ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

আনন্দ যেন দুঃখের কারণ না হয়

আনন্দ যেন দুঃখের কারণ না হয়

.

আফরোজ কাসফি একা 

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:২০

নতুন জীবন মানেই নতুন আশা এবং ভালো থাকার প্রার্থনা। প্রতি বছর পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের আগমন ঘটে। বছরের শেষ দিন সারাবিশ্ব রীতিমতো সেজে ওঠে উৎসবের রঙে। রাতের অন্ধকার নেমে আসতেই ফোটানো শুরু হয় পটকা ও আতশবাজি; ওড়ানো হয় ফানুস; হয় উচ্চ শব্দে গানবাজনার আয়োজনও। রাতের আকাশে ভেসে বেড়ানো এক দল তারার মতো ফানুস, রংবেরঙের আলোকসজ্জা ও আতশবাজি মুখে হাসি এনে দেয় অনেকেরই। নতুন বছরকে কেন্দ্র করে জমে ওঠা এই আয়োজন মানুষের জীবনে আনন্দের স্রোত বয়ে আনলেও পশুপাখিদের জন্য মোটেও তা আনন্দের নয়, বরং ভয়ের। 
রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে একযোগে আকাশের দিকে ধেয়ে ওঠে যে আতশবাজি, তার বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে সব প্রাণীই। রাস্তার হোক কিংবা ঘরে পালা কুকুর-বিড়ালসহ অন্যান্য পশুপাখি এই উচ্চ শব্দ ও আলোতে ভয় পেয়ে খুঁজতে থাকে লুকানোর স্থান। আলোর রশ্মি এবং হঠাৎ বিকট শব্দে পাখিরা দিশেহারা হয়ে পড়ে।
রাজধানীসহ অনেক স্থানেই পাখিরা গাছ থেকে বের হয়ে ঢুকে যায় বিভিন্ন দালানে। নদী বা বড় কোনো জলাশয়ের ওপরে দিগ্বিদিক উড়তেও দেখা যায় তাদের। এ সময় বাসায় পোষা কুকুর-বিড়াল লুকিয়ে পড়তে চায় বিভিন্ন আসবাবের নিচে। পথে ঘুরে বেড়ানো প্রাণীর জন্য তো এ উৎসব হয়ে পড়ে আরও মারাত্মক। হার্ট অ্যাটাক করেও প্রাণ হারায় অনেক প্রাণী।
শুধু কি পশুপাখি? শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রেও এ সময় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। বক্ষব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষের জন্য এমন হঠাৎ উচ্চ শব্দ বিপদের কারণ হতে পারে। বৈদ্যুতিক তার ও ট্রান্সমিটারে ফানুসের কারণে আগুন লেগে গেলে এসব দুর্যোগ রূপ নিতে পারে ভয়ানক অগ্নিকাণ্ডে। 
সাময়িক আনন্দের জন্য অবশেষে অপূরণযোগ্য ক্ষতির ভার আমাদের বহন করতে হয়, যা আমাদের কারোরই কাম্য নয়। যে আনন্দ বিপদ বয়ে আনে, তা কি সত্যিই আনন্দের? নতুন বছর আমাদের সবার সামনেই নতুন করে সব শুরু করার একটা বার্তা রেখে যায়। এই বার্তা হোক সবার জন্য আনন্দময় এবং নিরাপদ। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতনতাই পারে আগামীকে এমন বিপজ্জনক ও অপ্রিয় সব ঘটনা থেকে সুরক্ষিত রাখতে। 

 আফরোজ কাসফি একা: 
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

×