মায়ের খুবই কষ্টভোগ করতে হয়।
বিবাহ
বিবাহের আগে বর-কনে দুই পরিবারের মধ্যে কথাবার্তা চালানোর একটা নিয়ম বিদ্যমান। ম্রো সমাজে সাধারণত অভিভাবক বা মা-বাবার ইচ্ছায় ছেলেমেয়ের বিয়ে হয়। বিবাহের সময়কাল সাধারণত ইংরেজি ডিসেম্বর হতে মার্চ পর্যন্ত হয়ে থাকে। তখন তাদের তেমন কাজের ব্যস্ততা থাকে না। শীতের মৌসুম এলেই বিবাহযোগ্য অভিভাবক মা-বাবারা পুত্রবধূ নির্বাচনের লক্ষ্যে যে পাড়ায় বিবাহে বৈধ সম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজন থাকে, সেই পাড়ায় বেড়াতে যায়। যদি পুত্রবধূ হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন পাত্রী থাকে, তাহলে ছেলের পছন্দ হচ্ছে কিনা তা যাচাই করার জন্য কয়েক দিন পরে ছেলেকে পাত্রীর কাছে পাঠানো হয়। ছেলেটি বন্ধু-বান্ধব নিয়ে 'চামপোয়া' (আড্ডা) আসর জমিয়ে কনের সঙ্গে গল্প করতে করতে তার বউ হওয়ার উপযুক্ত আছে কিনা, তা যাচাই করে। যদি তার পছন্দ হয়ে থাকে, তাহলে ফিরে এসে মা-বাবাকে তার সম্মতি জানায়।
উভয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করে, তাহলে বিবাহের শুভ দিনক্ষণ ঠিক করা হয়। সঠিক দিনক্ষণ ধার্য করা হলে ৩০টি রৌপ্য মুদ্রা, তিনটি রৌপ্য মুদ্রা সমান মূল্যের একটি বল্লম, একটি তলোয়ার, একটি তীর এক সপ্তাহ পর কনের পিতাকে দিয়ে আসতে হয়। এটা বিবাহের চূড়ান্ত বায়না, অর্থাৎ Engagement|
বরপক্ষের আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে বিবাহের এক দিন আগে কনের বাড়িতে গিয়ে বউ আনতে হয়। এই অনুষ্ঠানকে কনে আনা বা বধূবরণ অনুষ্ঠান বলে। বধূবরণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় কনেপক্ষ অতিথিদের খাবার জন্য ৩০-৪০টি মোরগ-মুরগি নিয়ে যেতে হয়। অপর পক্ষে, বরপক্ষ আগত অতিথিদের খাবার জন্য পাঁচ মুট্ট্যা মর্দ্দা শূকর জবাই করে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে হয়। উল্লেখ্য যে, ম্রো সমাজে সামাজিক রীতি অনুসারে শ্বশুর বা মামার বাড়িতে মোরগ-মুরগির মাংস খাওয়া নিষেধ এবং জামাই বা ভাগ্নের বাড়িতে শূকরের মাংস খাওয়া নিষেধ।
পরদিন কনেকে নিয়ে এসে বরের বাড়িতে বিবাহে আবদ্ধ করা হয়। ম্রো সমাজে বিবাহ হলে অবশ্যই 'বংকম' করা বাঞ্ছনীয়। বংকম না করলে বিবাহ অবৈধ্য বলে পরিগণিত হবে। আর বংকমের জন্য শূকরের পিঠের সাতটি কেশ তুলে সাত গাচ্ছি কার্পাস সুতায় বেঁধে বর ও কনের ডান হাতের কবজিতে বাঁধতে হয়। বংকম হলো কনেকে গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তকরণ করা। বংকম শেষ হলে দুপুরবেলা বউভাত খাওয়ানো হয়।
বিবাহের দ্বিতীয় দিনে মাংতাং (পণ/দেনমোহর) আদান-প্রদান করা হয়। পইদাং (বেতের নির্মিত এক প্রকার টেবিল)-এর ওপর খাবার সাজিয়ে কনের পিতার জন্য মুরগির মাংস ও মদ দিয়ে মাংতাং প্রদান হয়। তারপর খাবার শেষ হলে বরের পিতা কুলার ওপর ১০০টি রুপার মুদ্রা, তিনটি বল্লম, দুটি দা, একটি তিম (নিড়ানি), একটি তলোয়ার কনের পিতার হাতে মাংতাং প্রদান করবে।
তা ছাড়া কনের মাকেও ১০টি রুপার মুদ্রা দিতে হয় 'ইয়নতুই চিয়া' দুধের দাম হিসেবে। দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণের পর দুগ্ধদানসহ মা তার মেয়েকে লালনপালন করেছে বলে ম্রো সমাজে মাকে দুধের দাম দিতে হয়। তবে ছেলেদের জন্য প্রযোজ্য নয়। এ সময় কনের যদি প্রথম সন্তান হয়, তাহলে কনের মামাকে 'চুম্মুয়া' (জোড়ামূল্য) হিসেবে পাঁচটি রুপার মুদ্রা দিতে হয়।
মৃত্যু
