যারা নিকটে বসবাস করে তাদেরকে প্রতিবেশী বলে। তবে নিকটে বসবাসকারী প্রতিবেশী বলতেই একমাত্রিক বিষয় বোঝায় না। এর বহুমাত্রা আছে। গ্রামে শহরে প্রতিবেশীর মধ্যে পার্থক্য থাকে। ধনী-গরিব-প্রতিবেশীদের মধ্যে পার্থক্য থাকে। এই পার্থক্য থাকে শিক্ষিত-অশিক্ষিতের মধ্যেও। এ রকম নানা পার্থক্য নিয়েই প্রতিবেশীরা বসবাস করে। শহরে বন্দরে- বিশেষ করে বড় বড় শহরে নগরে কোনো প্রতিবেশী সাধারণত অন্য কোনো প্রতিবেশীর খোঁজখবর নেয় না। প্রেমেন্দ্র মিত্রের কবিতায় আছে- একটি ইটের ব্যবধান রেখে পাশাপাশি থাকি শুয়ে। পাশাপাশি আছে, মাঝে মাত্র একটি ইটের ব্যবধান। কিন্তু কেউ কারও কোনো খোঁজ রাখে না, কেউ কারও নাম জানে না। এই অবস্থা মোটামুটি বড় বড় শহর-নগরে হয়ে থাকে। তবে গ্রামাঞ্চলে অবস্থাটা একটু ভিন্ন। গ্রামাঞ্চলে প্রতিবেশীর পরস্পরের সঙ্গে একটা সম্পর্ক আছে, সেটা শহরে নেই। আমি তো গ্রামেরই মানুষ। দীর্ঘকাল ধরে বসবাস করি মফস্বল শহরে। এবং খাঁটি পাড়াগেঁয়ে মানুষের সঙ্গে বসবাস করেছি। তো সেখানে আমি দেখেছি প্রতিবেশীর মধ্যে বহুমাত্রিক সম্পর্ক বিদ্যমান। সাধারণভাবে আমাদের গ্রাম এলাকায় যে বাসস্থানের বিন্যাসগুলোয় ধর্মগোত্রের কিছু প্রভাব ছিল। বিভিন্ন বর্ণের হিন্দু ছিলেন, তাদের ভেতর পার্থক্য আছে। হিন্দু-মুসলমানের ভেতর পার্থক্য আছে। একটু একসঙ্গে একই বর্ণের লোকগুলো এক জায়গায় থাকত। মুসলমানরা মুসলমানপাড়ায় থাকত, হিন্দুরা হিন্দুপাড়ায়। পাশাপাশিও থাকত, কিন্তু মোটামুটি দূরত্বও ছিল। তবু তারা পরস্পরের প্রতিবেশী ছিল। এখন আমি পাকিস্তান আমলের আগের কথা বলি।
ব্রিটিশ আমলে ১৯৪৬ সালে খবর পাওয়া গেল যে কলকাতায় হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গা হয়েছে। তারপর নোয়াখালীতে। কলকাতায় মুসলমানরা বেশি মারা গেছে, আর নোয়াখালীতে হিন্দুরা বেশি মারা গেছে। আমাদের এইখানে যখন খবর এলো, তখন আমাদের মধ্যে একটা টানটান ভাব দেখা দিল। হিন্দু আর মুসলমান পরস্পরের দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকাতে থাকে। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে আমি বিভিন্ন জায়গায় যা দেখেছি, বিভিন্ন অঞ্চলে কোনো রকম সংঘাত দাঙ্গা হয়নি। এটা ৪৬-এর কথা বলছি। কিন্তু ৪৭-এ পাকিস্তান হয়ে যাওয়ার পরে, যখন পাকিস্তান একটা মুসলমানের রাষ্ট্র হলো, তখন হিন্দুদের মধ্যে নানারকম ভয়ভীতি দেখা দিল যে- এই দেশে থাকা যাবে না। ভারতে চলে যেতে হবে। তখনও আমি দেখেছি, অনেক মুসলমান প্রতিবেশী হিন্দুদের নানাভাবে বুঝিয়েছে-
কেন আপনারা ভারতে যাবেন, আমরা মিলেমিশে থাকব।
আবার এর বিপরীতটিও ঘটেছে। যারা পয়সাকড়ির মালিক, তাদের একাংশ দেখেছে পাশের লোকটি যদি ভারতে চলে যায় তো তাদের সম্পত্তি বাগানো যাবে। কাজেই যেভাবে তার ওপর একটু পীড়ন করা যায় সে ব্যবস্থা সম্পত্তি দখলের স্বার্থে তারা তা ঘটিয়েছে। এইভাবে আমি ৪৭ সালের গোড়ার দিকেই ওই গ্রামাঞ্চলে প্রতিবেশীদের মধ্যে এ অবস্থা লক্ষ্য করেছি। তারপর ৫০-এ দাঙ্গা হলো, সেই সময়ে আরও খারাপ অবস্থা হলো। হিন্দুরা অনেকেই চলে গেল। হিন্দুদের বাড়িঘর মুসলমান যারা সম্পত্তিওয়ালা, তারা অনেকেই দখল করল। কিন্তু এই অবস্থার পরেও এই দেশে হিন্দু-মুসলমান অনেকেই পাশাপাশি বাস করেছে এবং তা এখন পর্যন্ত বজায় আছে। এবং প্রতিবেশী যারা একত্রে বসবাস করে, তাদের মধ্যে, আগেই বলেছি, সংঘাত মিলমিশ দুটোই বরাবর চলে এসেছে। তো বাংলাদেশ হওয়ার পরে আমি দেখেছি অবস্থাটা একটু অন্যরকম হয়েছে।
