ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

শিক্ষার্থী ভর্তিতে শর্তের বেড়াজাল নয়

শিক্ষার্থী ভর্তিতে শর্তের বেড়াজাল নয়

কাজী মো. আতাউর রহমান

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০৬:৩৫

নতুন শিক্ষাক্রম যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা। যোগ্যতা কী? যোগ্যতা হলো জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে অর্জিত সক্ষমতা। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীরা যেভাবে যোগ্যতা অর্জন করবে তা হলো, অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন, হাতে-কলমে শিখন, প্রকল্প এবং সমস্যাভিত্তিক শিখন, সহযোগিতামূলক শিখন, অনুসন্ধানভিত্তিক শিখন, স্বতঃপ্রণোদিত শিখনের সংমিশ্রণ, অনলাইন ও মিশ্র শিখনের মাধ্যমে। 
শিক্ষার্থীকে এখন আর তোতা ময়নার মতো মুখস্থ করতে হচ্ছে না। এখন বাস্তবধর্মী প্রায়োগিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। কৃষক কীভাবে কৃষিকাজ করেন; অফিসের কর্তাব্যক্তি কীভাবে অফিস পরিচালনা করেন; মাঝি কীভাবে নৌকা চালান; গৃহিণী কীভাবে রান্না করেন; ইমাম সাহেব কীভাবে নামাজ পড়ান; অসহায় ব্যক্তিকে কীভাবে সাহায্য করতে হয় ইত্যাদি বিষয়ের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে কিংবা হাতে-কলমে শিক্ষা নিতে হয়। 
এখন মুখস্থনির্ভরতা অনেকাংশেই কমে গেছে। আগের মতো পরীক্ষা নেই ঠিক, কিন্তু মূল্যায়ন আছে অনেক। আছে শিখনকালীন মূল্যায়ন, ষাণ্মাসিক ও বার্ষিক সামষ্টিক মূল্যায়ন। এখনকার শিক্ষা ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেই– এটি গুজবে পরিণত হয়েছে। বাস্তবে মূল্যায়ন এখন অনেক বেশি। একজন শিক্ষার্থী কতটা পারদর্শিতা অর্জন করেছে, তা তার শিক্ষকরা শিখনকালীন মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন। শিখনকালীন মূল্যায়নে শিক্ষার্থীর আচরণিক বৈশিষ্ট্য, অংশগ্রহণ ও উপস্থাপনই হবে ‘পারদর্শিতার নির্দেশক’। ফলে একজন শিক্ষার্থী মার্জিত আচার-আচরণ প্রদর্শন করতে বাধ্য। তা না হলে সে কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন ফল লাভ করতে পারবে না। এ জন্য শিক্ষার্থীকে বিনয়ী, নম্র ও ভদ্র হতে হবে এবং এভাবে তার বখে যাওয়া রোধ হবে। নৈতিক অবক্ষয়ের যুগে আজ তা বড় বেশি প্রয়োজন। 
মনে রাখতে হবে, আমরা জাতি হিসেবে উন্নত হতে চাইলে উন্নত বিশ্বের গতিতেই এগিয়ে যেতে হবে; পেছন ফিরে তাকালে চলবে না। তবে একটি নতুন পদ্ধতি চালু করলে অভ্যস্ত হওয়ার জন্যও কিছু সময় নিতে হয়। পুরোনো আর নতুনের মিশেলে চলতে চলতে একসময় পরিপূর্ণভাবে নতুনকে মেনে নেওয়া সহজতর হয়। বিষয়টি নীতিনির্ধারণী মহল বা সংশ্লিষ্টজন ভেবে দেখতে পারেন। অর্থাৎ মূল্যায়ন ও পরীক্ষা দুটির মিশেলে অগ্রসর হওয়ার কৌশল নেওয়া যেতে পারে। 
নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে যে কাজটি করা প্রয়োজন তা হলো, প্রতি শ্রেণিতে ৫৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রজ্ঞাপনই যথেষ্ট নয়। অনেক বিদ্যালয়ে প্রতি শ্রেণিতে ১০০, ১৫০; এমনকি ২০০ শিক্ষার্থী ভর্তিরও প্রয়োজন হতে পারে। তাদের বিদ্যালয়ে ভর্তি না করলে আশপাশে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই, যেখানে ভর্তি হতে পারবে। ফলে ভর্তি হতে না পেরে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়বে। তাই সহজ শর্তে ও পদ্ধতিতে শাখা খোলার অনুমতি এবং শাখার বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া জরুরি। তবেই নতুন কারিকুলাম দ্রুততম সময়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

nপ্রধান শিক্ষক: ভলাকুট ক্ষেত্রনাথ বিশ্বাস (কে.বি.) উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আরও পড়ুন

×