ম্রো সমাজে কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে সঙ্গে সঙ্গে একটি কুকুর ও একটি মুরগি জবাই করা হয়। ম্রোরা বিশ্বাস করে, মৃত্যুর পর মৃত্যের আত্মা স্বর্গে চলে যায়। স্বর্গে যাওয়ার পথে কুকুর হলো আত্মার পথপ্রদর্শক আর মুরগি হলো আত্মার সঙ্গী। তারা মনে করে, আত্মা যখন স্বর্গে যায়, তখন শয়তানরা পথের মধ্যে শুয়া পোকার রূপ ধারণ করে আক্রমণ করে। তখন মুরগি পোকাগুলোকে খেয়ে ফেলবে- এই ধারণা থেকে কোনো ম্রো যখন মারা যায়, তখন কুকুর ও মুরগি হত্যা প্রচলিত। মৃত্যুর পরপরই মৃতদেহ গরম কুসুম জল দ্বারা গোসল করানো হয়। তারপর নতুন গিলাব কাপড় পরিয়ে পর্যঙ্গ বা কফিনের ভেতর রাখা হয়। ম্রো সমাজে কোনো লোক মৃত্যুবরণ করলে মামা অথবা মামার গোষ্ঠীর লোকজন মৃতদেহ শনাক্ত করে থাকে। স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি অস্বাভাবিক মৃত্যু, তাকে হত্যা করা হয়েছে, নাকি সে নিজেই আত্মহত্যা করেছে? তা ছাড়া কফিন সঠিকভাবে বানানো হয়েছে কিনা ইত্যাদিও মামারা দেখে থাকে।
যত দিন ঘরে মৃতদেহ রাখা হয়, তত দিন মৃতদেহ পাহারা দিতে হয়। লাশ রাখা অবস্থায় ঢাক, ঢোল ও তু (এক প্রকার বাঁশি) বাজানো হয়। এ সময় ঢাকঢোল বাজানো হয় ভূত-প্রেত তাড়ানোর উদ্দেশ্যে। ঢোল-বুলের সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন যুবক হাতের দা দিয়ে শূন্যে কোপাতে কোপাতে ভূত-প্রেত তাড়ানোর নৃত্য পরিবেশন করে। তখন পাড়াবাসী সবাই মৃতের ঘরে এসে সমবেদনা জানায়। এভাবে রাত জেগে জেগে লাশ পাহারা দিতে হয়। উল্লেখ্য যে, সবাই যদি রাতে ঘুমিয়ে যায়, তাহলে শয়তান মৃতদেহের ভেতর প্রবেশ করে লাশটি জীবিত হয়ে মানুষকে ধরে খেয়ে ফেলবে বলে ম্রোরা বিশ্বাস করে।
মৃতদেহ পোড়ানোর জন্য পাড়ার প্রত্যেক পরিবার থেকে গৃহিণীরা এসে এক আঁটি করে লাকড়ি দান করে। ওই লাকড়ি দিয়ে শব দাহ করা হয়। যার লাকড়ি দিয়ে মৃতদেহ পোড়ানো হয়, তারা পুণ্যলাভ করে। ঘর হতে মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার সময় পা থেকে মৃতদেহ নামাতে হয়। আগে মাথা নামালে আত্মা কষ্ট পায় বলে তারা বিশ্বাস করে। কোনো পাড়ার মধ্য দিয়ে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া ম্রো সমাজে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো পাড়ার মধ্য দিয়ে মৃতদেহ নিয়ে গেলে সেই পাড়া অশুচি হয় বলে ম্রো সমাজের বিশ্বাস। পথে যদি কোনো পাড়া পড়ে, তাহলে পাড়ার পাশ দিয়ে বিকল্প রাস্তা তৈরি করে লাশ নিয়ে যেতে হয়। শ্মশানে পৌঁছালে মৃত ব্যক্তি যদি পুরুষ হয়, তাহলে তিন স্তর আর নারী হলে পাঁচ স্তর লাকড়ি সাজিয়ে চিতা তৈরি করা হয়। আরও উল্লেখ্য যে, নারীরা জ্বালানি সংগ্রহ করে বলে পাঁচ স্তর লাকড়ি দিয়ে চিতায় সাজানো হয়, আর পুরুষরা জ্বালানি সংগ্রহ করে না বলে তিন স্তর লাকড়ি সাজিয়ে চিতা তৈরি করতে হয়। পক্ষান্তরে, মৃত ব্যক্তি পুরুষ হলে পূর্বমুখী আর নারী হলে পশ্চিমমুখী করে মৃতদেহ চিতায় শোয়ানো হয়। যার অর্থ হলো, পুরুষরা সকালে জুমে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন ভোরে পূর্বদিকে তাকিয়ে থাকে- কখন সূর্য উঠবে, আর নারীরা প্রতিদিন বিকেলে পশ্চিম দিকে তাকিয়ে থাকে- কখন বাড়ি ফেরার সময় হবে।
ম্রোরা খালের কিনার, নদীর ধারে শ্মশান গড়ে তোলে। এর কারণ হলো- লাশ দাহ করার সময় মৃতের আত্মারা নাকি আগুনের তাপ কম পাবে, আর লাশ দাহ করার পরপরই চিতার আগুন নেভানো সহজ হয়। শ্মশানে শবদাহ নিয়ে যাওয়ার পর ঘরের সমস্ত চুলার আগুন নেভাতে হয়। কয়লা, ছাই সব পরিস্কার করে নতুনভাবে চুলা জ্বালাতে হয়। ঘর-মেঝ গরম পানি দিয়ে পরিস্কার করে ধুয়ে ফেলতে হয়। শবদাহ শেষ হলে সন্ধ্যায় গৃহ শুচিতার লক্ষ্যে একটি শূকর হত্যা করে 'ইয়ংছিড়ি' পরিশুদ্ধিতা গৃহপূজার আয়োজন করতে হয়। তখন পাড়াবাসী সবাইকে খাবার নিমন্ত্রণ করা হয়। রান্না শেষে এক প্লেট ভাত ও এক বাটি তরকারি মৃত আত্মার জন্য দরজায় দাঁড়িয়ে উঠানে নিক্ষেপ করা হয়।