১৬ দফা নির্দেশনা আপিল বিভাগের

আগাম জামিন সর্বোচ্চ আট সপ্তাহ

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

উচ্চ আদালতে আগাম জামিন বিষয়ে নতুন নীতিমালা দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আগের নীতিমালায় এ নিয়ে হাইকোর্টের প্রতি সাতদফা নির্দেশনা থাকলেও এবার তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৬ দফা।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চের এক রায়ে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগ এখন থেকে কোনো ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন দিতে পারবেন; যা আগে ছিল চার সপ্তাহ। হত্যা, ডকাতি ও ধর্ষণের সুনিদিষ্ট মামলায় আসামিকে আগাম জামিন দেওয়া যাবে না। এছাড়াও কাউকে গ্রেপ্তারের সময় সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করতেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে উচ্চ আদালতে আগাম জামিন পাওয়া আগের চেয়ে কিছুটা সহজ হবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

নাশকতার মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ এক ডজন বিএনপি নেতাকে হাইকোর্টের দেওয়া আগাম জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে করা লিভ টু আপিল (আপিল অনুমতি) আবেদন নিষ্পত্তি করে গত ১৮ এপ্রিল আদেশ দেন আপিল বিভাগ। বুধবার ওই মামলার লিখিত রায় আপিল বিভাগ থেকে প্রকাশ করা হয়। রায়ে আগাম জামিনের বিষয়ে হাইকোর্টকে এবার ১৬ দফা নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালের ২০ মার্চ আগাম জামিন বিষয়ে হাইকোর্টের প্রতি সাতদফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

১৬ দফা নির্দেশনার আরও বলা হয়েছে, আগাম জামিন বিবেচনায় সুনিদিষ্ট, যৌক্তিক ও বিশ্বাসযোগ্য কারণ থাকতে হবে। জামিন সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ (ক) ধারা বাতিল কর হয়েছে। আগাম জামিনের অপব্যবহার করলে রাষ্ট্রপক্ষ তা বাতিল চাইতে পারবে। হাইকোর্টকে এফআইআর সুক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করতে হবে এবং দেখতে হবে আগাম জামিন দিলে পলাতক হওয়ার আশঙ্কা আছে কি-না। অভিযুক্তের চরিত্র, আচার-আচরণ বিবেচনায় নিতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী জামিন ব্যতিক্রম ক্ষমতা। এ ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। আগাম জামিন পেয়ে কোনো সাক্ষীকে যেন ভয়ভীতি না দেখায়, সেই শর্ত জুড়ে দিতে হবে। অনির্দিষ্টকালের জন্য আগাম জামিন দেওয়া যাবে না। আগাম জামিনের ক্ষেত্রে তদন্তের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। আগাম জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা আসামি তদন্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করবে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় করা নাশকতার মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেন বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, খন্দকার মাহবুব হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বরকতউল্লাহ বুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, হাজী সালাহউদ্দিন আহমেদ, মো. শাহজাহান, এজেডএম জাহিদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক মোরশেদ হাসান খান ও আমিনুর রহমানও আগাম জামিন পান। এরপর বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্টের দেওয়া ওই আগাম জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ এপ্রিল ওই আপিল নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

আদালতে বিএনপি নেতাদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। আপিল বিভাগের নতুন নির্দেশনার বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত ছিল চার সপ্তাহের বেশি জামিন দেওয়া যাবে না। জনস্বার্থে ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়া দরকার ছিল। আপিল বিভাগের নতুন নির্দেশনায় তার প্রতিফলন ঘটেছে।