ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

.

মো. মোস্তাফিজার রহমান

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:২১

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির মতে, ২০০৮ থেকে ২০২৩; এই ১৫ বছরে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে ছোট-বড় ২৪টি অনিয়মের মাধ্যমে ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। 
সিপিডির দেওয়া প্রতিবেদনটি নির্জলা মিথ্যাচার বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সিপিডি কোনো গবেষণা করেনি, কিছু পত্রিকার কাটিং জোগাড় করে একটি রিপোর্ট তৈরি করেছে। সেই রিপোর্টের আলোকে একটি  সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। তাদের এ বক্তব্য নির্জলা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সিপিডি যেহেতু অনিয়মের অভিযোগ এনেছে, তাদেরই বলতে হবে সেই টাকাগুলো কোথায় আছে। তারা যদি বিস্তারিত তথ্য দেয়, আমরা সেই টাকা দেশে ফিরিয়ে আনব।’ 
সিপিডির প্রতিবেদনটি দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে জনমনে ভীতিপ্রদ বার্তার সঞ্চার করেছে এবং তাতে ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আবার ওই প্রতিবেদন নিয়ে মন্ত্রীদের বক্তব্য জনমনে দ্বিধা ও সংশয়ের উদ্রেক করে এবং সচেতন বিবেকবান মানুষ তা নিরসনকল্পে অবশ্যই সরকারের সুস্পষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ মতামত প্রত্যাশা করে। কেননা, ওই প্রতিবেদনে প্রকাশিত অভিযোগের অসত্যতা ও অন্তঃসারশূন্যতা তথ্য-প্রমাণ দ্বারা যৌক্তিকভাবে খণ্ডন করার দায়িত্ব সরকারের। এটা জনসমক্ষে প্রমাণ করতে পারলেই ক্ষমতাসীন দলটির ভাবমূর্তির সংকট দূর হতে পারে।   
প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় একটি জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক দেশের শীর্ষ তিন অর্থনীতিবিদের সাক্ষাৎকার ছাপিয়েছে। এতে জানা যায়, সিপিডির প্রতিবেদনে গত ১৫ বছরে ব্যাংক থেকে ৯২ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের যে কথা বলা হয়েছে, তা দেশের একটি আংশিক চিত্র মাত্র। প্রকৃত তথ্য আরও ভয়াবহ। লুটপাটের বড় অংশই বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। এগুলো আর ব্যাংকে ফেরত আসার সম্ভাবনা নেই। এ বাস্তবতা মানতে হবে। তাদের মতে, জড়িতদের সরকারিভাবে আশকারা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।  
ঘটনার সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ে ব্যাংকগুলোয় রক্ষিত তথ্যের সহায়তা গ্রহণ করা যেতে পারে। ওই লুটপাট বিষয়ে প্রমাণ মিললে পাচারকারী ব্যক্তিদের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ এবং দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করাই হতে পারে জনমনে সৃষ্ট ক্ষমতাসীন সরকারের ভাবমূর্তি ফিরে পাওয়ার একটি পথ। তবে পশ্চিমারা নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে; ভারত, চীন ও রাশিয়া কী বলে– এটাই যদি হয় আমাদের ভাবনা, তাহলে কিছু বলার থাকে না। সরকার এখন কোন পথে হাঁটবে, তা দেখার বিষয়।  

nমো. মোস্তাফিজার রহমান: প্রাক্তন অধ্যক্ষ, নওগাঁ সরকারি কলেজ

আরও পড়ুন

×