বিএসএমএমইউয়ে ত্রুটিপূর্ণ মাস্ক

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে শারমিন

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২০     আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

শারমিন জাহান      -ফাইল ছবি

শারমিন জাহান -ফাইল ছবি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নকল মাস্ক সরবরাহের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্ত্বাধিকারী শারমিন জাহানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ডিবি। এ সময় শারমিনের পক্ষে জামিনের আবেদন থাকলেও তা নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এদিকে রিমান্ডে শারমিন বিএসএমএমইউয়ের কাজ বাগিয়ে নিতে প্রভাব বিস্তারসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য দিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মিশু বিশ্বাস জানান, শারমিনের কাছ থেকে পাওয়া সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হলেও দুদিনের জিজ্ঞাসাবাদেই সব তথ্য পাওয়ায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

২৪ জুলাই রাতে রাজধানীর শাহবাগ থেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার (সাময়িক বরখাস্ত) শারমিন জাহানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর আগে ২৩ জুলাই তার বিরুদ্ধে মামলা করেন বিএসএমএমইউয়ের প্রক্টর মোজাফফর আহমেদ। শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলাটির তদন্ত করছে ডিবি।

তদন্ত সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই শারমিন তার দোষ স্বীকার করে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। এ কারণে আদালতে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল না। ফলে তার নতুন করে রিমান্ডও চাওয়া হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ত্রুটিপূর্ণ মাস্ক সরবরাহের কার্যক্রমে তার সঙ্গে জড়িত অনেকের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। এতে বিএসএমএমইউয়ের কয়েকজনেরও নামও রয়েছে। তাদের পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

এদিকে বিএসএমএমইউয়ে সরবরাহ করা মাস্কগুলো বিদেশ থেকে নয় বরং স্থানীয় বাজার থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও একটি সূত্রে তথ্য মিলেছে। তবে ডিবি বলছে, বিশেষজ্ঞদের মত ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলার সুযোগ নেই। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন শাখার সহকারি রেজিস্ট্রার শারমিন জাহানকে গত ২৬ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা ছুটিতে থাকার সময়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ব্যবসা করায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছে ঢাবি প্রশাসন।