আগে হিন্দু আর মুসলমানরা আলাদা পাড়ায় থাকত। কিন্তু বাংলাদেশ হওয়ার পর দেখা গেল হিন্দুপাড়ার এক বাড়ি হয়তো ভারতে চলে গেছে, আরেক বাড়ি যায় নাই। যে বাড়ির হিন্দুরা চলে গেছে, সেই বাড়ি কোনো মুসলমান এসে দখল করল। এভাবে ওই বাড়িটা হিন্দু বলয়ের ভেতর মুসলমানের বাড়ি হয়ে গেল। এই সময় আমি দেখেছি, ওই হিন্দু প্রতিবেশী মুসলমানের প্রতিবেশী হয়ে, একটু টানটান অনুভব করত, একটু উত্তেজনা ছিল। কী জানি অবস্থা হয়। কিন্তু এরপর দেখা গেছে, আমি আরও পরের কথা বলছি, বাংলাদেশ হওয়ার একটু আগের কথা। তখন পাকিস্তান ছেড়ে আমাদের মেঘালয়ে গিয়ে আশ্রয় নিতে হবে। ওই সময়ে আমি কিছু প্রতিবেশী দেখেছি, তারা বললেন, দেখো, তোমরা যাও, তোমাদের টাকাপয়সা যেভাবে আছে, সেভাবে থাকবে। আমরা যেতে পারব না। আমার বন্ধু অনিল। বলল- আমার বাবা অসুস্থ, সেখানে গিয়ে কীভাবে থাকব? তোমরা যাও, আমরা বাঁচি, মরি এভাবেই আমাদের থাকতে হবে।
যা হোক, আমরা মেঘালয়ে চলে গেলাম। মেঘালয় থেকে এসে আমি সেই প্রতিবেশী বন্ধুর সঙ্গে দেখা করলাম। অনিল। অনিলকে জিজ্ঞেস করলাম- চলে যাওয়ার পর কী হলো।
অনিল বলল- তোমরা তো চলে গেলে, আমাদের এখানে আরও একটা বাড়ি- খুব নিম্নশ্রেণির হিন্দু বাড়ি- ওরা ছিল, আর ছিল কয়েক ঘর মুসলমান। আমার বাবাও মারা গেলেন। স্বাভাবিক মৃত্যুই। বাবার মৃত্যুর পর হিন্দুমতে তাকে দাহ করতে হবে। আমরা নিয়ে গেলাম। তখন সেই মুসলমান প্রতিবেশী এসেই এমনভাবে আমাদের সাহায্য করতে থাকল, যেন ঠিক হিন্দু মতেই আমরা বাবাকে দাহ করতে পারি। সব ব্যবস্থ্থা করে দিল।
অনিল বলল- আমরা হিন্দু প্রতিবেশীর সঙ্গে যখন থাকতাম, তখন পরস্পরের মধ্যে নানা কারণে হিংসা-বিদ্বেষ ছিল, এভাবে দাহ করার জন্য সবাই যেত না। কিন্তু এইখানে দেখলাম, মুসলমানরা আমাদের যে সহযোগিতা করল, এমনটা হিন্দুদের কাছ থেকেও পাইনি।
এ অবস্থা ছিল। আমার নিজের দেখা।
আবার যারা জমিজিরাত দখল করার চেষ্টায় থাকত, তাদের ব্যবহার ছিল আরেক রকম, আগেই বলেছি।
তো এই অবস্থা চলছে প্রতিবেশীদের সম্পর্কটায়। এখন মানুষ প্রতিবেশীর বাইরে যদি বলি, রাষ্ট্র প্রতিবেশীর কথা, রাজনীতির কথা। তাহলেও ওই সম্পর্কে আরেকটু নতুন বাস্তবতার কথা বলতে হয়। আমরা পাকিস্তান নামক যে রাষ্ট্রের অধিবাসী হয়েছিলাম, সেই রাষ্ট্রটি দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। পশ্চিম, আর পূর্ব পাকিস্তান হাজার মাইলের ব্যবধান। কাজেই পাকিস্তান পাকিস্তানের প্রতিবেশী ছিল না। প্রতিবেশী ছিল ভারত। এখন পূর্ব পাকিস্তান, বর্তমানের বাংলাদেশ, তারা কোনোভাবেই পশ্চিম পাকিস্তানকে আপন বলে ভাবতে পারে নাই। অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক বঞ্চনা, সাংস্কৃতিক নিপীড়নের কারণে। তখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমাদের লেগে যেতে হলো। তখন ভারত আমাদের বন্ধু হয়ে গেল। একটা মজার কথা হলো, ভারতের বিরুদ্ধে- যারা এ দেশের হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করত, তারা ভারতের বিরুদ্ধে নানারকম কথা বলত। বলত-
