যশোরে যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষীদের নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০   

যশোর অফিস

সোমবার নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও পেশ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

সোমবার নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও পেশ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

বাঘারপাড়া উপজেলার প্রেমচারা গ্রামের যুদ্ধাপরাধী আমজাদ মোল্লার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হওয়ার পর থেকে সাক্ষীদের বিরুদ্ধে হামলা, অপহরণ, হত্যা, বাড়িতে আগুন দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার যশোর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা শাখার নেতারা এ অভিযোগ করেন। তারা বলেন, 'একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে ওই মামলার সাক্ষীদের হয়রানি করা হচ্ছে। সাক্ষী, তাদের আত্মীয়-স্বজন ও নির্মূল কমিটির নেতাদের আসামি করে ঘন ঘন গ্রেপ্তারসহ তল্লাশির নামে বাড়িঘর ভাঙচুর করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সাক্ষীরা ট্রাইব্যুনালে যেতে ভয় পাচ্ছেন। মামলা থেকে যুদ্ধাপরাধীকে রক্ষার অপকৌশল এটি। এ পরিস্থিতিতে সাক্ষীদের সুরক্ষা প্রদান করা সরকারের দায়িত্ব বিধায় এ ধরনের অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করা হোক।'

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, আমজাদ রাজাকার ও তার পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। আমজাদ রাজাকারের পুত্রবধূ সংসদ সদস্যের ন্যাম ফ্লাটে গিয়ে তাকে মিষ্টিমুখ করানোসহ আমজাদ রাজাকারের সভাপতিত্বে বৈশাখী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় এমপি। যে কারণে আমজাদ রাজাকারের সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা শাখার সভাপতি হারুন অর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক সাজেদ রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন দোদুল, এবিএম কামরুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক প্রণব দাস ছাড়াও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী আলাউদ্দিন বিশ্বাস, রকিব উদ্দিন বিশ্বাস রতন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষীদের সুরক্ষা ও তাদের ওপর হামলা-মামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও পেশ করা হয়।

সাক্ষীদের সুরক্ষা প্রদান নিশ্চিত করা না হলে আগামীতে সাক্ষীদের পক্ষে আর সাক্ষ্য প্রদান করা সম্ভব হবে না বলে সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপির মাধ্যমে জানানো হয়।