Man should die with memories not with dream. ছোট্ট জীবনে স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিশ্রমের বিকল্প নেই। দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অশিক্ষা, কুশিক্ষা থেকে বেঁচে থেকে স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে জাতির সামগ্রিক পরিশ্রম একান্ত প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে এসডিজি, ভিশন-২০৩০, ভিশন-২০৪১, ডেলটা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়ন করছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। শুরুতে অনেকে উচ্চাভিলাষী বললেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে এখন অনেকে মনে করছেন।
এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সব সৎ উপার্জনই সম্মানের। কাজকে ভালোবাসতে হবে। সমাজে চাপিয়ে দেওয়া পেশাকে নিজের করে নেওয়ার চেষ্টা ত্যাগ করতে হবে। নিজের মনের লুক্কায়িত লালিত স্বপ্নকেই পেশা হিসেবে নিতে হবে। এ লক্ষ্যে ওই পেশায় সফল ও ব্যর্থ উভয় মানুষের সঙ্গেই পরামর্শ করতে হবে। সফলতা-ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের করে সেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করে যোগ্য প্রমাণ করতে হবে। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে দক্ষ মানুষের কদর বিশ্বজুড়ে। সারা পৃথিবীই তার জন্য কর্মক্ষেত্র। শুধু নিজেকে প্রমাণ করে মেলে ধরা প্রয়োজন। নতুনের মধ্যেই নিহিত অমিত সম্ভাবনা। আর সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সুযোগ করে দেবে নতুন বছর। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা গর্বিত ও আশাবাদী।
বাংলাদেশ এখন জনসংখ্যার 'ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড' পর্যায়ে আছে। এ সুবিধা একটি জাতি সাধারণত একবারই পায়। যখন একটি দেশের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কর্মক্ষম নয় এমন মানুষের চেয়ে বেশি হয় তখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড হয়। আগামী ২০-৩০ বছর দেশে তরুণ যুবকরাই থাকবে সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই সময়টা তরুণদের জন্য যেমন বিপুল সম্ভাবনার, একই সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার। এ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জ্ঞান, দক্ষতা, তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে থাকা, কারিগরি জ্ঞান বাড়ানো, উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই। কেউ ইচ্ছাশক্তি দিয়ে এটা অর্জন করবে; কেউবা ভাগ্যকে দুষবে।
আশার কথা হলো, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে তরুণদের জন্য কাজ করা হচ্ছে। দেশের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তরুণরা চাইলেই সেবা নিতে পারবে। ব্যর্থতার গ্লানি মুছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে নতুন বছরে নতুন শপথে বলীয়ান হবে দেশের মানুষ। অতীতের ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে পারি আলোকিত ভবিষ্যতের দিকে।
নতুন বছর হোক তরুণদের বিজয়ের; তাদের নতুন পরিচয়ের।

লেখক

৩৮তম বিসিএস কৃষি ক্যাডারে প্রথম
স্থান অধিকারী