জানিও হে অন্ধমতি
বর্ষা এমতি
এ আর জনমের ডাক ...

বই ছেড়ে উঠে আসতেই বুঝি
বার্সেলোনার বর্ষা বড় ভিন্ন,
বিচ্ছিন্ন, নোটিশবিহীন
আকাশ গলিয়ে কামে তাপে ঢলে পড়ে
বিলেতি বাল্ক্ব লাগানো
চোখজোড়া হয়ে যায় আজিব কিসিম।
ঘোড়া হয়ে যায়, হয়ে যায় হরিণ
করে মহা ছোটাছুটি, প্রচণ্ড তাড়াহুড়া।
মিনিটেই ব্যালকনিটা মনুগাঙ
আর আমি ভেলা হয়ে গেলাম
গাওদির গথিক গির্জাচূড় থেকে
হুড়মুড়িয়ে নেমে আসতে লাগল
ঝাঁক ঝাঁক প্রবল
ডুবিয়ে নিলো পূর্ণিমায় পোঁতা গাছের পাহারা
ঠান্ডায় ঠোকাঠুকি লেগে গেল
স্থপতি ও স্থাপত্যে
আমি পিঁপড়ে ভাসা ভাসতে লাগলাম।

এতদিন বাংলাদেশে
যে বিধাতা ছিলেন ঋজু, একরোখা
জলের হাতুড়ি তার ঘাড় ভেঙে
স্কাই স্ক্যাফোন্ডিংয়ের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে
'মাইগ্‌েগা মাই', কী পাওয়ার!
ঈশ্বরের খাঁজ খুলে জলগম্বুজ পেরিয়ে
বেহুঁশ বলাকাদের মেখলা চুরমার করে
বৃষ্টি যেন বেরিয়েছে আজ বিধাতা বিহারে।

রোখ কমে এলে দূরে, পাহাড়ের ঢালে
রকমারি পাথরের বাড়িগুলো
প্রপাত পার্লারে বর্ষার প্রথম সিরাপে,
অনবদ্য এক মিষ্টি মনসুনে
ভিজে জবজব মোরব্বা হয়ে গেল।

আমার দৃষ্টি মিসেল্টোর মণি হয়ে
জলের জানালায় প্রত্যক্ষ করল
বৃদ্ধ বিধাতার নবীন বয়স।
বৃষ্টি হলে ঈশ্বর এসে বসে যান
বাখলাভা ও বিস্কুটে, নজরুলে-নিরোদে, বোদলেয়ার-বোর্হেসে,
প্রকৃতি ও পাথরের চা-চানাচুরে।
তিনি বিশ্রাম নেন অভিবাসী পাখিদের পাখনায়, পথিক পরীদের মিলনে ও মৈথুনে,
বয়োবৃদ্ধ নগরীর স্থাপত্যের ভাঁজে ভাঁজে।

ওহ বৃষ্টি ওহ বার্সেলোনা
তোমাদের এখানে বর্ষা এলে কি
বিধাতার বয়স ভেঙে
এভাবেই তাঁর গড়ন নাই হয়ে যায়
আর মানুষের চঞ্চুতে তার পুরোনো
পাপগুলো চুমু হয়ে যায়?

তা'হলে আয় বৃষ্টি আয় ঝেঁপে
ঝমঝম ঝমঝম ...

বিষয় : পদাবলি

মন্তব্য করুন