জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন সাহেদ: ডিবি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২০     আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২০   

বিশেষ প্রতিনিধি

বুধবার ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ মো. সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: সমকাল

বুধবার ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ মো. সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: সমকাল

করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে করোনা পরীক্ষায় জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন।

 বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'তাকে আরও জিজ্ঞাসা করা হবে। এই জালিয়াতির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা বের করা হবে।'

 বুধবার ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদী তীরবর্তী সীমান্ত এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। কোমরপুর সীমান্ত দিয়ে নৌকায় করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় তিনি জিন্সের প্যান্ট ও নীল রঙের শার্টের ওপর কালো রঙের বোরকা পরে ছিলেন। কোমরে ছিল গুলিভর্তি অস্ত্র। 

গ্রেপ্তারের পর ভোরেই তাকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হয়। এরপর সাহেদকে নিয়ে উত্তরায় তার একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে জাল মুদ্রা উদ্ধার করে র‌্যাব। প্রতারক সাহেদকে বুধবার সন্ধ্যায় মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সাহেদকে আদালতে উঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হয়। সকাল ১১টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জসীম তার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের কাপাশিয়া থেকে রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। 

গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব। পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিল তারা। অভিযানে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অন্তত ছয় হাজার ভুয়া করোনা পরীক্ষার সনদ পাওয়ার প্রমাণ পায়। 

পরের দিন ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। একই সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ওই দিনই উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে র‌্যাব। 

এরপর গত ১৩ জুলাই অর্থ আত্মসাতের পৃথক দু'টি মামলায় সাহেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। আদালত সূত্র জানায়, সাইফুল্লাহ মাসুদ নামের একজন ব্যবসায়ী ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির হয়ে মো. সাহেদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে পৃথক দুটি মামলা করেন। একটি মামলায় এক কোটি টাকা ও অন্যটিতে ২ কোটি ৫৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। ওইদিনই  সাহেদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামেও একটি মামলা দায়ের হয়।