খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগীর নামের তালিকা অনলাইনে নিবন্ধন করতে গিয়ে রাজবাড়ী জেলায় প্রায় ১০ হাজার জন বাদ পড়েছেন। তালিকায় নাম যুক্ত না হলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে বিপদে পড়বেন তাঁরা। তবে জেলা খাদ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, নামের গরমিলসহ নানা কারণে বাদ পড়তে পারেন তাঁরা।
জেলায় কার্ডধারীর সংখ্যা ৫৬ হাজার ৪৭৭। তাঁরা ১০ টাকা কেজি দরে ৩০০ টাকায় ৩০ কেজি চাল কিনতে পারতেন ডিলারের কাছ থেকে। অবশ্য চালের দাম চলতি মাস থেকে ১৫ টাকা কেজি করা হয়েছে। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত কার্ডধারীদের নামের তালিকা অনলাইনে নিবন্ধন করা হয়। এ কার্যক্রম শেষ হলেও পাঁচ উপজেলার ১০ হাজার কার্ডধারী বাদ পড়েছেন।

এর মধ্যে সদরের ১২ হাজার ৬০৩টির মধ্যে ২ হাজার, পাংশার ১৭ হাজার ১০টির মধ্যে ৩ হাজার ৬০০, গোয়ালন্দের ৬ হাজার ৯১টির মধ্যে ৯০০, কালুখালীর ১২ হাজার ৮৩৬টির মধ্যে ২ হাজার এবং বালিয়াকান্দির ৭ হাজার ৯৩৭ কার্ডের মধ্যে বাদ পড়েছে ১ হাজার ২০০ কার্ড। তাঁদের মধ্যে বালিয়াকান্দির পাইককান্দি গ্রামের ৪১ জন অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী মোতালেব আলী বলেন, কার্ডটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় তিনি বিপদে পড়েছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী তুহিন মিয়া জানান, জন্ম থেকে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। ছোট মুদি দোকানের মাধ্যমে পাঁচ সদস্যের সংসার চলে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে কার্ডটি অবলম্বন ছিল। কিন্তু অনলাইনে কেন কার্ডটি বাদ পড়েছে, সেটি খাদ্য বিভাগ বলেনি।

কুলসুম বেগম বলেন, অনেক আগে তাঁর স্বামী মারা গেছেন। থাকেন মেয়ের বাড়িতে। কার্ড ছিল তাঁর বড় সম্পদ। এখন শুনছেন তাঁর নাম তালিকায় নেই। এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন বিশ্বাস বলেন, তাঁর ইউনিয়নের দেড়শ উপকারভোগী বাদ পড়েছে। খাদ্য বিভাগের অনলাইনের তালিকার সঙ্গে অনেকের নাম মেলে না। অনেকের নামের সঙ্গে মেলে না জাতীয় পরিচয়পত্র। বাদ পড়া নামগুলো খাদ্য বিভাগ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবে বলে জানিয়েছে।

রাজবাড়ী সদরের আলীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কার ছিদ্দিক বলেন, তাঁর ইউনিয়নের বাদ পড়াদের মধ্যে অনেকেই দুস্থ ও হতদরিদ্র। তাঁরা প্রণোদনা পাওয়ার দাবিদার। বিষয়টি সংশ্নিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছেন। তবে কোনো সমাধান পাননি। খানখানাপুর ইউপি চেয়ারম্যান একেএম ইকবাল হোসেন বলেন, ১০০ জনের বেশি কার্ডধারী বাদ পড়েছে তাঁর ইউনিয়নে। বিষয়টি ইউএনও ও খাদ্য বিভাগকে জানানো হয়েছে।

সদরের ইউএনও মার্জিয়া সুলতানা বলেন, সুনির্দিষ্ট কারণে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি থেকে কিছু নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা আসবে। সে অনুসারে বাদ পড়াদের প্রতিস্থাপন করা হবে। বালিয়াকান্দির ইউএনও আম্বিয়া সুলতানা বলেন, কিছু মানুষ অভিযোগ দিয়েছেন। বাদ পড়াদের বেশিরভাগের নামের সঙ্গে পরিচয়পত্রের মিল নেই। আবার তালিকা করার সময় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক একেএম শাহনেওয়াজ বলেন, অনলাইনে ডাটাবেজ করতে গিয়ে দেখা গেছে, কেউ মারা গেছেন, কেউ অন্য সুবিধা পান। কার্ড কুক্ষিগত করে রাখা অনেকে ভয়ে আসেননি। চলতি মাস পর্যন্ত সময় আছে। যাঁরা আসবেন তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যাঁরা আসবেন না, তাঁদের পরিবর্তিত নাম আগামী মাসে নেওয়া হবে।