সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ

নিয়মিত আদালত চালু নিয়ে বিভক্ত আইনজীবীরা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২০     আপডেট: ১৪ জুন ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

আবু সালেহ রনি

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার এখনও ঊর্ধ্বমুখী। এ অবস্থায় দেশের উচ্চ ও অধস্তন আদালতে নিয়মিত বিচারকাজ শুরু করা ঠিক হবে কিনা, তা নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন আইনজীবীরা। কারও কারও মতে, নিয়মিত আদালতের পাশাপাশি ভার্চুয়াল আদালতেও বিচারকাজ চলতে পারে। তবে অধিকাংশ বিচারপতি বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়মিত আদালত খোলার পক্ষে নন।

এমন প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের আজ রোববার দুপুরে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা ও মুখপাত্র ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান সমকালকে বলেন, 'প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুযায়ী রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে আদালতের কার্যক্রম চালুর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।'

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে তরুণ ও সচেতন আইনজীবীদের অনেকেই ভার্চুয়াল আদালতেই বিচারকাজ অব্যাহত রাখার পক্ষে। তবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে নিয়মিত আদালতে বিচারকাজ চালু করা উচিত। কারণ অধিকাংশ আইনজীবী ভার্চুয়াল আদালতের উপযোগী উপকরণ (স্ক্যানার, অ্যাপসহ তথ্যপ্রযুক্তির অন্যান্য সামগ্রী) ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। যদিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনে নিয়মিত আদালতের পাশাপাশি ভার্চুয়াল আদালতেও বিচারকাজ চলতে পারে। সে জন্য আগে থেকেই নির্দিষ্ট মামলার শুনানির সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

অবশ্য পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক উচ্চ আদালতের একাধিক বিচারপতির মতে, ভার্চুয়াল কোর্ট স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। এটি বিত্তবানদের সুরক্ষা ব্যবস্থা। সবার জন্য সমান বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব। তবে অধিকাংশ বিচারপতিই বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়মিত আদালত খোলার পক্ষে নন।

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে গত ২৫ মার্চ থেকে দেশের উচ্চ ও অধস্তন আদালতে নিয়মিত বিচারকাজ বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আইন সংশোধন করে গত ১১ মে থেকে দেশে ভার্চুয়াল আদালতে বিচারকাজ শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে গত ২০ কার্যদিবসে ৬০ হাজার ৩৮৯টি আবেদনের শুনানি নিয়ে ভার্চুয়াল আদালতে ৩৩ হাজার ১৫৫ জনের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। যদিও নিয়মিত আদালতে জামিনের তুলনায় এই সংখ্যা যথেষ্ট নয়। তা ছাড়া ভার্চুয়াল আদালতে শুধু জামিন আবেদনের শুনানি নেওয়া হয়েছে। এ জন্যই নিয়মিত আদালতে বিচারকাজ চালুর পক্ষে অধিকাংশ আইনজীবী। যদিও করোনা শনাক্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়ে চলায় উদ্বিগ্নও সবাই।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন সমকালকে বলেন, 'সংবিধান অনুসারে আদালতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার প্রধান বিচারপতির। তিনিই বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।'

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, অবিলম্বে সব আদালত খুলে দেওয়া হোক এবং কয়টি মামলা, কোন কোর্ট শুনবে, কী ধরনের শুনানি হবে ইত্যাদি ব্যাপারে নির্দিষ্ট নীতিমালা দেওয়া হোক। কারণ করোনার এ ব্যাধি কবে শেষ হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আদালত বন্ধ থাকতে পারে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে নীতিমালার আওতায় প্রধান বিচারপতি অবিলম্বে নিয়মিত আদালত খুলে দেবেন বলে আশা করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর জিয়াদ আল মালুম বলেন, 'করোনার প্রকোপ বাড়ছে। ফলে নিয়মিত আদালত বন্ধ রাখা উচিত।'

অবশ্য আইনজীবী মনজিল মোরসেদের মতে, 'দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল আদালতের সঙ্গে আংশিক নিয়মিত আদালতের বিচারকাজ চালু রাখা উচিত। '

সুপ্রিম কোর্টের সাধারণ আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, 'নিয়মিত কোর্ট চালু না হলে আমরা আরও অসহায় হয়ে পড়ব।'

আইনজীবী শাহ নেওয়াজ বলেন, 'এতদিন পর স্বাভাবিক কোর্ট চাই, কোনো ভার্চুয়াল আদালত নয়।'

তবে অধস্তন আদালতের এক বিচারক বলেন, 'স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে আদালতের বিচারকাজ পরিচালনা করা দুরূহ। কারণ আদালতের বিচারকক্ষে যদি পাঁচ জন করেও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, বারান্দায় আইনজীবী, ক্লার্ক, বিচারপ্রার্থী, আসামি, পুলিশ, সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারী, চালক ইত্যাদি মিলিয়ে কত মানুষ হবে? এদের সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।