ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

হুলহুলিয়া ডিজিটাল গ্রাম

হুলহুলিয়া ডিজিটাল গ্রাম

.

মকবুল হোসেন মজুমদার

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:১৯

নদীমাতৃক এ বাংলাদেশে পাখিডাকা, ছায়াঢাকা অপরূপ সুন্দর চলনবিলবেষ্টিত এক রূপকথার গ্রামের নাম হুলহুলিয়া। স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, পেশাজীবী শ্রেণি, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ অন্যান্য অগ্রগতি মাথায় রেখে এটি আদর্শ গ্রামের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যাকে সহজ ভাষায় ডিজিটাল গ্রাম বলা যায়। ১২টি পাড়া মিলে এ গ্রাম। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা ও সাধারণ সদস্য নিয়ে গঠিত হয়েছে হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ। এ ছাড়া প্রতিটি পাড়ায় রয়েছে আলাদা কমিটি। গ্রামের কোনো বাড়িতে ঝগড়া-বিবাদ হলে প্রথমে পাড়ার কমিটি মীমাংসার চেষ্টা করে। পাড়ায় সমাধান না হলে সামাজিক উন্নয়ন পরিষদে পাঠানো হয়। ওই পরিষদে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ তদন্তসাপেক্ষে গ্রামের যে কোনো বিচার-সালিশের মীমাংসা হয়। সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ গঠিত হওয়ার পর থেকে আজ অবধি থানায় কোনো মামলা হয়নি, যেতে হয়নি কোর্ট-কাছারিতে। গ্রাম্য সালিশ-বিচারে বিচারপ্রার্থীকে লিখিতভাবে অভিযোগ করতে হয়। অভিযোগ প্রকাশ্যে পাঠ করে শোনানো হয়। জুরি বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী বিচারক ওই রায় প্রদান করেন। বাদী ও বিবাদী সেই রায় মেনে নেন। এ গ্রামের সুনাম চারদিকে বেশ ছড়িয়ে পড়েছে। মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এই গ্রামে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার কন্যাকে পাত্রস্থ ও স্বাবলম্বীকরণে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়। এখানে উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, কমিউনিটি সেন্টার,পোস্ট অফিস, ডিজিটাল হাব তথা আউটসোর্সিং ফার্ম– উন্নত বিশ্বের সব ধরনের সুবিধা রয়েছে।
একটি আদর্শ গ্রাম যেমন একটি দেশের রোল মডেল, তেমনি একটি দেশ সারাবিশ্বের জন্য রোল মডেল হতে পারে। নর-নারী যেহেতু পাখির ডানার মতো, নারী-পুরুষের সমতা ও অংশগ্রহণে একটি সুন্দর সমাজ ও সভ্য রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে। এই স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠন করতে সারাদেশে প্রতিটি গ্রামে সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের রূপরেখা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে একটি মাইলফলক অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস।

মকবুল হোসেন মজুমদার:
কলাম লেখক

আরও পড়ুন

×