ভার্চুয়াল কোর্টে আগ্রহ বাড়ছে আইনজীবীদের

চার দিনে জামিন তিন হাজার

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২০     আপডেট: ১৬ মে ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়াকিল আহমেদ হিরন

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

দেশে করোনা পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল কোর্টের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে আইনজীবীদের। গত ১১ মে ভার্চুয়াল বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হয়। গত চার দিনে উচ্চ আদালতসহ দেশের বিভিন্ন অধস্তন আদালত থেকে তিন হাজার আসামির জামিন হয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, স্বল্প পরিসরে চালু হওয়া ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে খুব দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। এটা সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভার্চুয়াল আদালতের প্রথম দিনে (১১ মে) কুমিল্লা জেলা জজ আদালতে এক মামলায় একজনের জামিন হয়। দ্বিতীয় দিন সারাদেশের অধস্তন আদালতে ১৪৪ জনের জামিন হয়। তৃতীয় দিনে এক হাজার ১৮৩টি আবেদনের মধ্যে এক হাজার ১৩ জনের জামিন হয়। এদিন হাইকোর্ট থেকে জামিন হয়েছে সাতজনের। চতুর্থ দিন বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতসহ সারাদেশে এক হাজার ৮২১ জনের জামিন হয়েছে। এদিন হাইকোর্ট থেকে ৮ মামলায় জামিন হয়েছে ১২ জনের।

সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত, হাইকোর্টের পৃথক চারটি বেঞ্চসহ অধস্তন আদালতের ভার্চুয়াল বেঞ্চে মামলা শুনানি হচ্ছে। গত চার দিনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধস্তন আদালতে ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে জামিন শুনানি পর্যায়ক্রমে বাড়ছে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে গত ১১ মে দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতে ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়। বিচারক ও আইনজীবীদের আদালত কক্ষে উপস্থিত না হয়ে এই ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে কোর্টের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রথম দিকে আইনজীবীদের মধ্যে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

তরুণ আইনজীবীদের বেশিরভাগই এই প্রক্রিয়াকে আধুনিক ও যুগোপযোগী বলে স্বাগত জানান। অন্যদিকে কোনো কোনো প্রবীণ আইনজীবী তথ্যপ্রযুক্তিগত জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে এ পদ্ধতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এই অসন্তোষ ক্রমেই কেটে যাচ্ছে। অধিকাংশ জেলাতেই পর্যায়ক্রমে এখন শুরু হচ্ছে ভার্চুয়াল আদালত।

ভার্চুয়াল কোর্টকে যুগান্তকারী বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সমকালকে বলেন, ভার্চুয়াল কোর্ট সম্পর্কে আইনজীবীদের মধ্যে আস্তে আস্তে আগ্রহ বাড়ছে। মামলা শুনানির আবেদনের সংখ্যা দেখে তা বোঝা যায়। আদালত একেবারে যে বন্ধ ছিল, সেটা এখন আর নেই। সারাদেশে মামলার শুনানির পরিমাণ আগামীতে আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সমকালকে বলেন, এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে জামিন আবেদন শুনানির জন্য ভার্চুয়াল কোর্ট সঠিক পদক্ষেপ। তা ছাড়া সুপ্রিম কোর্টেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু জনস্বার্থ মামলা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ভার্চুয়াল বেঞ্চের বিচারকও জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এএম আমিনউদ্দিন সমকালকে বলেন, ভার্চুয়াল কোর্ট না হলে এই তিন হাজার মানুষকে জেলখানায় থাকতে হতো। এখন কিছুটা হলেও তারা বিচার পাচ্ছেন। তিন হাজার বিচারপ্রার্থীর সঙ্গে আরও দুই হাজার আইনজীবী সম্পৃক্ত। আইনজীবীরা ক্রমেই এগিয়ে আসছেন। ভবিষ্যতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিটা বিচার নিষ্পত্তিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন তিনি।

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক সমকালকে বলেন, ভার্চুয়াল বেঞ্চে জামিন দেওয়া হচ্ছে- এটা নিঃসন্দেহে ভালো পদক্ষেপ। দ্বিতীয়ত, জামিনের মামলা দিয়ে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কী ধরনের মামলা ভার্চুয়াল কোর্টে নিষ্পত্তি করা যায়, সেটা বিবেচনা করে এর পরিধি আরও বাড়াতে হবে। এই উদ্যোগটা নিতে হবে সুপ্রিম কোর্টকেই।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সমকালকে বলেন, আইনজীবীদের স্বতঃস্ম্ফূর্ত অংশগ্রহণে খুব ভালোভাবে চলছে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম। যেসব এলাকায় প্রথম দিকে আইনজীবীদের আগ্রহ ছিল না, তাদের মধ্যেও এখন ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বিচারকরা আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন।