ত্রাণের চাল চুরি, ভাইস চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২০   

যশোর অফিস ও মণিরামপুর প্রতিনিধি

 উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু -সংগৃহীত ছবি

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু -সংগৃহীত ছবি

যশোরের মণিরামপুরে সরকারি ত্রাণের ৫৪৯ বস্তা চাল চুরির মামলায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। 

ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সোমেন দাস বৃহস্পতিবার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তীকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত অন্যরা হলেন- মণিরামপুরের বিজয়রামপুরের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন, তাহেরপুর গ্রামের মৃত সোলায়মান মোড়লের ছেলে শহিদুল ইসলাম, জুড়ানপুর গ্রামের রবিন দাসের ছেলে জগদিশ দাস, একুব্বার মোড়লের ছেলে আব্দুল কুদ্দুস ও খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা সাহেবপাড়ার রতন হাওলাদারের ছেলে ড্রাইভার ফরিদ হাওলাদার। 

উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল খুলনার মহেশ্বরপাশা থেকে যশোরের মনিরামপুরের উদ্দেশে ৫ ট্রাক সরকারি ত্রাণের চাল আসে। যার মধ্যে থেকে এক ট্রাক চাল গোডাউনে লোড না দিয়েই স্থানীয় ভাই ভাই রাইস মিলে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ৫৪৯ বস্তা চাল উদ্ধার এবং মিল মালিক ও ট্রাক ড্রাইভারকে আটক করে। 

মামলার বিবরণে জানা গেছে, এই চালের কোন বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় এসআই তপন কুমার সিংহ বাদী হয়ে কালোবাজারির মাধ্যমে চাল মজুদের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মণিরামপুর থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় আটক দু’জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ওই জবানবন্দিতে তারা মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চুসহ কয়েকজনের নাম প্রকাশ করে। তদন্ত শেষে ওই ৬ জনকে অভিযুক্ত করে যশোর আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন। 

তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫৪৯ বস্তা চাল ত্রাণের। ওই চাল ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম কুমার চক্রবর্তী বাচ্চু বেশি মুনাফার লোভে কালোবাজারে বিক্রি করে দেন। যার মূল্য ছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রথমে উত্তম কুমার ৪ লাখ টাকা নিয়েছেন পরে আরো ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোমেন দাস বলেন, আদালত চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।