খুলনা

আকিফার মৃত্যু: বাসের মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে নেওয়া ছবি

কুষ্টিয়ায় বাসের ধাক্কায় শিশু আকিফার মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সেই বাসের মালিক ও চালকের জামিনও বাতিল করেছেন কুষ্টিয়ার আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, মঙ্গলবার আকিফার বাবার দায়ের করা মামলায় ৩০২ ধারা সংযোজনের জন্য আদালতে একটি আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সুমন কাদেরী। কুষ্টিয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এমএম মোর্শেদ আবেদনটি মঞ্জুর করেন। 

একই সঙ্গে জিআরও শাখার উপপরিদর্শক আজাহার আলী জামিনপ্রাপ্ত দুই আসামি বাসের মালিক ও চালকের জামিন বাতিলের আরেকটি আবেদন করেন। ওই আবেদনটিও মঞ্জুর করেন আদালত। তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। 

২৮ আগস্ট রাজশাহী থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশে ছেড়ে আসা গঞ্জেরাজ পরিবহনের একটি বাস শহরের চৌড়হাস মোড়ের কাউন্টারে এসে থামে। সে সময় থেমে থাকা বাসের সামনে দিয়ে এক বছরের শিশু আকিফাকে কোলে নিয়ে রাস্তা পারা হচ্ছিলেন মা রিনা বেগম। হঠাৎ কোনো হর্ন ছাড়াই চালক খোকন বাসটি চালিয়ে দেন। বাসের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে আহত হয় আকিফা। রিনা বেগমও আহত হন। এরই মধ্যে চালক বাসটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আকিফা। পরে এ দুর্ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। 

আকিফার বাবা হারুন উর রশীদ ৩০ আগস্ট এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানায় বাস চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ তা ৩০৪ ধারায় নথিভুক্ত করে। 

পরে ওই মামলায় গঞ্জেরাজ পরিবহেনর মালিক জয়নাল মিয়াকে ফরিদপুর থেকে আটক করেন র‌্যাব সদস্যরা। রোববার বিকেলে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পরদিন সকালে মালিকের পক্ষের আইনজীবীরা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম এম মোর্শেদের আদালতে জামিন আবেদন করেন। একই সময়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন চালক মহিদ মিয়া ওরফে খোকন। পরে আদালত দু'জনকে জামিন দেন।