বইয়ের বিশ্ব রাজধানী হতে যাচ্ছে ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গ। ইউনেস্কো জানিয়েছে, এ মেয়াদ শুরু হবে ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল। এর আগে ঘানার রাজধানী আক্রা এই ভূমিকায় থাকবে। আগামী বছর মেক্সিকোর গুয়াদালাজারার স্থলাভিষিক্ত হবে আক্রা। জর্জিয়ান পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম ককেশাস ও ব্ন্যাক সি বেসিনের দেশগুলোর আঞ্চলিক প্রকাশনা সম্মেলনের সহযোগিতায় এ বছর তিবিলিসি থেকে গুয়াদালাজারায় বইয়ের রাজধানী সরিয়ে আনা হয়।
গত নভেম্বরে শারজার হাউস অব উইজডমে ওয়ার্ল্ড বুক ক্যাপিটাল নেটওয়ার্কের সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আক্রাকে ২০২৩ সালের জন্য সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। গত ২০ জুলাই স্ট্রাসবার্গকে ২০২৪ সালের বইয়ের রাজধানী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্যারিসে ইউনেস্কোর দপ্তর থেকে সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অড্রে আজৌলের জন্য এটি এক ধরনের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। অড্রে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ফ্রান্সের সংস্কৃতিমন্ত্রী ছিলেন। ইউনেস্কোর ঘোষণায়, আজৌলেকে উদ্ৃব্দত করে বলা হয়, 'অনিশ্চিত সময়ে অনেকে আশ্রয় ও স্বপ্নের উৎস হিসেবে বইয়ের দিকে ঝুঁকছে। প্রকৃতপক্ষে, বইয়ের বিনোদন ও শিক্ষা দেওয়ার অনন্য ক্ষমতা রয়েছে। এ কারণে আমাদের অবশ্যই বই পড়ার মাধ্যমে প্রত্যেকের জ্ঞানের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। এ কারণেই প্রতি বছর ইউনেস্কো একটি বইয়ের রাজধানী মনোনীত করে। ২০২২ সালে গুয়াদালাজারা এবং ২০২৩ সালে আক্রার পর আমি ২০২৪ সালের জন্য স্ট্রাসবার্গকে বিশ্ব বইয়ের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করতে পেরে আনন্দিত।'
'ওয়ার্ল্ড বুক ক্যাপিটাল' উপাধি আকৃষ্ট করার জন্য একটি শহর বই এবং পড়ার সহায়ক একটি প্রোগ্রাম প্রস্তুত করে। প্রস্তাবিত শহরগুলো প্রতিযোগিতা করে। একটি উপদেষ্টা কমিটি প্রক্রিয়াটির তত্ত্বাবধান করে এবং এতে ইউরোপীয় ও আন্তর্জাতিক বই বিক্রেতা ফেডারেশন (ইআইবিএফ), আন্তর্জাতিক লেখক ফোরাম (আইএএফ), ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএলএ), ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন (আইপিএ) ও ইউনেস্কোর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকে। 'ওয়ার্ল্ড বুক ক্যাপিটাল' ধারণাটি ২৫ বছর আগের। আন্তর্জাতিক প্রকাশক সমিতির পরামর্শে ১৯৯৬ সালে প্রথম এটি শুরু হয়। ২০০১ সালে মাদ্রিদ নিজেকে বিশ্ব বইয়ের রাজধানী বলে অভিহিত করে। বছরের পর বছর ধরে একটি প্রতীকী হস্তান্তরের প্রথা চলে আসছে।