ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

স্মার্টফোন বিনাশের নয়

স্মার্টফোন  বিনাশের নয়

.

মো. ইসরাফিল আলম 

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:৫০

মানব সভ্যতার বিস্ময়কর বিকাশে বিজ্ঞান যে অনন্য ভূমিকা পালন করেছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত স্মার্টফোন। এক সময় মানুষের যোগাযোগ স্থাপনের প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি। সেই চিঠি কাঙ্ক্ষিত স্থানে পৌঁছাতে লাগত অনাকাঙ্ক্ষিত সময়। সেই চিঠির জবাব পেতে দিন গুনতে হতো। আজ সময়ের পরিক্রমায় বিজ্ঞানের বিস্ময়কর সাফল্যে আমাদের হাতে এসেছে স্মার্টফোন, যা যোগাযোগ স্থাপনের জন্য দৃষ্টান্তই শুধু স্থাপন করেনি; দৈনন্দিন জীবনে দিকনির্দেশনার অন্যতম মাধ্যমও করেছে।

স্মার্টফোনের যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনি রয়েছে ক্ষতিকর দিক। আমরা দৈনন্দিন জীবনে স্মার্টফোনের ক্ষতিকর দিকেই ধাবিত হচ্ছি বেশি। ফলে ধীরে ধীরে সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে; বাড়ছে সমাজে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড। স্মার্টফোনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে যেমন মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়, তেমনি কমে যায় চিন্তাশক্তি ও দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এটি স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি মানবজীবনের জন্যও হুমকিস্বরূপ।

স্মার্টফোনের অপব্যবহার বিশেষ করে ছাত্রজীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ সময় স্মার্টফোনের ক্ষতিকর ওয়েবসাইটে ব্যয় করছি। রাত জেগে পড়াশোনার পরিবর্তে ফেসবুকিং, চ্যাটিং, ইউটিউবে অপ্রয়োজনীয় ভিডিও দেখা, নিষিদ্ধ সাইট ভ্রমণের চেষ্টাসহ নানাভাবে স্মার্টফোননির্ভর জীবন পার করছি। যে সময় আমাদের থাকার কথা ছিল বইপুস্তক নিয়ে টেবিলে, সে সময় আমরা ব্যস্ত স্মার্টফোনের ক্ষতিকর ওয়েবসাইটে। মত্ত থাকি ফ্রি ফায়ার, পাবজির মতো আসক্তিকর খেলায়। এসব আসক্তি আমাদের সোনালি জীবনকে করে তোলে দুর্বিষহ, যার ভবিষ্যৎ নিছক অন্ধকার কারাগারে বন্দি জীবন পার করার মতো।
স্মার্টফোনের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের ভবিষ্যৎ জীবন হবে উন্নত ও সমৃদ্ধ। আসুন, আমরা স্মার্টফোনের যথাযোগ্য ব্যবহার করে পরিশীলিত সমাজ গড়ে তুলি।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

আরও পড়ুন

×