ব্যবসায়ী আজিজ হত্যা: ২২ বছর পর রায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   

 আদালত প্রতিবেদক

রাজধানীর লালবাগের কাচ ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ চাকলাদারকে হত্যার দায়ে জয়নাল সরকার নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অপর আসামি রুস্তুম আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আসামি দু'জনই পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। আলামত নষ্ট করার দায়ে জয়নালকে অন্য একটি ধারায় আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি জয়নাল ও রুস্তুমকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অপরাধে সংশ্নিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুই আসামি জামাই ফারুক ও ইদ্রিসকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। ২২ বছর ধরে তারা এ মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, কাচ ব্যবসায়ী আজিজ ১৯৯৮ সালের ৫ মার্চ সকালে ঢাকার লালবাগ রোডের বাসা থেকে খুলনা যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। তাকে খুঁজে না পেয়ে ছোট ভাই বাচ্চু মিয়া সে সময় লালবাগ থানায় একটি জিডি করেন। এর ১২ দিন পর ১৭ মার্চ মাকসুদ ও আমানুলল্গাহ নামে দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অপহরণ মামলা করেন বাচ্চু। তদন্ত চলাকালে রূপসা নদী থেকে আজিজের মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধার করা হয়।

লালবাগ থানার তৎকালীন এসআই আবদুর রাকিব খান ২০০০ সালে সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের নির্দেশে আজিজকে খুন করা হয়। চার্জশিটভুক্ত সাত আসামির মধ্যে অন্য মামলায় ২০০৪ সালের ১০ মে এরশাদ শিকদারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অপর আসামি লস্কর মো. লিয়াকত বিচার চলাকালে মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

২০০০ সালেই এই মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটি দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল। স্থগিতাদেশ উঠে গেলে ২০১৭ সালে এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ১৯ সাক্ষীর মধ্যে ছয়জন ও রাজসাক্ষী হিসেবে নুরে আলমের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।