পাপুলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব

বাবুল চিশতীর জব্দ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রতারণা ও মানব পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দীর্ঘদিন জেলে থাকা ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক পরিচালক মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীর পরিবারের সবার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (স্থগিত) করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে সম্প্রতি সব ব্যাংকে চিঠি দিয়ে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কাজী পাপুল বা তার স্বার্থসংশ্নিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে অতীতে বা বর্তমানে কোনো হিসাব পরিচালিত হয়ে থাকলে তা জানাতে হবে। তার অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, লেনদেন বিবরণীসহ সব ধরনের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। পাপুলের বর্তমান ঠিকানা দেওয়া হয়েছে- সিইএন ডি/২, রোড-৯৫, গুলশান-২। আর স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে- লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর পৌরসভার কাজী বাড়ি। পাপুল প্রবাসী বাংলাদেশিদের মালিকানায় গড়ে ওঠা এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক। অবশ্য কুয়েতে আটকের পর নানা আলোচনার মধ্যে ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে তার নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
অপর এক নির্দেশনায় ফারমার্স ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক বাবুল চিশতী পরিবারের সবার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এতে এখন আর তাদের পরিবারের কেউ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারবেন না। চিঠিতে বলা হয়েছে, মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী, তার পরিবারের সদস্য বা স্বার্থ-সংশ্নিষ্ট অন্য কোনো নামে অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হলে আগামী ৩০ দিনের জন্য ফ্রিজ করতে হবে। চিঠিতে বাবুল চিশতীর পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- তার পিতা মেজবাউল হক চিশতী, মা লুৎফুন নেছা, স্ত্রী রুজী চিশতী, ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, মেয়ে রিমি চিশতী এবং ভাই মাজেদুল হক চিশতী।
বাবুল চিশতী পরিবারের পাশাপাশি ওই সময়ে ফারমার্স ব্যাংকের এমডির পদ থেকে বহিস্কৃত একেএম শামীম এবং তখনকার আইটি বিভাগের প্রধান শাহ আজম এবং পরিবার বা স্বার্থ-সংশ্নিষ্ট কোনো অ্যাকাউন্ট থাকলে তাও এক মাসের জন্য ফ্রিজ করতে বলা হয়েছে। নানা অনিয়মে জড়িত ও সহযোগিতার জন্য শামীমকে সে সময়ে বহিস্কার করে বাংলাদেশ ব্যাংক। অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের পাশাপাশি প্রত্যেকের অ্যাকাউন্ট খোলা ও লেনদেন-সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পরিদর্শনে মাহবুবুল হক চিশতীসহ কয়েকজন মিলে ফারমার্স ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য উঠে আসে। ব্যাংকটি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে না পারায় তখন পরিচালনা পর্ষদের সবাইকে বাদ দিয়ে পুনর্গঠন করা হয়। এমডিকে চাকরিচ্যুত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকের নাম বদল করে এখন পদ্মা রাখা হয়েছে।