করোনার ধাক্কা কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত। এখন পর্যটন মৌসুম। দেশি-বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে তিন দিনের বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম এক্সপো। পর্যটকদের ভ্রমণ প্যাকেজে মূল্যছাড়সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

এবারের আয়োজনে ভারত, মালয়েশিয়া, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, ওমান, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, আজারবাইজান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ১৫টিরও বেশি দেশ থেকে বিমান পরিবহন, ট্যুর অপারেটর, হোটেল, হাসপাতাল, রিসোর্ট, অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিসহ পর্যটন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) এ মেলার আয়োজন করেছে। আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত মেলা চলবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, দেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা অসীম। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অন্যান্য দেশের মানুষের সামনে বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে তুলে ধরতে হবে। এই মেলার মাধ্যমে সেই সুযোগ পাচ্ছে দেশের পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব মোকাম্মেল হোসেন, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি, স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিস্কো ডি আসিস বেনিটেজ সালাস, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আলী কদর, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মফিদুর রহমান প্রমুখ।

নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি বলেন, করোনার কারণে আমরা ভার্চুয়ালি যোগাযোগ করতে অভ্যস্ত হয়েছি। তবে এর মাধ্যমে ভ্রমণ ও মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চাহিদা পূরণ হয় না। এ জন্য পর্যটন খাতকে সব সময়ই গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে।

প্রথম দিনেই ভ্রমণপিয়াসী দর্শনার্থীদের আনাগোনায় জমে উঠছে মেলা। নানা ছাড়ের পসরা সাজিয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। মেলা ঘুরে দেখা গেছে, মূল্যছাড়ের কারণে অনেকে বিভিন্ন অফার বুকিং দিচ্ছেন। কেউ কেউ বিমানের টিকিট কাটছেন।

বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ অনুষদের শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম। জানতে চাইলে তিনি বলেন, বন্ধুরা মিলে থাইল্যান্ড ভ্রমণের পরিকল্পনা আছে। তাই ট্যুর প্যাকেজ দেখতে এলাম। পছন্দ হয়ে গেলে বুকিং দিয়ে যাব।

এয়ার অ্যাস্ট্রার প্যাভিলিয়নের দায়িত্বে থাকা জুনিয়র এপিকিউটিভ আহনাফ আকিফ বলেন, ৯ হাজার ৯৯৯ টাকায় এয়ার অ্যাস্ট্রার রাউন্ড ট্রিপে কক্সবাজারে দুই রাত তিন দিনের আকর্ষণীয় প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন দু'জন একসঙ্গে এই প্যাকেজটি কিনতে পারবেন। প্যাকেজের মধ্যে রাউন্ড ট্রিপ এবং হোটেলে থাকার সুবিধা থাকছে। 

ঢাকা থেকে কক্সবাজার ৯ হাজার ৯৯৯ টাকায় ভ্রমণের সুযোগ দিচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বিভিন্ন দেশের টিকিটে ১৫ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

দেশের আকাশে সদ্য ডানা মেলা এয়ারলাইন্স অ্যাস্ট্রা টিকিটে ২০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে। ইউএস-বাংলার অভ্যন্তরীণ রুটের টিকিটে ১৫ শতাংশ ও আন্তর্জাতিক রুটে ১০ শতাংশ ছাড় আছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে কলকাতা বা চেন্নাইয়ে গেলে ইউএস-বাংলার টিকিট দেখালে অ্যাপোলো হসপিটালে ১০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে।

ইউএস-বাংলার এপিকিউটিভ মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস নাহিদ রুমান বলেন, ক্রেডিট কার্ডে ইবিএলে পেমেন্ট করলে ২০ শতাংশ ক্যাশব্যাক পাওয়া যাবে। প্রথম দিনেই প্রচুর সাড়া মিলছে। অনেক মানুষ মালদ্বীপ ও ব্যাংককের টিকিট কাটছেন।

নভোএয়ার রাজশাহী-কক্সবাজার বা যশোর-কক্সবাজারে ভ্রমণে রিটার্ন বিমান টিকিট ও তিন রাত চার দিনে দু'জনের ৩২ হাজার টাকা নিচ্ছে। এ ছাড়া বিমানের টিকিট কিনলে ১২ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে।

টিকিটের ওপর ৫ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে ফ্লাইট এপপার্ট। কসমস হলিডেজ এয়ার টিকিট কিনলে ৭ শতাংশ অফার, মেলায় দেশের বাইরের প্যাকেজ নিলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ট্রিপ লাভার তাদের প্যাকেজে ৫ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে।