ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

আপন দর্পণ

কবিতা প্রতিবাদের হাতিয়ার

কবিতা  প্রতিবাদের হাতিয়ার

আসাদ মান্নান [জন্ম : ৩ নভেম্বর ১৯৫৭]

আসাদ মান্নান

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৪ | ০০:২৯

শৈশবের প্রিয় মুহূর্ত
এক শীতের সকালে প্রথম যেদিন সূর্যকে ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দুর মধ্যে দেখি, সেই দৃশ্যে ভোরের সূর্য এসে আলো ফেলল, তার মধ্যে যে অপূর্ব সৌন্দর্য দেখেছি তা ছিল অতুলনীয়। সেই অবিনাশী দৃশ্যস্মৃতি অনন্ত নক্ষত্রের মতো এখনও জ্বলজ্বল করে জ্বলছে আমার ভেতরে; সমস্ত পৃথিবীর রূপ ও সৌন্দর্য ওই একবিন্দু শিশির কণার মধ্যে মুক্তোর মতো আমার স্মৃতিতে সতত জ্বলজ্বল করছে...
ভাবনাদর্শে প্রভাবিত করেছে যে গ্রন্থ, যে ব্যক্তি; যেভাবে
অনেক গ্রন্থ রয়েছে, কোনটা রেখে কোনটা বলি। না থাক, এ নিয়ে অন্যদিন বলবো। লেখালেখির শুরুতে সবাই কারও না কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকেন। একসময় সেই প্রভাব কেটেও যায়। আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি, তবে একে ঠিক প্রভাব বলা যাবে না। এটা এক ধরনের প্রেরণা। তিরিশ, চল্লিশ, পঞ্চাশ ও ষাট দশকের বিখ্যাত কবিদের পাশাপাশি কয়েকজন ভিন্ন ভাষার কবিও রয়েছেন, যাদের লেখা পড়ে আমি ঋদ্ধ হয়েছি। 
প্রথম প্রকাশিত লেখা
আমি যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি (১৯৬৮), তখন স্কুলবার্ষিকী ‘মশাল’-এ ‘নতুন চাঁদ’ নামে আমার ছোট্ট একটি কবিতা ছাপা হয়। 
প্রথম প্রকাশিত বই, বই ঘিরে স্মৃতি
১৯৮১ সালে তখন আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় অনার্সে পড়ি। সে সময় আমার একটি ক্ষুদ্র কবিতার পুস্তিকা ‘সূর্যাস্তের উল্টোদিকে’ প্রকাশিত হয়; চট্টগ্রাম কবিতা সমিতির পক্ষে নিবেদন প্রেসের মালিক মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু (চট্টগ্রামের একজন প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব) এটি ছাপিয়েছিলেন। এর কবিতাগুলো ছিল বেশ ভালো। সবার নজরে আসে। সাপ্তাহিক বিচিত্রায় এটির আলোচনা করেছিলেন কবি আবিদ রহমান (বর্তমানে প্রয়াত)। আমার সবচেয়ে আলোচিত কাব্যগ্রন্থ ‘সৈয়দ বংশের ফুল’ বের হয় ১৯৮৩ সালে। আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সুন্দর দক্ষিণে থাকে’র পাণ্ডুলিপি ১৯৮০ সালে তৈরি হলেও, প্রকাশিত হয় প্রায় পঁচিশ বছর পর ২০০৫ সালে। 
প্রথম প্রেম
প্রেম ছাড়া কি কবি হয়! প্রতিটি মানুষের ভেতর প্রেম আছে, অনুরাগ আছে। নর-নারীর ভেতর প্রেম মানেই শুধু প্রেম নয়, যা কিছু সুন্দর তা যদি আপ্লুত করে আমি তার প্রেমে পড়বো, এটাই স্বাভাবিক। সেটা কোনো নারী বা প্রাকৃতিক দৃশ্য হতে পারে। একজন পুরুষ কোনো নারীকে দেখে মুগ্ধ হবেন না বা একজন নারী কোনো পুরুষকে দেখে মুগ্ধ হবেন না তা ভাবার কোনো কারণ নেই। আমার মনে হয় মুগ্ধতার একটা চোখ আছে, আকর্ষিত হওয়ার একটা সময় আছে। একজন শিশুর মুগ্ধতা, একজন যুবকের মুগ্ধতা, একজন পৌঢ় বা বৃদ্ধের মুগ্ধতা এক নয়। মুগ্ধতা সময়ে সময়ে রং ও রূপ পাল্টায়।
এখন যা লিখছি, পড়ছি 
অনেকদিন ধরে কবিতা ও মননশীল গদ্য ছাড়া অন্য পড়াশোনায় খুব একটা সময় দিতে পারিনি। এখন ছোটগল্প, উপন্যাস পাশাপাশি মননশীল গদ্য ও সাহিত্য পাঠে আমার সময় কাটছে। আমার আরেকটি প্রিয় বিষয় রাজনীতি। রাজনৈতিক স্বপ্ন থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম। অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে, রক্ত দিতে হয়েছে। এই বিষয়টাকে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। আমার কবিতার একটা বিরাট অংশজুড়ে আছে দেশের সংকট এবং সময়। এসব আমাকে দারুণভাবে আক্রান্ত করে। যদিও সমস্যা সমাধানের কাজ কবিদের নয়, সংকট উত্তরণ থেকে বেরিয়ে আসার কাজ কবিদেরও নয়। কিন্তু আমি এর ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে যেখানে যে ভাষায় প্রতিবাদ করা দরকার তা কবিতার মাধ্যমেই করতে চেয়েছি। মোট কথা কবিতা আমার কাছে প্রতিরোধ, প্রতিবাদের শক্তিশালী হাতিয়ার। 
প্রিয় উদ্ধৃতি
‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো– ইনশাআল্লাহ’। v

গ্রন্থনা: ফরিদুল ইসলাম নির্জন

আরও পড়ুন

×