১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পর সারা বিশ্ব ভারতীয় কবি রবীন্দ্রনাথের ব্যাপারে বিশেষভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠে। ফলে বিভিন্ন দেশ থেকে আসতে থাকে আমন্ত্রণের পর আমন্ত্রণ। অধিকাংশ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ।
১৮৭৮ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পাঁচটি মহাদেশের ৩৩টিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেছিলেন। তবে ইংল্যান্ড ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাদ দিলে অন্যান্য দেশ ভ্রমণ করেছেন ১৯১৩-তে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পর। এই ভ্রমণগুলোর মধ্যে অনেকটিই রবীন্দ্রনাথের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। এর মাধ্যমে তিনি ভারতের বাইরে নিজের রচনাকে সুপরিচিত করে তোলেন এবং প্রচার করেন তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ। একই সঙ্গে বহু আন্তর্জাতিক সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়।
তাঁর বিদেশ ভ্রমণ শুরু হয় ১৮৭৮ সালে প্যারিস হয়ে লন্ডন গমনের মাধ্যমে। তাঁর দ্বিতীয় লন্ডন ভ্রমণ ১৮৯০-এ। ১৯১২ সালের ২৭ মে রবীন্দ্রনাথ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ভ্রমণে বের হন। সঙ্গে ছিল নিজের একগুচ্ছ রচনার ইংরেজি অনুবাদ। লন্ডনে মিশনারি তথা গান্ধীবাদী চার্লস এফ. অ্যান্ড্রুজ, অ্যাংলো-আইরিশ কবি উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস, এজরা পাউন্ড, রবার্ট ব্রিজেস, আর্নেস্ট রাইস, টমাস স্টার্জ মুর প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর গুণমুগ্ধে পরিণত হন। ইয়েটস গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের মুখবন্ধটি লিখে দেন। অ্যান্ড্রুজ শান্তিনিকেতনে এসে বিদ্যালয়ের কাজে যোগ দেন। যুক্তরাজ্যে স্ট্যাফোর্ডশায়ারের বাটারটনে অ্যান্ড্রুজের ধর্মযাজক বন্ধুদের সঙ্গে কিছুদিন অতিবাহিত করেন কবি। যুক্তরাষ্ট্র সফরে তিনি লন্ডন ত্যাগ করেন ১৬ জুন; যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান ১৯ অক্টোবরে। তিনি দেশে ফিরে আসেন পরের বছর অর্থাৎ ১৯১৩ সালের ৬ অক্টোবর। ১৯১৬ সালের ৩ মে থেকে ১৯১৭ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে বক্তৃতা দিয়ে বেড়ান। এই সব বক্তৃতায় কবি তাঁর জাতীয়তাবাদ-বিরোধী মতামত ব্যক্ত করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি রচনা করেন 'ন্যাশনালিজম ইন ইন্ডিয়া' নামে একটি প্রবন্ধও। এটি যুগপৎ নিন্দিত ও নন্দিত হয়। রোম্যাঁ রোলাঁ প্রমুখ বিশ্বশান্তিবাদী এই প্রবন্ধের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ভারতে প্রত্যাবর্তনের অব্যবহিত পরেই ৬৩ বছর বয়সী রবীন্দ্রনাথ পেরু সরকারের কাছ থেকে একটি আমন্ত্রণ পান। পেরু থেকে তিনি যান মেক্সিকোতে। ১৯২৪ সালের ৬ নভেম্বর আর্জেন্টিনার রাজধানীতে উপস্থিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন রবীন্দ্রনাথ। এই সময় ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর আতিথেয়তায় ভিলা মিরালরিওতে চলে আসেন কবি। ১৯২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি যাত্রা করেন ভারতের উদ্দেশে। আবার ১৯২৬ সালের ৩০ মে ইতালির নেপলসে উপস্থিত হন কবি। পরদিন রোমে সাক্ষাৎ করেন ফ্যাসিবাদী একনায়ক বেনিতো মুসোলিনির সঙ্গে।
১৯২৭ সালের ১৪ জুলাই দুই সঙ্গীকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চার মাসব্যাপী এক সফরে বের হন। এই সফরে তিনি ভ্রমণ করেন বালি, জাভা, কুয়ালালামপুর, মালাক্কা, পেনাং, সিয়াম ও সিঙ্গাপুর। তারপর ১৯৩০ সালের গোড়ার দিকে প্রায় বর্ষব্যাপী এক সফরে তিনি বেরিয়ে পড়েন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে। যুক্তরাজ্যে ফিরে তিনি বার্মিংহামে একটি ভ্রাতৃসংঘের আশ্রয়ে অবস্থান করেন। এই সময় লন্ডন ও প্যারিস নগরীতে তাঁর অঙ্কিত চিত্রের প্রদর্শনী হয়। ১৯৩০ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত তিনি ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানি পর্যটন করেন। এরপর যান সোভিয়েত ইউনিয়নে। ১৯৩২ সালের এপ্রিলে জীবনের শেষপর্বে তিনি যান ইরানে। গ্রহণ করেন রেজা শাহ পাহলভির আতিথেয়তা। এই ভ্রমণের সময়েই তিনি সফর করেন ইরাক (১৯৩২) ও সিংহল (১৯৩৩)।
প্রশ্ন
১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট কতবার বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছিলেন?
২। কবি সর্বশেষ কোন দেশ ভ্রমণ করেছিলেন?
৩। কবির কোন বিদেশ ভ্রমণে সঙ্গী হয়েছিলেন সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়?
কুইজ ৬৪-এর উত্তর
১। হবিগঞ্জের
২। 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'
৩। 'নকশী কাঁথার মাঠ'

কুইজ ৬৪-এর জয়ী
রহমান হাফিজ রঞ্জন
মোহাম্মদপুর, ঢাকা

ঋতু সাহা
গোয়াইনঘাট, সিলেট

নিয়ম
পাঠক, কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন ৮ আগস্ট সোমবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।