পাপুলের স্ত্রী-মেয়ে-শ্যালিকার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা, আয়কর নথি তলব

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২০     আপডেট: ১৭ জুন ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মানব ও অর্থপাচারে অভিযুক্ত এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী কাজী সেলিনা ইসলাম এমপি, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আবেদনটি বুধবার ঢাকার মালিবাগের পুলিশের বিশেষ শাখায় পাঠায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরপর তাদের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিমান ও স্থল বন্দরে কপি পাঠানো হয়। দুদকের একটি সূত্র খবরটি জানিয়েছে। 

সূত্রটি জানায়, কুয়েতে পাপুলের গ্রেপ্তারের বিষয়টি সরকারের কোনো দফতর থেকে অফিসিয়ালি দুদককে অবহিত করা হয়নি। এই কারণে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় পাপুলের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, গত মার্চ থেকে দুদক উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের ১৭৪ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগ অনুসন্ধান করছেন। বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে তার সই করা চিঠি বুধবার পুলিশের বিশেষ শাখায় পাঠানো হয়।

পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত (৪৯ নম্বর) মহিলা আসনের এমপি কাজী সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধান বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন। তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

লক্ষীপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত এমপি পাপুল মানব পাচারের অভিযোগে গত ৭ জুন কুয়েতে সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হন।

দুদক সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসজনিত কারণে সরকারঘোষিত ছুটির পর পাপুলের দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান জোরদার করা হয়েছে। পাপুলের বেআইনি অর্থের সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

আয়কর নথি চেয়ে আবেদন: পাপুল, তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের আয়কর নথি চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনডিআর) আয়কর বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদক উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিনের সই করা ওই আবেদনটি বুধবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।

দুদকে পেশ করা ১৭৪ পৃষ্ঠার অভিযোগে বলা হয়, পাপুল কুয়েতে মানব পাচার করে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে হুন্ডির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে অর্থপাচার এবং কাছের ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দেশে এনেছেন তিনি।