মামলাজট কমানোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে: আইনমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০১৯     আপডেট: ১৬ জুন ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, মামলাজট কমিয়ে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য মাত্রায় আনতে হবে এবং এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে। আমরা কোনো বিচারপ্রার্থীকে বছরের পর বছর ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের বারান্দায় দেখতে চাই না। কারণ বিলম্বিত বিচারে বিচারপ্রার্থী যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন তেমনি তার ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সংকুচিত হয়। এর ফলে অপরাধীর পার পেয়ে যাওয়ার পথ সুগম হয় এবং তারা নতুন করে অপরাধ করতে উৎসাহিত হয়।  

রোববার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশিক্ষণে ৪৪ জন প্রসিকিউটর অংশ নেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের কাঙ্ক্ষিত জাতীয় উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাঁধা নারী নির্যাতন। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার সরকার গঠন করেই এই বাঁধা দূর করার জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। যার মধ্যে অন্যতম পদক্ষেপ ছিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আধুনিকায়ন।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকসহ অন্যানরা বক্তব্য রাখেন। 

আনিসুল হক আরও বলেন, অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া থেকে পার পেয়ে যাওয়ার পরিণাম যে কত ভয়াবহ তা সমাজে ক্রমবর্ধমান হারে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ধর্ষণ মামলায় শেষ পর্যন্ত নগণ্য সংখ্যক আসামির সাজা হয়। বাকিরা প্রভাব-প্রতিপত্তি, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় ভিকটিমকে হয়রানি, সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাব, বাদীপক্ষের সঙ্গে আসামিপক্ষের সমঝোতা ইত্যাদি কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে সমাজে ধর্ষণের মতো ঘৃণিত কাজ বেড়েই চলেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, যে কোনো উপায়ে অপরাধ বা অপরাধ প্রবণতা কমাতে হবে। নাহলে আমাদের উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। একজন অপরাধীও যাতে আইনের ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে এড়াতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। অপরাধ করলে শাস্তি ভোগ করতে হবে- এই নীতি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই সামাজিক অপরাধ কমতে থাকবে, শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, জনগণ উন্নয়নের পুরো সুফল ভোগ করতে পারবে। 

বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে প্রসিকিউটরদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অবশ্যই আদালতের সময় ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সব নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। আদালতে সঠিক সময়ে সাক্ষী হাজিরসহ নির্ধারিত তারিখে সাক্ষী পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে সচেষ্ট হতে হবে। বিচারপ্রার্থীরা আপনাদের কাছে যেন সবরকম সহযোগিতা পায় সে বিষয়ে সজাগ থাকবেন। সরকার দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আদালত অঙ্গনে দুর্নীতি সংক্রান্ত সব প্রথাগত কর্মকান্ড পরিহার করে সততা, স্বচ্ছতা ও সাহসিকতার সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলেই প্রত্যাশিত স্বল্প সময়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে এবং বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।