হিন্দুরা এ দেশে থাকে কেন। এরা এ দেশে থেকে ভারতের কথা চিন্তা করে। ভারতে বৃষ্টি হলে তারা এখানে ছাতা ধরে।
এ রকম কথা বলত। কাজেই হিন্দুরা হিন্দুস্তানেই চলে যাক। এ রকম কথা কিছু প্রতিবেশী বলত, যাদের মতলব খারাপ ছিল। কিন্তু দেখা গেল, ওই ষাটের দশকে বঙ্গবন্ধু যখন আস্তে আস্তে ছয় দফা থেকে এগার দফায় উন্নীত হলেন, সমস্ত ছাত্র-যুবক মিলে যখন এগারো দফার আন্দোলন শুরু করল, তখন দেখা গেল, ভারতই আমাদের প্রকৃত বন্ধু। এটা তখনকার বাংলাদেশের যারা নাকি রাজাকার আলবদর হয়ে গিয়েছিল এ রকম অল্প সংখ্যক লোক বাদে ভারতকে নিজের প্রতিবেশী ও আপন বলে ভাবতে শিখল। এবং কোটিখানেক লোক ভারতে চলে গেল। আশ্রয় নিল। ভারত খাদ্য দিয়েছে, আশ্রয় দিয়েছে। এবং শেষ পর্যন্ত ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দিয়েছে, সেই সমর্থনের ফলে আমরা পাকিস্তানের কাছ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ হতে পেরেছি।
কিন্তু এখন সেই বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও কিছু কিছু লোক বলত- আর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বরে কী হয়েছে? আসলে ভারত এসে, হিন্দুস্তান এসে আমাদের দেশকে দখল করে নিয়েছে। ওই নামে আরকি স্বাধীন।
এই সমস্ত কথাবার্তা বলা শুরু করল। তারা এ দেশ থেকে জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি আমাদের যে ভাঙতি পয়সাগুলো নিয়ে গেছে, এগুলো পর্যন্ত আমাদের নেই। এই সমস্ত নানান ভাবে ভারতবিরোধী হিন্দুস্তানবিরোধী কথা বলতে থাকল এবং এতে কেউ কেউ বিভ্রান্ত হয়েছিল। সাম্প্রদায়িক টানটান উত্তেজনাও এ সময় দেখা গেল।
যা হোক, আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের যে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে, সেই থেকে এ পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে আমরা সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছি। তবে হ্যাঁ- প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলেও অনেক সমস্যা তৈরি হতে পারে। ভারতের দ্বারা আমরা বঞ্চিত হয়েছি, এমন ব্যাপারও ঘটেছে। যেমন তিস্তার পানি পাইনি। এসব নানা কারণে প্রতিবেশীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। তবু ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী এবং মোটামুটি সদ্ভাব আছে। অথচ এর পাশাপাশি আমাদের প্রতিবেশী মিয়ানমার, আগে যেটিকে ব্রহ্মদেশ বা বার্মা বলা হতো, মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এত খারাপ হয়ে গেছে, রোহিঙ্গাদের আসা থেকে শুরু করে, এই কিছুদিনের মধ্যে দেখা গেল তারা আমাদের এখানে বোমা নিক্ষেপ করেছে।
কাজেই সব প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও একরকম হয় না, সব সময় এ রকম থাকে না। এই অবস্থাগুলো আমাদের বুঝে নিতে হবে। প্রতিবেশীর ভালোবাসা আমরা চাই। পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসের মতো অবস্থান আমরা সৃষ্টি করতে পারি। বিশ্বাস যদি থাকে, তাহলে মানুষ প্রতিবেশীর মতো, রাষ্ট্র-প্রতিবেশীর মধ্যেও হৃদ্যতা বিদ্যমান থাকে।
পাকিস্তান হাওয়ার পরে আমাদের আত্মীয়স্বজন প্রায় সবাই চলে গেল ভারতে। কিন্তু আমার বাবা ভারতে যেতে চাইলেন না।
