- কেমন আছেন, কেমন চলছে দিনকাল?
-- ভালো আছি। জীবন চলছে নিজস্ব গতিতে, কখনও ধীরে কখনও দ্রুত।
আজ প্রায় এক বছর ধরে আমরা আটলান্টিকের ধার ঘেঁষে দাঁড়ানো আমেরিকার একেবারে দক্ষিণ-পূর্বকোণের অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডায় বাস করছি বলে দেশের মতো আবহাওয়ায় দিন কাটছে।
- ব্যক্তিগত জীবনে কোনো বিশেষ ঘটনা আপনাকে প্রভাবিত করেছিল?
-- বাবার অতি উৎসাহ। প্রতিষ্ঠিত লেখক স্বামী।
- আত্মপ্রকাশলগ্নে কোনো প্রতিবন্ধকতার কথা আপনার মনে পড়ে?
-- না। বরং অনুপ্রেরণা, সহযোগিতা পেয়েছি অনেকের কাছে।
- প্রথম বই প্রকাশের স্মৃতিটা বলুন
-- রোমপ্রবাসী স্বেচ্ছা নির্বাসিত প্রখ্যাত লেখক শামসুদ্দীন আবুল কালামের উৎসাহে, হায়াৎ মামুদ ও জ্যোতির [জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত] প্রচেষ্টায় ১৯৮৯ সালে সাহিত্য সমবায় থেকে আমার প্রথম বই 'পূরবী বসুর গল্প' প্রকাশিত হয়।
কালাম ভাই আমার লেখা গল্প পড়তে ভালোবাসতেন। প্রকৃতপক্ষে বিচিত্রায় প্রকাশিত আমার "সন্ধ্যায় ভোরের শিশির" গল্প পড়ে আপ্লুত হয়ে তিনি বিচিত্রার ঠিকানায় শাহরিয়ার কবিরকে চিঠি লিখে সঙ্গে আমাকে লেখা তাঁর চিঠিটি খামের ভেতর জুড়ে দিয়েছিলেন, যদিও শাহরিয়ার আমার ঠিকানা জানে। শাহরিয়ার যে আমার প্রিয় বন্ধুদের একজন তখনও তিনি তা জানতেন না। চিঠিটি সঙ্গে সঙ্গে শাহরিয়ার আমাকে আমেরিকার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়। আমি তখন ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরিতে পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চ করছি সেখানকার মেডিকেল কলেজে। দীর্ঘ চিঠিপত্রের যোগাযোগে পরে কালাম ভাই আমার অনেক গল্পই পড়েছেন। তিনি বার বার একটি বইয়ে গল্পগুলোকে একত্র করে মলাটবন্দি করার তাগাদা দিতেন। তিনি বলেছিলেন, এই বইয়ের একটিই নাম হতে পারে আর সেটা হলো 'পূরবী বসুর গল্প'।
- ব্যক্তিগত জীবনের কোনো সীমাবদ্ধতা আপনাকে কষ্ট দেয়?
-- সাহিত্যে যথেষ্ট পড়াশোনা না করা। পঠনপাঠনের সীমাবদ্ধতা আমার লেখার গুণগত মান এবং চিন্তা প্রকাশ করার ক্ষমতার ব্যাপ্তিকে কিছুটা হলেও সংকুচিত করেছে। জীবনের দুই-তৃতীয়াংশ প্রবাস বাস এই ব্যাপারে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেনি।
- কী হতে চেয়েছিলেন, কী হলেন?
-- যা হতে চেয়েছিলাম (বিজ্ঞানী), তা আংশিকভাবে হয়েছি। যা হবার কথা ভাবিনি (লেখক), তাতে কিছুটা হলেও স্বীকৃতি পেয়েছি। ফলে আমি একেবারে নিরাশ নই।
- আপনার চরিত্রের শক্তিশালী দিক কোনটি বলে মনে করেন?
-- দ্বিধাহীনভাবে নিজের মত ও সত্য প্রকাশ করা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। যা বিশ্বাস করি, যেমন দেখি বা বুঝি সরাসরি তা প্রকাশ করার ব্যাপারে আমার সংকোচ বা দ্বিধা নেই, বিশেষ করে অন্যায়কে অন্যায্য চিহ্নিত করতে। বরং এই ব্যাপারে যথেষ্ট মনোযোগ ও সাহস আছে। তবে যতটা চাই সব সময় ততটা বা সেই পর্যন্ত যাওয়া হয়তো সম্ভব হয় না, যা আমার মনোবেদনার বড় উৎস হয়ে থাকে।
- এখন কী নিয়ে কাজ করছেন?
-- গত কিছুদিন ধরে সাহিত্যের যে শাখায় আমার সবচেয়ে কম বিচরণ, সেই কবিতা রচনার চেষ্টা করছি, যদিও আদৌ তা কবিতা হয় কিনা সে সম্পর্কে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আর কাজ করছি রবীন্দ্রনাথ নিয়ে।
- আপনার প্রিয় বইগুলো নিয়ে জানতে চাই
-- সবসুদ্ধ ৬৪টি বই প্রকাশিত হয়েছে আমার; ঢাকা, কলকাতাসহ। এর মধ্যে ৫৬টি মৌলিক লেখার গ্রন্থ, বাকিগুলো অনুবাদ, সম্পাদনা। নারী সম্পর্কিত আমার চিন্তাভাবনা নিয়ে অন্তত এক ডজন বই পাঠক আরও অনেকদিন নেড়েচেড়ে দেখবে বলে আমার বিশ্বাস।
- ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে আপনার ভাবনাটা কেমন?
-- যতদিন সম্ভব স্বনির্ভর থাকার চেষ্টা করব। চিন্তার এবং তা প্রকাশের ক্ষমতা যেন কখনও না হারাই। বয়স যতটা হয়েছে তাতে বর্তমান ও ভবিষ্যতের সীমারেখা আগের মতো স্পষ্ট নেই। ঘুচে গেছে, যা করার ইচ্ছা এখুনি তা করা দরকার। কেননা এখুনি ভবিষ্যৎ।
- সব মিলিয়ে জীবনটাকে কেমন মনে হয়?
-- চড়াই-উতরাই মিলিয়ে জীবন উপভোগ্য। তবে জীবনের অনিশ্চয়তা ও মৃত্যুর অমোঘতা, এবং মৃত্যুকে উল্টিয়ে দিয়ে আবার কখনও কখনও জীবন ফিরে পাবার সম্ভাবনার কথা ভাবি। স্বপ্ন দেখি।