বায়োসিকিউর বাবল থেকে সরে এসেছে আগেই। টোকিও অলিম্পিক মডেলে 'ম্যানেজড ইভেন্ট এনভায়রনমেন্ট' কৌশল প্রয়োগ করা হয় বঙ্গবন্ধু বিপিএল টি২০ টুর্নামেন্টে। একই প্রটোকল অনুসরণ করা হচ্ছে আফগানিস্তান সিরিজেও। দেশে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এই সিরিজ দিয়েই শতভাগ দর্শক ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ ভরা গ্যালারি দেখা যেতে পারে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি২০ ম্যাচে। টাইগারদের বছরের প্রথম টি২০ সিরিজ দিয়ে আরও কিছু পরিবর্তন দেখা যাবে আজ স্টেডিয়ামে। বাউন্ডারি দড়ির ১০ ফুট দূরে বসানো হচ্ছে ফটোসাংবাদিকদের। এতে করে নিউ নরমাল সময় থেকে নরমাল সময়ে ফেরার পথে দেশের ক্রিকেট। যেখানে মাহমুদউল্লাহদেরও লক্ষ্য থাকবে স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলে আফগানদের বিপক্ষে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করা। বাংলাদেশের জন্য সিরিজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে র‌্যাঙ্কিংয়ে আফগানদের পেছনে ফেলতে হলে সিরিজটি ২-০ ব্যবধানে জিততে হবে। হূত আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে হলেও জয়ের বিকল্প নেই। সে কারণেই হোম সিরিজটি মরিয়া হয়ে খেলতে চান মাহমুদউল্লাহরা। গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে পারলে জয় ধরা দেবে। এ জন্য সতীর্থদের কাছে একটা ভালো শুরু আশা করেন। অধিনায়ক বলেন, 'ইতিবাচক মানসিকতা দেখাতে পারলে, ভালো শুরু পেলে ম্যাচ জেতা সম্ভব। আশা করি, আমরা জয় দিয়ে শুরু করতে পারব।' যদিও সংস্করণ বিবেচনায় আফগানিস্তানকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। র‌্যাঙ্কিং ও রেকর্ড- দু'দিক দিয়েই বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে তারা। টি২০ র‌্যাঙ্কিংয়ে আফগানিস্তান অষ্টম, বাংলাদেশ নবম স্থানে। পরিসংখ্যানে ছয় ম্যাচ খেলে দুটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে ভারতের দেরাদুনে তিন ম্যাচের সিরিজে মোহাম্মদ নবিদের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিলেন সাকিব আল হাসানরা। ২০১৯ সালে দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজে দুই ম্যাচ খেলে প্রথমটিতে হেরে যায় বাংলাদেশ। মিরপুরে ফিরতি ম্যাচ জিতে ফাইনালে উন্নীত হয়। বৃষ্টির কারণে ফাইনাল ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ-আফগানিস্তান। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ সেখান থেকেই শুরু হচ্ছে যেন।

১৬ বছর খেলার পরও টি২০ ক্রিকেটটা এখনও রপ্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ। এখনও যেন ২০০৬ সালে রয়ে গেছেন মাহমুদউল্লাহরা। মুখে তারা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। মোট কথা, এই সংস্করণে ধারাবাহিক হতে পারেনি। বোলাররা মোটামুটি মানিয়ে নিতে পারলেও ব্যাটাররা ২০ ওভারের ম্যাচও ওয়ানডে স্টাইলে খেলেন। যে কারণে পাওয়ার প্লে আর স্লগ ওভার থেকে খুব বেশি রান ওঠে না। নতুন বছরে সে চ্যালেঞ্জ জিততে মরিয়া দল। সে কারণেই মুনিম শাহরিয়ারকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা। বিপিএলে দারুণ খেলা এ ব্যাটারের অভিষেক হতে পারে আজ। লিটন কুমার দাসের সঙ্গে জুটি বাঁধতে পারেন তিনি। চোটের কারণে মুশফিকুর রহিম শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারলে নাঈম শেখের ওপরও আস্থা রাখতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। চট্টগ্রামের মতো মিরপুরেও স্পোর্টিং উইকেট করা হয়েছে। পিচে ঘাস রেখে দেওয়া হয়েছে কিছুটা। সে ক্ষেত্রে মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামকে নিয়ে তিন পেসার খেলাতে পারে। তিনজন পেসার খেললে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ স্পিনার খেলবে একজন। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ ও অফস্পিনার শেখ মেহেদীর যে কোনো একজনকে বেছে নেওয়া হবে। ব্যাটিং লাইনআপ বড় করতে মেহেদীকে নেওয়া হতে পারে। বিশ্বকাপে চমৎকার বোলিং করেন তিনি। বিপিএলেও মেহেদীর পারফরম্যান্স ছিল। এ ছাড়া একাদশে খুব বেশি পরিবর্তন হওয়ার সুযোগ কম।

স্বাগতিকরা নিজেদের পরিকল্পনা গোপন রাখায় আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা সেটা যেন মাটি খুঁড়ে বের করার চেষ্টা করছিলেন। বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলন শেষ করে গতকাল শেষ বিকেলে পিচ দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে পুরো দল। চট সরিয়ে সারফেস দেখে নেন নবিরা। মূল মাঠে কিছু সময় ফিল্ডিং প্র্যাকটিসও সেরে নেন তারা। চট্টগ্রামে শেষ ওয়ানডে জয়ী আফগানিস্তানের ক্রিকেটারদের দেখে মনে হচ্ছিল, অনুশীলনেই বাংলাদেশকে হারিয়ে দেবেন। সফরকারী খেলোয়াড়দের ছোটাছুটি বলে দিচ্ছিল, একদিনের সিরিজটি জয় দিয়ে শেষ করতে পারা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। যেটা কাজে লাগিয়ে জিতে নিতে চান টি২০ সিরিজ।

বিষয় : আত্মবিশ্বাস ফেরানোর টি২০ আজ

মন্তব্য করুন