তিনি বললেন- আমরা যদি ভারতে চলে যাই, তাহলে কোনো রকমে হয়তো বাঁচতে পারব, কিন্তু আমার ছেলেমেয়েগুলোর লেখাপড়া কিছুই হবে না। তিনি ভারতে না যাওয়ার পক্ষেই মত দিলেন। তখন আমাদের প্রতিবেশী যারা ছিলেন, অনেকেই এসে আমার বাবাকে বললেন, ডাক্তারবাবু, খুব ভুল করছেন কিন্তু। এ দেশটা তো আমাদের না। দেশটা হলো পাকিস্তান, মুসলমানের দেশ। কাজেই আমাদের হিন্দুদের হিন্দুস্তানে যাওয়া ছাড়া উপায় নাই।
তারপর অনেকেই চলে গেল। সেই চলে যাওয়ার কিছুদিন পর তারা ফিরে এসে বলল- ডাক্তারবাবু, আপনিই ঠিক ছিলেন। ওইখানে গিয়ে লাগল কলেরা। আমার আত্মীয়রা অনেকে মারা গেলেন। তারপর আশ্রয় শিবিরের কষ্ট। এরচেয়ে আপনারা এখানে ছিলেন, অনেক ভালো ছিলেন। আমরাও এখানে থাকব। এখানে থেকে না খেয়ে মরব, তবুও ভারতে যাব না। এ রকম ঘটনা আমি নিজের চোখে দেখেছি এবং পরবর্তী জীবনেও তারা আর কখনও ভারতে যান নাই।
এখনও দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তান নামক যে রাষ্ট্রটির হাত থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছিলাম, পাকিস্তান ভূত হয়ে আমাদের ঘাড়ে চেপেছে। ৭৫-এর পরে যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা কিন্তু পাকিস্তানের ভূতকেই ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিল। এবং ওরকম একটা পরিবেশে হিন্দু মুসলমানের ঐক্যও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রের মূলনীতি বাতিল হলো। ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিল হলো। ক্রমশ তো রাষ্ট্রধর্মই হয়ে গেল।
এখন আমাদের দেশের ক্ষমতায় যারা আছেন, তারা স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল, বঙ্গবন্ধুর অনুসারী। কিন্তু তারপরও দেখা গেল, আমাদের দেশে এখনও হিন্দু-মুসলমান প্রতিবেশী খুব সদ্ভাবের সঙ্গে বাস করতে পারে না। আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে, কেন এমন হচ্ছে। আমরা যদি পাকিস্তানের ভূতকে দূর না করতে পারি তাহলে প্রতিবেশীদের স্বাভাবিক সম্পর্ক যেটা হওয়ার কথা, সেটা হবে না। আমাকে এ কারণে নিজেকে অনেক সময় হিন্দু ভাবতে হবে। কিন্তু হিন্দু কেন ভাবতে হবে। আমার তো হিন্দু হওয়ার কথা ছিল না। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। যখন আমি শুনি- অমুক জায়গায় হিন্দু বলে বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে, শিক্ষকের গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে, তখন তো আমিও বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ি চিন্তায় চেতনায়।
এই অবস্থান দূর করতে না পারলে, পাকিস্তানের ভূতকে না তাড়াতে পারলে এই যে প্রতিবেশীর মধ্যে যেমন সুসম্পর্ক থাকা উচিত, তেমনটি হবে না। কাজেই যদি আমরা সৎ প্রতিবেশী হয়ে বাঁচতে চাই, তাহলে ধর্মতান্ত্রিক মৌলবাদীদের হাত থেকে আমাদের দেশটাকে রক্ষা করতে হবে। এর জন্য একটা যথার্থ সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এই সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমরা প্রকৃত প্রতিবেশী হিসেবে প্রত্যেকের সঙ্গে সদ্ভাবের সঙ্গে বসবাস করতে পারব। এ ছাড়া অন্য কোনো পথ আছে বলে আমি মনে করি না।

বিষয় : প্রচ্ছদ পড়শি যতীন সরকার

মন্তব্য করুন