চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে খুলনার মানুষ। রোববার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া কয়েক দফা বৃষ্টিতে নগরীর অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে। এর ফলে লোকজনের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এমনকি ড্রেন ও সড়ক ছাপিয়ে পানি ঢুকে যায় বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।

খুলনা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার সকাল ৬টা থেকে টানা বিকেল ৩টা পর্যন্ত থেমে থেমে কয়েকবার বৃষ্টি হয়েছে। এ সময় ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা এ বছরের সবচেয়ে বেশি।

বৃষ্টির কারণে নগরীর রয়্যাল মোড়, কেডিএ এভিনিউ, বাইতিপাড়া, মৌলভীপাড়া, শান্তিধাম মোড়, শামসুর রহমান রোড, পূর্ব বানিয়াখামার, বড় মির্জাপুরসহ বেশিরভাগ এলাকা ও সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নগরীর লবণচরা, মোল্লাপাড়া ও পশ্চিম টুটুপাড়ার খালপাড় এলাকার বেশিরভাগ বাড়িতে হাঁটুসমান পানি জমে যায়।

এদিন সকাল ১০টায় লবণচরা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আশপাশের সব জলাশয় পানিতে টইটম্বুর। সড়কের ওপর হাঁটুসমান পানি। কাপড় গুটিয়ে সেই পানির মধ্য দিয়ে লোকজন চলাচল করছেন। একাধিক সড়কে লোকজন জাল দিয়ে মাছ ধরছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, রাস্তায় পানি থাকায় বাড়ি থেকে বের হয়েই বিপাকে পড়েন নগরবাসী। যানবাহন না পেয়ে অনেককেই কাকভেজা হয়ে কর্মস্থলে যেতে হয়েছে। নগরীর শামসুর রাহমান রোড, আহসান আহমেদ সড়কসহ কয়েকটি সড়কে কাজ চলায় রিকশা, ইজিবাইক উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। সব মিলিয়ে দুর্ভোগের একটি দিন পার করল খুলনার মানুষ।

নগরীর জিন্নাহপাড়া মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাকারিয়া তুষার জানান, সকালে ঘুম থেকে জেগে খাট থেকে নিচে পা দিয়ে দেখেন ঘরের মধ্যে প্রায় ৪-৫ ইঞ্চি পানি। পরে গামলা দিয়ে সেচে সেই পানি ঘর থেকে বের করেন; কিন্তু ঘরের সব জিনিসপত্রে নোংরা পানি লেগে গেছে।

এ ব্যাপারে খুলনা সিটি করপোরেশন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ সমকালকে বলেন, সকালে জোয়ারের সময় ভারি বৃষ্টি হয়েছে। স্লুইচগেট বন্ধ থাকায় ড্রেনের পানি নামতে সময় লেগেছে। নগরীর অধিকাংশ সড়কের পানি নেমে গেছে। শুধু রূপসা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ড্রেনগুলোর পানি নামতে সময় লাগছে। ভাটা শুরু হলে দ্রুত পানি নেমে যাবে।

বিষয় : মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি ভোগান্তি খুলনা

মন্তব্য করুন