পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৯      

নওয়াপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি

ছবি: সংগৃহীত

যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। পরিশোধিত বিল বকেয়া দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। সেবা পেতে টাকা জমা দিয়েও সেবা মিলছে না। ভৌতিক বিল করাসহ গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে।

পুনঃসংযোগ পেতেও গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এসব বিষয়ে অভিযোগ দিয়েও গ্রাহকরা সময়মতো প্রতিকার পাচ্ছেন না। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে কোনো বিষয়ে জানতে গেলে গ্রাহকদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খারাপ আচরণ করারও অভিযোগ রয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস সূত্রে জানা গেছে, নওয়াপাড়ায় ৮০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে বড় শিল্প ৫২টি, ছোট শিল্প ৪৫০টি, সেচ ৬১০টি, মসজিদ ও সরকারি প্রতিষ্ঠান এক হাজার ১০০টি, বাণিজ্যিক দোকান চার হাজার ৭০০টি, আবাসিক ৭৩ হাজার ৮৮ গ্রাহক রয়েছেন।

জানা গেছে, নওয়াপাড়া বাজারের সনজিৎ কুমার সাহার হিসাব নম্বর ১৯৫৬। ওই মিটার পরিচালনাকারী বিরেন জোয়ারদার একটি বাল্ব ও একটি ফ্যান চালান। প্রতি মাসে তার মিনিমাম বিল হয় ৯০ থেকে ১১০ টাকা। কিন্তু গত আগস্ট মাসে ৩৫ হাজার ৭৮৪ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বারবার গেলেও বিরেনের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। পরে ওই বিল কমিয়ে ৪ হাজার ৮৫৮ টাকা করা হয়েছে।

বিরেন জোয়ারদার বলেন, 'আমি একটি বাল্ব ও একটি ফ্যান চালাই। এ বিল কীভাবে হয় অফিসে জানতে গেলে আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয়নি। পরে যে বিল করা হয়েছে তাও আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব হবে না।'

নওয়াপাড়া মদিনা ক্লিনিকের হিসাব নম্বর ৬০৯/১৯৮৭। ওই ক্লিনিকের গত আগস্ট মাসের বিলের সঙ্গে অন্যের হিসাব যোগ করে ৬৬ হাজার ১১৭ টাকা বিল করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ওই ক্লিনিকের প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম মিন্টু অফিসে গেলে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাকে ওই টাকাই দিতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নওয়াপাড়া বাজারের আমিনুর রহমান খোকন আকুঞ্জি অভিযোগ করে বলেন, ভোগান্তির আরেক নাম যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর নওয়াপাড়া জোনাল অফিস। অফিসের কর্মকর্তারা গ্রাহকদের নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন। আমার আবাসিক মিটারের সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে ট্রান্সমিটার ভাড়া বাবদ ৭ হাজার ৫২৬ টাকা বিল করা হয়েছে।

নওয়াপাড়া গোহাট বায়তুল সালাম জামে মসজিদের কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, ট্রান্সমিটারের জন্য গত ১৫ মে আবেদন করে ৪২ হাজার ২৭ টাকা জমা দিয়েছি। মসজিদের অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএমসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে ধরনা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা যে আচরণ করেছেন, তা প্রকাশ করার নয়। এখন আর যাই না। যেদিন দেয় সেদিন দেবে।

অভয়নগর উপজেলার বুইকরা গ্রামের জাবের আলী বিশ্বাসের বিল পরিশোধ থাকার পরও তার নামে মামলা করা হয়। জাবের বিশ্বাস বলেন, আমি উল্টো মামলা করার কথা বললে আমাকে ডেকে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো গ্রাহকের ২-৩ মাস বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলেছেন, অনেক প্রভাবশালী গ্রাহকের বছরের পর বছর বিল বাকি থাকলেও তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে না। আবার একবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে হয়রানির শেষ নেই। পুনঃসংযোগ পেতে এক হাজার ২০০ টাকা জমা দিতে হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নওয়াপাড়া জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমার আগের কর্মকর্তারা ভাড়াটিয়াদের নামে মিটার দিয়েছিলেন, তারা বিল বাকি করে চলে গেছেন। সে বিল তো তাকেই দিতে হবে। আর দু-একটি বিষয়ে সমস্যা হয়েছে, সেগুলো দেখা হবে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের খারাপ আচরণের বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রাহক কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।