মেহেরপুর সীমান্তের তিন দিকে ভারতীয় কাঁটাতারে ঘেরা। তার পাশ ঘেঁষে রয়েছে ভারতীয়দের জমি। সেখানে ভারতীয় ও বাংলাদেশি কৃষক মিলেমিশে কাজ করেন। এর ফলে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে রয়েছেন জেলার সীমান্তাঞ্চলের মানুষ। তবে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, করোনা প্রতিরোধে বিজিবি, স্বাস্থ্য বিভাগসহ প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলার পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সীমান্ত। এ পাশে বাংলাদেশের অন্তত ১৫টি গ্রাম রয়েছে। বাংলাদেশ ঘেঁষে ভারতীয়দের জমি থাকায় প্রতিদিন কৃষি কাজের জন্য ভারতীয়রা সীমান্তে প্রবেশ করে। কাঁটাতারের প্রধান ফটকে বিএসএফ সদস্যদের কাছে ভারতীয় জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা জমিতে কৃষি কাজ করেন তারা। করোনার এই ভয়াবহতায়ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরে ঢুকে দু'দেশের কৃষকরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই মিলেমিশে চাষাবাদ করছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মেহেরপুরে বর্তমানে করোনার সংক্রমণ হার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। সীমান্তের গ্রামগুলোতে প্রশাসন করোনাবিষয়ক সতর্কতামূলক তথ্য প্রচার করলেও তা মানছে না কেউ।

সীমান্তের ইচাখালী গ্রামের কৃষক রইস উদ্দীন বলেন, পাশাপাশি বা একই মাঠে কৃষকরা কাজ করায় করোনার ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়তে পারে। সীমান্তবর্তী ঝাঁঝাঁ গ্রামের কায়েম উদ্দীন বলেন, ভারতীয়দের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণের কারণে একসঙ্গে চাষাবাদ করি আমরা। এতে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, গত কয়েক দিনে করোনা নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেশ কয়েকজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অথচ কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানতে চাচ্ছে না।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মিরপুরের সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরহাদ হারুন চৌধুরী বলেন, চেকপোস্ট দিয়ে ভারত থেকে যে বাংলাদেশিরা প্রবেশ করছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সহায়তায় তাদের কোয়ারেন্টাইনের রাখা হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান বলেন, করোনা প্রতিরোধে সমন্বিত কাজ চলছে। সীমান্তে বিজিবিও টহল জোরদার করেছে।

রোববার সকাল পর্যন্ত মেহেরপুরে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৯১ জনে এবং মারা গেছেন ৩৩ জন।

বিষয় : সীমান্ত মাঠ ভারতীয় কৃষক করোনা আতঙ্ক মেহেরপুর

মন্তব্য করুন