অশীতিপর রাবেয়ার মামলা: ভোলার এসপিকে হাইকোর্টে তলব

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

একটি অস্ত্র মামলার আসামি জীবিত না মৃত- এ বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি বিচারক বরাবর প্রতিবেদন পাঠানোর কারণে ভোলার পুলিশ সুপারকে (এসপি) তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২০ আগস্ট তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। এ মামলার আরেক আসামি অশীতিপর রাবেয়া খাতুন গত ১৮ বছর ধরে ঘুরছেন আদালতে।

রাবেয়া খাতুনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আশরাফুল আলম নোবেল। ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারকের পক্ষে আইনজীবী এএম আমিনউদ্দিন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন মৃধা।

তেজগাঁও থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি জুলহাস জীবিত না মৃত, সে বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারকে গত ৩ জুলাই প্রতিবেদন আকারে জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের ধারাবাহিকতায় বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলহাস ওরফে জুয়েল গত ১০/১২ বছর আগে পরিবার নিয়ে ভোলায় চলে গেছেন। অন্যদিকে, ভোলার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে হাইকোর্ট বিভাগের দু'জন বিচারপতির বরাবরে সরাসরি খামে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোলায় জুলহাস নামে কোনো ব্যক্তি নেই, তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভোলা সদর এলাকায় পশ্চিম বাপতা নামে কোনো গ্রামও নেই।

এ সময় রাবেয়া খাতুনের আইনজীবী আশরাফুল আলম নোবেল আদালতকে জানান, ২০০৪ সালের ১ নভেম্বর ফার্মগেটের পশ্চিম তেজতুরিবাজার এলাকায় জুলহাসকে দুস্কৃতকারীরা গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় তার মা নূরজাহান বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলটি ঢাকার আদালতে বিচারাধীন।

এ পর্যায়ে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তাহলে পুলিশ কী প্রতিবেদন পাঠাল। এসব প্রতিবেদন পরস্পরবিরোধী। এখানে পুলিশের গাফিলতি রয়েছে। আদালত আরও বলেন, ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) যেভাবে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন, সেখানে কোনো অফিসিয়াল ডেকোরাম অনুসরণ করা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ে না পাঠিয়ে খামের ওপর ভুলভাবে আমাদের (বিচারপতি) ঠিকানা লিখে সরাসরি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। এখানে কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি।

আদালত ভোলার এসপিকে এ ব্যাপারে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য ২০ আগস্ট দিন ধার্য করেন। একইসঙ্গে ডিএমপি কমিশনারের আইন শাখাকে আসামি জুলহাসের বিষয়ে সঠিকভাবে প্রতিবেদন দিতে বলেন আদালত।

আদেশের পর ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারকের পক্ষে আইনজীবী এএম আমিনউদ্দিন বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশের পরও বিচার কাজ অব্যাহত রাখার অভিযোগে তলব করা ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল মামুন নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চেয়ে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এর আগে ওই আদালতের এপিপি শাহাবুদ্দিন মিয়া নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এ দুটি বিষয় আদালতের রেকর্ডে রাখা হয়েছে।

অবৈধ অস্ত্র ও গুলি নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে অশীতিপর রাবেয়া খাতুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিলেন ২০০২ সালের ২ জুন। মামলা নম্বর ১৯৩৮/০২। এরপর রাবেয়া গ্রেফতার হন এবং ছয় মাস কারাগারে থেকে জামিনও পান। পরে তাকেসহ দুই আসামি জুলহাস ও মাসুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালের ২৪ মার্চ শুরু হয় মামলার বিচার। কিন্তু গত ১৪ বছর আদালতে জুলহাসের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। আর ওই মামলা থেকে মুক্তি পেতে ঢাকার আদালতের বারান্দায় ১৮ বছর ধরে ঘুরছেন অশীতিপর রাবেয়া খাতুন।