গ্রাম আদালতের প্রশংসায় ইইউ রাষ্ট্রদূত ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০১৯      

খুলনা ব্যুরো

গ্রাম আদালত গ্রামীণ দরিদ্র জনগণের মাঝে খুব সহজে ও কম খরচে বিচারিক সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার। 

বৃহস্পতিবার সকালে ইইউ রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন রেনসে টেরিঙ্ক এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে এ মন্তব্য করেন।

নৈহাটি ইউনিয়ন পরিদর্শনকালে কূটনীতিকরা এ ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতে বিরোধ মীমাংসা সংক্রান্ত বিচারকাজ ও শুনানি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তারা গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিচারিক সেবাপ্রাপ্ত সুবিধাভোগীদের সঙ্গে আলোচনা, গ্রাম আদালতের নথিপত্র পরিদর্শন এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্য সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ ছাড়া তারা খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গ্রাম আদালত-সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে এক সভায় অংশ নেন।

রেনসে টিরিঙ্ক বলেন, 'বিচার প্রাপ্তির অধিকার সামাজিক শান্তি বজায় রাখা ও সুশাসনের জন্য অনিবার্য। যা গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। এ আদালতের বিচারক প্যানেলে নারীর উপস্থিতি এবং নারীদের সহজ প্রবেশাধিকার নারীর বিচারপ্রাপ্তির সুযোগকে আরও প্রসারিত করছে।'

রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেন, উচ্চ আদালতে মামলার জট যাতে আর বাড়তে না পারে সেজন্য গ্রাম আদালত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তিনি এ আদালতকে আরও সক্রিয় করার জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সার্বিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন।


ইইউ রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে এ প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন গভর্নন্যান্স টিম লিডার মিসেস আড্রে মায়োলট, প্রোগ্রাম ম্যানেজার গভর্ন্যান্স আলেকজান্দ্রু কেলট, প্রোগ্রাম ম্যানেজার গভর্ন্যান্স ফিলিপ মেলিশ। এ সময় বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়ক সরদার এম আসাদুজ্জামান তাদের সঙ্গে ছিলেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন 'বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প' ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ), বাংলাদেশ সরকার এবং ইউএনডিপির আর্থিক সহায়তায় ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নৈহাটি ইউনিয়নসহ খুলনা জেলার ৪১টি এবং সারাদেশের এক হাজার ৮০টি ইউনিয়নে কাজ করছে।