ওসি মোয়াজ্জেমের বিচার শুরু

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০১৯      

আদালত প্রতিবেদক

সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন— ফাইল ছবি

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস সামছ জগলুল হোসেন বুধবার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ৩১ জুলাই দিন ধার্য করেন। এ সময় ওসি মোয়াজ্জেম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

এদিন আদালতে ওসি মোয়াজ্জেমের পক্ষে শুনানি করেন তার আইনজীবী আবু সাঈদ সাগর ও ফারুক আহম্মেদ। তারা বলেন, মানহানির মামলা করতে হয়, যার হয়েছে তার বা তার পরিবারের। কিন্তু এক্ষেত্রে যিনি মামলা করেছেন তিনি নুসরাতের কেউ নন। তার সম্মানহানির কিছু নেই। তা ছাড়া একজন সাংবাদিক তার মোবাইল থেকে ভিডিও নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। তাই এ মামলা চলতে পারে না, আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।

অন্যদিকে, রাষ্ট্র পক্ষে এ আদালতের পিপি নজরুল ইসলাম শামীম শুনানিতে বলেন, ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ায় 'গোটা জাতির' সম্মানহানি হয়েছে। ব্যারিস্টার সুমন তার বিবেকবোধ থেকে এ মামলা করেছেন। ভিডিও ধারণ করা তো দূরের কথা, অপ্রাপ্তবয়স্ক ভিকটিমের নাম প্রকাশ করাও আইনে নিষিদ্ধ। সেখানে এই আসামি অসৎ উদ্দেশ্যে এই ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছে।

উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক আসামির অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত তার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করার পর সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম তাকে থানায় ডেকে জবানবন্দি নিয়েছিলেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, মোয়াজ্জেম বেআইনিভাবে মোবাইল ফোনে নুসরাতের জবানবন্দির ভিডিও করেন এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হলে গত ১৫ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেমকে আসামি করে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ওই অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর গত ২৭ মে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল। পরে নুসরাতের মৃত্যুর পর পুলিশ বাহিনী থেকে ওসি মোয়াজ্জেমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর গত ১৬ জুন হাইকোর্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।