স্বাস্থ্যের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক, ২০ জনকে নোটিশ

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০     আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সিন্ডিকেট করে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের এই তালিকায় আছেন ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের স্ত্রীসহ মোট ২০ জন, যাদের মধ্যে কারো কারো নামে কাড়ি কাড়ি সম্পদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেউ কেউ সম্পদের মালিকানার দিক থেকে কেরানী আবজাল, গাড়ি চালক আবদুল মালেককেও ছাড়িয়ে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুদক সূত্রে সোমবার এসব তথ্য জানা গেছে।

দুদকের একটি সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে কেউ কেউ ছোট পদে ও সুবিধাজনক জায়গায় থেকে দুই হাতে লুটেছেন সরকারি অর্থ। কেউ কেউ স্ত্রীর নামে সম্পদ রেখেছেন। দুদকের অনুসন্ধানে তাদের আটজনের নামে অস্বাভাবিক সম্পদ পাওয়া গেছে। ওই আটজন স্ত্রীর মধ্যে একজন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ছোট পদে চাকরি করেন।

দুদক সূত্র জানায়, সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে ওই ২০ জনের বিরুদ্ধে। স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব চেয়ে তাদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষর করা ওইসব নোটিশে তাদেরকে যথা সময়ের মধ্যে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, অতি নগণ্য পদে থেকে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর উদাহরণ সৃষ্টি করছে। যে বেতনে তারা চাকরি করেন তাতে সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়ার কথা। সেখানে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়ে স্বচ্ছল জীবন-যাপন করছেন।

দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের তত্বাবধানে উপপরিচালক মো. সামছুল আলমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি অনুসন্ধান করছে। 

দুদকের অনুসন্ধান ও নজরদারিতে থাকা ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের আট জন স্ত্রীসহ ২১ জনকে তাদের সম্পদের উৎসের প্রমাণ দিতে হবে দুদককে। অভিযুক্তরা হলেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই শাখার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. মজিবুল হক মুন্সি, তার স্ত্রী রিফাত আক্তার, ইপিআই শাখার ডাটা এন্ট্রি অপারেটর তোফায়েল আহমেদ ভূইয়া, তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার, আলোচিত দুর্নীতিবাজ ও অধিদপ্তরের গাড়ি চালক মো. আবদুল মালেক, তার স্ত্রী  নার্গিস বেগম, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ওবাইদুর রহমান, তার স্ত্রী বিলকিচ রহমান, ওবাইদুর রহমানের আরেক স্ত্রী ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের স্টাফ নার্স মোসা. রেহেনা আক্তার,  রংপুর মেডিকের কলেজ হাসপাতালের হিসাব রক্ষক মো. ইমদাদুল হক, তার স্ত্রী মোছা. উম্মে রুমান ফেন্সী,  জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও  হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. মাহমুদুজ্জামান, তার স্ত্রী মোছা. সাবিনা ইয়াছমিন, গাজীপুরের শহীদ তাজ উদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টের অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম, হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার অফিস সহকারী কামরুল হাসান, তার স্ত্রী ডা. উম্মে হাবিবা, গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের স্টেনোগ্রাফার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. সাইপুল ইসলাম, বরিশাল বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) এর কার্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান (নন মেডিকেল) বর্তমানে সহকারী প্রধান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মীর রায়হান আলী ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাব রক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন।

জানা গেছে,  স্বনামে-বেনামে থাকা যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী নোটিশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছকে দাখিল করতে ওই ২০ জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এর আগে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়ি চালক আবদুল মালেককে রোববার গ্রেপ্তার করে র্যা ব। মালেককে গ্রেপ্তারের আগে থেকেই দুদক তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছিল।

সোমবার দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আবদুল মালেক ও তার স্ত্রীর নামে নামে ঢাকায় সাতটি প্লট, এর মধ্যে চারটি প্লটে পাকা বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর মালেক ও তার স্ত্রীর কাছে সম্পদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সচিব আরও বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী সিন্ডিকেট করে দুর্নীতি করছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে দুদক একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করে। ইতোমধ্যে মালেকসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও মামলা পরতর্বী তদন্ত চলছে।