আদালতে যা বললেন ডা. সাবরিনা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২০     আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

ডা. সাবরিনা চৌধুরীকে সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়- ছবি ফোকাস বাংলা

ডা. সাবরিনা চৌধুরীকে সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়- ছবি ফোকাস বাংলা

করোনা পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ও  জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা চৌধুরী আদালতে শুনানিকালে বলেন, ‘জেকেজির চেয়ারম্যান আমাকে বলা হচ্ছে। কিন্তু আমি জেকেজির চেয়ারম্যান না। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি নির্দোষ।’ 

এ সময় আদালতে কেঁদে ফেলেন ডা. সাবরিনা।

সোমবার ডা. সাবরিনাকে আদালতে হাজির করে তেজগাঁও থানায় করা প্রতারণার মামলায় চারদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এরআগে রোববার দুপুরে তাকে তেজগাঁও বিভাগীয় উপ-পুলিশ (ডিসি) কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

শুনানিকালে সরকারি কৌঁসুলি আজাদ রহমান আদালতকে বলেন, ‘জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে মানুষের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছেন। করোনাভাইরাসের মতো ভয়ঙ্কর রোগ নিয়ে প্রতারণা করে মানুষকে বিপদে ফেলছেন। তার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে মানুষ অসহায়। এ ছাড়া সরকারি ডাক্তার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরও তিনি অন্যান্য ব্যবসা করে যাচ্ছেন। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো তথ্য বের হয়ে আসবে।’

এ সময় আদালতে ডা. সাবরিনার পক্ষে এক আইনজীবী মৌখিকভাবে জামিন চান। বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করেন।

সম্প্রতি জেকেজি'র ব্যাপারে বিশদ তদন্ত করতে গিয়েই উঠে আসে ডা. সাবরিনা ও তার প্রতারক স্বামী আরিফ চৌধুরীর নাম। তদন্ত করে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে কোনো পরীক্ষা না করেই প্রতিষ্ঠানটি ১৫ হাজার ৪৬০ জনকে করোনার টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহ করেছে। একটি ল্যাপটপ থেকে গুলশানে তাদের অফিসের ১৫ তলার ফ্লোর থেকে এই মনগড়া করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন তৈরি করে হাজার হাজার মানুষের মেইলে পাঠায় তারা।

প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় থেকে জব্দ ল্যাপটপ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর করোনা টেস্ট জালিয়াতির এমন চমকপ্রদ তথ্য মেলে। এতে দেখা গেছে, টেস্টের জন্য জনপ্রতি নেওয়া হয় সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা। বিদেশি নাগরিকদের কাছে জনপ্রতি একশ' ডলার। এ হিসাবে করোনার টেস্ট বাণিজ্য করে জেকেজি হাতিয়ে নিয়েছে সাত কোটি ৭০ লাখ টাকা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত সাবরিনার হাত ধরেই করোনার স্যাম্পল কালেকশনের কাজটি ভাগিয়ে নেয় অনেকটা অখ্যাত জেকেজি নামে এই প্রতিষ্ঠান। প্রথমে তিতুমীর কলেজে মাঠে স্যাম্পল কালেকশন বুথ স্থাপনের অনুমতি মিললেও প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার অন্য এলাকা আর অনেক জেলা থেকেও নমুনা সংগ্রহ করছিলেন তারা।

গত ২৪ জুন জেকেজির গুলশান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে আরিফসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। দু'জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জেকেজির কার্যালয় থেকে ল্যাপটপসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়। সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে চুক্তি ছিল জেকেজির। পরে ওই চুক্তি বাতিল করা হয়।